বিহারের রাজনৈতিক সঙ্কটে নীতীশ কুমারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
টালমাটাল পড়শি রাজ্য বিহারের পরিস্থিতি। নীতীশ কুমার, তেজস্বী যাদব মিলিঝুলি সরকারের দাম্পত্য কি এখানেই ইতি? নীতীশ কি ফের ফিরে যাবেন পুরনো সঙ্গী বিজেপির কাছে? এনডিএ শিবিরে তিনি যোগ দেবেন? একাধিক প্রশ্ন এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে৷
শোনা যাচ্ছে বিহারে নতুন সরকার গঠিত হতে পারে৷ মহাজোট সেখানে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে। নতুন ক্ষেত্রে অবশ্যই বিজেপি থাকবে অন্যতম শরিক। বিজেপিও জল মাপতে শুরু করে দিয়েছে। অঙ্ক কষছেন দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতারাও।

শোনা যাচ্ছে, নতুন জোট হলেও নীতীশ কুমারই মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন। উপ মুখ্যমন্ত্রী বাছাই হবে সেক্ষেত্রে। সরকার ফেলে নতুন করে ভোটের পক্ষপাতী নয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ২০২২ সালে বিজেপির সঙ্গে নীতিশ কুমার সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তেজস্বী যাদবের হাত ধরে বিহারে সরকার ধরে রেখেছিলেন। সেই নীতিশই আবার ডিগবাজি খাচ্ছেন!
এক্ষেত্রে ১০ টি বিষয় বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
১. জাতীয় রাজনীতিতে নীতিশ কুমার যেন বর্ণময় চরিত্র। তিনি গত ১০ বছরে একাধিক বার জোটসঙ্গী বদলেছে। বিজেপি, কংগ্রেসের একদা জোটসঙ্গী ছিলেন তিনি৷ বিহারে লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি দলের জোটসঙ্গীও ছিলেন তিনি৷
সেইসময় বিহারে রাজনৈতিক ডামাডোল। লালুকে সরিয়ে বিজেপির হাত ধরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হন নীতিশ। এরপর ২০২২ সালে বিজেপি সঙ্গ ত্যাগ করে লালুপুত্র তেজস্বী যাদব ও অন্যান্যদের সঙ্গে মহাজোট। এরপর ইন্ডিয়া জোটেও তিনি অন্যতম মুখ। শোনা যাচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রিত্ব পদপ্রার্থী হিসেবে তিনিও ছিলেন।
২. বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কার্পুরী ঠাকুরকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারতরত্ন দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে নিয়ে এমন জল্পনা হয়েছিল। তিনি একজন আইকনিক সমাজতান্ত্রিক নেতা ছিলেন। ১৯৭০ এর দশকে দুবার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। রাজ্যের বিতর্কিত অ্যালকোহল নিষিদ্ধ নীতি বাস্তবায়নের জন্য কৃতিত্ব পান তিনি। জনগণের নেতা হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন।
৩. নীতিশ কুমার প্রজাতন্ত্র দিবসে তেজস্বী যাদব ছাড়াই বিহারের রাজ্যপালের বাসভবনে গিয়েছিলেন। জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) মধ্যে বিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তখনই।
৪. নীতিশ কুমারের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা সুশীল কুমার মোদীর রহস্যময় বক্তব্য আরও পরিস্থিতিকে ঘোরালো করেছে। সুশীল বলেন, রাজনীতিতে কোনও দরজা বন্ধ থাকে না। প্রয়োজনে দরজা খোলা যেতে পারে। তাহলে কি বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাবেন বিহারের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী?
৫. ইন্ডিয়া জোটের ১৩ জানুয়ারির বৈঠকও এখানে উল্লেখযোগ্য। সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি নীতিশ কুমারের নাম আহ্বায়ক হিসাবে প্রস্তাব করেন। লালুপ্রসাদ যাদব এবং শরদ পাওয়ার সহ প্রায় সমস্ত নেতার তাতে সমর্থন ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিষয়ে আপত্তি ছিল। রাহুল গান্ধী জানিয়েছিলেন, এই সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
৬. নীতিশ কুমার ইন্ডিয়া জোটকে টাটা করে বিদায় জানানোর অপেক্ষা। এই বিষয়টি চাউড় হতে বিহারের রাজ্য রাজনীতিও রীতিমতো সরগরম।
৭. বিহারের প্রশাসনিক পদেও গত শুক্রবার বড়সড় রদবদল হয়েছে। বিহার সরকার শুক্রবার ৭৯ জন আইপিএস ও ৪৫ জন বিএএস কর্মকর্তাকে বদলি করেছে।
৮. বিজেপির পক্ষ থেকে একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিহারের পরিস্থিতি ও লোকসভা ভোটের পরিস্থিতি নিয়েই এই বৈঠক। তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনও কথা বলা হচ্ছে না।
৯. কংগ্রেস ও আরজেডি তাদের বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছে। তাহলে কি কংগ্রেস ও আরজেডি বিহারে হাত মেলাবে? প্রশ্ন উঠছে। তবে কংগ্রেস দাবি করছে, বিহারে রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা আছে। এই বৈঠক সেই কারণেই।
১০. রবিবার বিহারের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ, আগামী কাল রবিবার বেলা ১০টায় বিধানসভা দলের অধিবেশন ডেকেছেন নীতিশ কুমার। সেখানেই আগামীর পদক্ষেপ জানা যাবে।












Click it and Unblock the Notifications