Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ইন্ডিগো বিপর্যয়ের আগে কি উপেক্ষিত হয়েছিল সংসদের সতর্কতা? পাইলট সংকটে টালমাটাল ভারতের বিমান ব্যবস্থা

গোটা দেশে ইন্ডিগোর একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হয়ে হাজার হাজার যাত্রী যখন চরম দুর্ভোগে, ঠিক তখনই সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কয়েক মাস আগেই ভারতের বিমান পরিবহণ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছিল সংসদের একটি স্থায়ী কমিটি। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে গোটা এভিয়েশন সেক্টর যে ভয়ংকর সংকটে পড়তে পারে, সেই সতর্কবার্তাই এবার বাস্তবে মিলছে।

গত অগাস্টে পরিবহণ, পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল পাইলটদের কাজের সময়সীমা সংক্রান্ত নিয়ম (ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন বা এফডিটিএল) উপেক্ষা করে বিমানের সংখ্যা বাড়ানো মানেই ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাওয়া। বিমান সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের নিয়োগ না হলে গোটা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিল কমিটি।

সংসদে পেশ করা ওই রিপোর্টে জানানো হয়, দেশের বিমান বহর দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু পাইলট ও এটিসি কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে অনেক ধীরে। এর ফলস্বরূপ তৈরি হচ্ছে এক "সংকটজনক সন্ধিক্ষণ" যেখানে পাইলটদের ক্লান্তি, অতিরিক্ত চাপের মুখে থাকা এটিসি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতি মিলিয়ে বিমান নিরাপত্তা বড় প্রশ্নের মুখে।

কমিটির মতে, পাইলটদের উপর কাজের চাপ বাড়লে রানওয়েতে দুর্ঘটনা, মাটিতে বিমান সংঘর্ষ কিংবা আকাশে বিমানের মুখোমুখি হওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই ডিজিসিএ এর উচিত কোনওভাবেই এফডিটিএল নিয়ম এড়িয়ে যেতে না দেওয়া ও কড়াভাবে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা এর নেতৃত্বাধীন এই কমিটি খুব শীঘ্রই ইন্ডিগোর সাম্প্রতিক গণহারে ফ্লাইট বাতিল নিয়ে পর্যালোচনায় বসতে চলেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নতুন করে সংশোধিত পাইলট ক্লান্তি নিয়ন্ত্রণ বিধি পুরোপুরি কার্যকর করতে না পারার ফলেই ইন্ডিগো গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করছে। রোস্টার পুনর্গঠনে ব্যর্থ হওয়ায় সংস্থাটিতে তীব্র জনবলের সংকট দেখা দিয়েছে।

কমিটি আরও আগেই ডিজিসিএ কে প্রশ্ন তুলতে বলেছিল নতুন এফডিটিএল নিয়ম ও মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকা বাস্তবে পাইলটদের চাপ ও ক্লান্তি কমাতে কতটা কার্যকর হচ্ছে? পাশাপাশি এটিসিদের জন্য জাতীয় স্তরে একটি 'ফ্যাটিগ রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম' চালু ও দীর্ঘ কর্মসময় মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ জনবল নিরীক্ষার সুপারিশও করা হয়।

রিপোর্টে ভবিষ্যৎ চাহিদার কথাও উঠে আসে। দ্রুতগতিতে বিমান বহর বাড়লে আগামী কয়েক বছরে হাজার হাজার নতুন পাইলট প্রয়োজন হবে। ফলে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও স্পষ্ট নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও ২০২৪ থেকে ২৫ সালে পাঁচটি নতুন ফ্লাইং ট্রেনিং অর্গানাইজেশন (এফটিও) অনুমোদন দিয়ে সংখ্যা ৩৯ এ পৌঁছেছে এবং প্রশিক্ষণ বিমানের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫০, তবু আরও বিস্তারের প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছে কমিটি।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ডিজিসিএ নিজেই চরম জনবল সংকটে ভুগছে। অনুমোদিত ১,০৬৩টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫৫৩ জন। প্রায় অর্ধেক পদই শূন্য, অথচ ঘরোয়া বিমান যাত্রীর সংখ্যা প্রতিদিন রেকর্ড ছুঁছে। এই অবস্থাকে বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে "চরম কাঠামোগত দুর্বলতা" বলে চিহ্নিত করেছে কমিটি।

ইন্ডিগোর বর্তমান সংকটের প্রেক্ষিতে সংসদীয় কমিটির সেই আগাম সতর্কতাই যেন আজ বাস্তব হয়ে ধরা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী জনবল পরিকল্পনা, কঠোর নিয়ম মানা ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা যে বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+