আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে হামলার মুখে কানহাইয়া লালের হত্যাকারীরা, ছিঁড়ে দেওয়া হল জামা
আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে জনতার আক্রমণের মুখে পড়ল দর্জি কানহাইয়া লালের হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুষ্কৃতিরা। নৃশংস হত্যাকাণ্ডেরর সঙ্গে জড়িত ওই ব্যক্তিদের জয়পুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেখানেই তারা জনতার হামলার মুখে পড়ে বলে জানা গিয়েছে।

এদিন জেলের বাইরে বিশাল জনতা দাঁড়িয়ে ছিল। দুই খুনিকে ভ্যানে তোলা হচ্ছিল। তখনই আক্রমণ করে উত্তেজিত জনতা। জয়পুর আদালতের বাইরে একদল জনতা তাদের উপর হামলা করে এবং তাদের কাপড় ছিঁড়ে দেয়। পুলিশ দ্রুত তাদের একটি ভ্যানে তুলে দেয় তাই বড় ধরনের কোনও ঘটনা এড়ানো যায়।
কানহাইয়া লালকে এই হত্যাকাণ্ডে যারা ভিডিও করেছিল তাদের মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়। রিয়াজ আখতারি এবং গোস মহম্মদ সেই ভিডিও ছাড়া আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করে যাতে তারা হত্যার বিষয়ে বড়াই করে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করার হুমকিও দেয়। হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর আখতারি ও মহম্মদকে গ্রেপ্তার করে। কানহাইয়ার খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত আরও দুজনকেও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।
চার অভিযুক্তকে আজ জয়পুরের একটি জাতীয় তদন্ত সংস্থা বা এনআইএ'র আদালতে পেশ করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ভারী পুলিশি ব্যবস্থা ছিল এবং বেশ কয়েকজন আইনজীবী "পাকিস্তান মুর্দাবাদ" এবং "কানহাইয়া কে হাতিয়ারো কো ফাঁসি দো" অর্থাৎ কানহাইয়ার খুনিদের মৃত্যুদণ্ড দাও স্লোগানও দেন। তাঁর মাঝেই ঘটে ওই ঘটনা।
আদালত আজ ১২ জুলাই পর্যন্ত এনআইএ-র কাছে খুনিদের হেফাজত মঞ্জুর করেছে। ঘটনা হল হত্যার কয়েক দিন আগে, কানহাইয়া লাল স্থানীয় পুলিশকে বলেছিলেন যে তিনি তার অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য হুমকি পেয়েছিলেন, কারণ তিনি নবী মহম্মদ সম্পর্কে বিজেপি নেতা নূপুর শর্মার মন্তব্যকে "সমর্থন" করেছিলেন।
এদিকে নূপুর শর্মার সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে প্রাণ গিয়েছে ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ এই বিষয়ে পুলিশ এটাই সন্দেহ করছিল, যে ওই ব্যক্তিকে নূপুর শর্মার সমর্থনে পোস্ট করার জন্যই খুন করা হয়েছে। তবে সেটা সত্যিই হয়েছে কি না নাকি অন্য কারণ রয়েছে এর পিছনে তা দেখার জন্য এর তদন্ত ভার নিয়েছে এনআইএ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এমনটাই জানিয়েছে।
স্থানীয় বিজেপি নেতারা উমেশ প্রহ্লাদরাও কোলহেকে হত্যার অভিযোগে পুলিশের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন, অভিযোগ করেছেন যে তিনি "প্রতিশোধ নিতে এবং একটি উদাহরণ স্থাপন করতে" হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশ বলেছে যে তারা বিজেপি নেতাদের কাছ থেকে চিঠি পেয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে। একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার সাথে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পুলিশ জানিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications