Weather News: বর্ষাকালের বৃষ্টি, নাকি প্রাক বর্ষা না বর্ষার পরবর্তী বৃষ্টি? আবহাওয়া দফতর কীভাবে বুঝতে পারে
পয়লা জুনের পরে আরও ছয় দিন অতিক্রান্ত হতে চলেছে। কিন্তু দেশের স্থলভাগে এখনও বর্ষা প্রবেশ করেনি। এবার বর্ষার আগমনে দেরির কথা আগে থেকেই জানিয়েছিল আবহাওয়া দফতর (Weather News)। বেসরকারি এক আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছেন কেরলের উপকূলে বর্ষার প্রবেশ হতে পারে ৮ কিংবা ৯ জুন। তবে তা দুর্বল হতে চলেছে বলেও জানানো হয়েছে।
ভারতে বর্ষাকাল হল জুন, জুলাই, অগাস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাস। এই চার মাসে সারা দেশেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হয়। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে হওয়া বৃষ্টি দেশে বৃষ্টির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করে থাকে। সাধারণভাবে মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে যে বৃষ্টি হয়, তাকে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি এং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে হওয়া বৃষ্টিকে বর্ষার পরবর্তী বৃষ্টি বলা হয়।

এবছর ইতিমধ্যে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কিন্তু কেরলে তা এখনও এসে পৌঁছয়নি। এই বর্ষা ঘোষণার কিছু মানদণ্ড রয়েছে। তারই ভিত্তিতে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু কিংবা মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করেছে কিনা তা বলে আবহাওয়া দফতর।
দেশের বিভিন্ন অংশের মতো কেরল ও লাক্ষাদ্বীপে আবহাওয়া দফতরের ((Weather News) ১৪ টি স্টেশন রয়েছে। ১০ মের পর থেকে যদি এইসব স্টেশনগুলিতে টানা দুদিন কমপক্ষে ২.৫ মিমি বৃষ্টি হয়, তাহলে ধরে নেওয়া হয় দেশে বর্ষা প্রবেশ করেছে। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় আবহাওয়া দফতরের স্টেশন রয়েছে। সেখানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

সাধারণভাবে মৌসুমী বায়ুর জন্য পশ্চিমী বিক্ষিপ্ত বায়ুর চাপ ৬০০ হেক্টোপাস্কেল হওয়া উচিত। সহজ ভাষায় কম উচ্চতায় বাতাস বইতে হবে। এছাড়াও এর দিক হতে হবে বিষুব রেখার ১০ ডিগ্রি উত্তর এবং ৫৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৮০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। পশ্চিমী ঝঞ্ঝাও বর্ষাকে দেশের দিকে টেনে নিয়ে আসে।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু ঘোষণায় বর্তমানে উপগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। সেখান থেকে পৃথিবীর পৃষ্ঠ, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল থেকে কতটা তাপ নির্গত হচ্ছে তাও দেখা হয়। প্রতি বর্গমিটারে সেই তাপ ২০০ ওয়াটের কম হওয়া উচিত। যা অনুসরণ করে থাকে আবহাওয়া (Weather News) দফতর।

দেশে বিলম্বিত বর্ষা স্বাভাবিক। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে যেমন বর্ষা যথাক্রমে ৩০ মে ও ২৯ মে প্রবেস করেছিল, আবার ২০১৯-এ বর্ষা প্রবেশ করেছিল ৬ জুন। অন্যদিকে ২০২০ সালে বর্ষা স্বাভাবিক সময়েই প্রবেশ করেছিল। ২০২২-এ কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছিল ২৯ মে।
তবে বিলম্বিত বর্ষা এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও প্রভাব ফেলেনি। বর্ষা তাড়াতাড়ি এলে বেশি বৃষ্টি হবে, আর দেরি হলে কম বৃষ্টি হবে, তেমনটা নয়। গত বছর কেরলে বর্ষা প্রবেশ করেছিল ২৯ জুন। কিন্তু সারা দেশে জুন মাসে স্বাভাবিকের থেকে ৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল। অন্যদিকে ২০২১-এ ৩ জুন বর্ষা প্রবেশ করেছিল। সেই বছর জুনে স্বাভাবিকের থেকে ৯.৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications