বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস কেন পালন হয়? এ বছরের থিম কি? এক নজরে জেনে নিন সবকিছু
বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস কেন পালন হয়? এ বছরের থিম কি? এক নজরে জেনে নিন সবকিছু
শরীরের অন্যান্য অঙ্গের সুস্থ থাকার পাশাপাশি আমাদের মস্তিষ্কেরও সুস্থ থাকা খুবই জরুরি। আর তাই মস্তিষ্কের সুস্থতার সচেতনতা ও ব্যধি সম্পর্কে অবত করতে প্রত্যেক বছর ২২ জুলাই বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস পালন করা হয়। এই বছর ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ নিউরোলজি (ডব্লিউএফএন) ও এমএস ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন (এমএসআইএফ) এই উদ্যোগ নিয়েছে যে স্নায়ুর রোগ মাল্টিপল স্কলেরোসিস (এমএস) নিয়ে প্রচার করার, এটি একটি স্নায়বিক রোগ যার প্রভাবগুলি জ্ঞানীয় দুর্বলতা থেকে শুরু করে উল্লেখযোগ্য শারীরিক অক্ষমতা পর্যন্ত।
২০১৪ সালে প্রথম এই দিবস পালন করা শুরু হয় এবং এই বছর এটি অষ্টম বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস। এ বছরের প্রচারের দুই অংশ ডব্লিউএফএন ও এমএসআইএফ এমএসে আক্রান্ত, তাঁদের পরিবারের সদস্য ও স্বাস্থ বিশেষজ্ঞ এবং জন সাধারণের কাছে এই দিবসে যোগ দেওয়ার ও মাল্টিপল স্কলেরোসিস সম্বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আর্জি জানিয়েছে। ডব্লিউএফএনের প্রধান টিসা উইজরন্তে এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে প্রত্যেক পাঁচ মিনিটে বিশ্বের কেউ না কেউ এই মাল্টিপল স্কলেরোসিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এই রোগ থেকে সকলকে বাঁচাতে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা ও শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

থিম
এ বছরের বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবসের থিম হল, 'স্টপ মাল্টিপল স্কলেরোসিস', এই রোগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা চলছে। এই বছর, ডব্লিউএফএন এবং এমএসআইএফ আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ নিউরোলজি, ইউরোপীয় অ্যাকাডেমি নিউরোলজি এবং ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের থেকে সমর্থন পেয়েছে।

ইতিহাস
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে ডব্লিউসিএন কাউন্সিল অফ ডেলিগেটস অ্যাসেমব্লিতে জনসচেতনতা ও অ্যাডভোকেসি কমিটি প্রস্তাব করেছিল যে ২২ জুলাই বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবস হিসাবে পালিত হোক। এই প্রস্তাবটি পরের বছরই একটি উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং বাস্তবায়ন পেয়েছে।

এই দিনের তাৎপর্য
ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ নিউরোলজির পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের ২৮ লক্ষের বেশি মানুষ এই মাল্টিপল স্কলেরোসিসে আক্রান্ত। বিশ্বের একাধিক অংশে এই রোগের কোনও চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না এবং তাই, বিশ্ব মস্তিষ্ক দিবসের মতো দিনগুলি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ, যা এমএসের জন্য সচেতনতা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

মাল্টিপল স্কলেরোসিস
মাল্টিপল স্কলেরোসিস সংক্ষেপে এমএস হলো একধরনের ডি-মায়েলিনেটিং রোগ, যাতে মানব মস্তিষ্কে ও স্নায়ুরজ্জুতে বিদ্যমান স্নায়ুকোষগুলোকে আচ্ছাদনকারী অন্তরক আবরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতির কারণে স্নায়ুতন্ত্রের অংশবিশেষের অন্য অংশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ফলশ্রূতিতে, বৃহৎ পরিসরে বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক উপসর্গের সৃষ্টি হয়। এসব উপসর্গের মধ্যে সাধারণত শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং কখনও কখনও মানসিক সমস্যাও দেখা দেয়। এ রোগের কারণ সুস্পষ্ট নয়। তবে রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থায় আক্রমণ অথবা মায়েলিন উৎপন্নকারী কোষগুলোর বিকলতাকেই এ রোগের অন্তর্নিহিত কারণ বলে মনে করা হয়ে থাকে।












Click it and Unblock the Notifications