ঠিক কী ঘটেছিল হনুমানজয়ন্তীতে জাহাঙ্গীরপুরীতে ? দিল্লির সংঘর্ষের ঘটনা একনজরে
ঠিক কী ঘটেছিল হনুমানজয়ন্তীতে জাহাঙ্গীরপুরীতে ? উত্তর-পূর্ব দিল্লির সংঘর্ষের ঘটনা একনজরে
হনুমান জয়ন্তীকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কান্ড দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরীতে। এলাকার বাসিন্দাদের কথায় মসজিদ পেরিয়ে শোভাযাত্রা যেতে হয়। মসজিদ থেকে ৫০ মিটার দূরে রয়েছে মন্দির। শোভাযাত্রা প্রতিবারের মতই একই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎই মসজিদের সামনে আসতেই শুরু হয় পাথর ছোড়া। হুুলুস্থুল পড়ে যায় গোটা এলাকায়। শোভাযাত্রা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে এদিকে ওদিকে ছোটাছুটি শুরু হয়ে যায়। তারপরেই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাতের চেহারা নেয়।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ। পাথর ছোড়া শুরু হয়েছিল হনুমানজয়ন্তীর শোভাযাত্রায়। জাহাঙ্গীরপুরীর সি ব্লকের এক দোকানি জানিয়েছেন কয়েকজন চোখের নিমেষে অশান্তি বড় আকার ধারন করে। হঠাৎ করেই কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর দোকানে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দোকানে তারা রীতিমত লুঠ চালায়। টাকা পয়সা ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়। ততক্ষণে অশান্তি চরমে পৌঁছে গিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় হনুমানজয়ন্তীর সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে এক দল তরোয়াল নিয়ে রাস্তায় ছুটছে আরেক দল পাথর ছুরছে। আবার কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে হাতে তরোয়াল নিয়ে আল্লা হু আকবর বলে স্লোগান দিচ্ছেন একদল। মসজিদ থেকে ৫০ মিটার দূরে সেই জায়গা যেখানে দাঁড়িয়ে এরা আল্লা হু আকবর বলে স্লোগান দিচ্ছিেলন। জাহাঙ্গীরপুরীর এই সি ব্লক এলাকাতেই মূলত সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, যে হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রা চলাকালীন পাথর ছোড়া হয়েছিল। এলাকার মুসলিম বাসিন্দারা জানিয়েছেন হিন্দুরা শোভাযাত্রা করে আসার সময় অশান্তি তৈরি করে। তারাই প্রথম সংঘর্ষ বাধায়। এদিকে আবার হিন্দু বাসিন্দারা দাবি করেছেন তাঁদের শোভা যাত্রায় মুসলিমরা পাথর ছুরে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করেছিল। এবং স্লোগান দিয়ে অশান্তি বাধানোয় উস্কানি দিতে থাকে তারা। আবার অনেকেই দাবি করেছেন বাইরে থেকে কিছু লোক এসে অশান্তি বাধিয়েছে। যদিও এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কড়া নির্দেশ দিয়েছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। গোটা এলাকায় পুলিশি পেট্রোিং বাড়ানো হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাঁরা সংঘর্ষকারীদের চিহ্নিত করছে।
এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছে ১৩টি বিরোধী দল। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়া সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন রাজধানীর শান্তি বজায় রাখতে অক্ষম মোদী সরকার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০২০ সালে মোদী দিল্লিতে হিংসার ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল আপ নেতার।












Click it and Unblock the Notifications