নারী শক্তিতে গতি আনল ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’, আজ প্রথমবার ট্রেন ছুটল মহিলা ক্রু মেম্বারদের নিয়ে
ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা ঘটল আন্তর্জাতিক নারী দিবসে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেস প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ মহিলা ক্রু দ্বারা পরিচালিত হল। ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন, ট্রেন নম্বর ২২২২৩ সিএসএমটি - সাইনগর শিরডি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (সিএসএমটি) থেকে সকাল ৬.২০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে।
এই ঐতিহাসিক ট্রেনটি এশিয়ার প্রথম মহিলা লোকো পাইলট, সুরেখা যাদব এবং সহকারী লোকো পাইলট সঙ্গীতা কুমারী পরিচালনা করেন। ট্রেন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন শ্বেতা ঘোন।

ছবি সৌজন্য- ANI/X
ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক দলও ছিল সম্পূর্ণ মহিলা, যেখানে প্রধান টিকিট পরীক্ষক হিসেবে ছিলেন অনুষ্কা কেপি ও এমজে রাজপুত, এবং সিনিয়র টিকিট পরীক্ষক হিসেবে ছিলেন সারিকা ওঝা, সুবর্ণা পাস্তে, কবিতা মারাল ও মনীষা রাম। এছাড়া, ট্রেন ম্যানেজার থেকে ক্যাটারিং কর্মী-সব দায়িত্বই নারীদের হাতে ছিল এদিন।
ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগকে "নারীর ক্ষমতায়নের এক মাইলফলক" হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা বলেছে, এটি রেল খাতে লিঙ্গ সমতার প্রতি রেলের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ এবং নারীদের আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গতি, দক্ষতা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্য পরিচিত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ইতিমধ্যেই ভারতীয় রেলে বিপ্লব এনেছে। এবার এই ঐতিহাসিক যাত্রার মাধ্যমে লিঙ্গগত বাধাও ভেঙে দেওয়া হল এদিন।
প্রতি বছর ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা হয়। এটি নারীদের নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, অধিকার এবং সমান সুযোগের জন্য সংগ্রামের স্বীকৃতি দেয়। ২০২৫ সালের নারী দিবসের মূল বার্তা "দ্রুত পদক্ষেপ"-যা লিঙ্গ সমতার অগ্রগতি দ্রুততর করার আহ্বান জানায়।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান গতিতে চললে পূর্ণ লিঙ্গ সমতা অর্জনে ২১৫৮ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তাই এই ধরনের উদ্যোগ শুধু প্রতীকী নয়, বাস্তব পরিবর্তনের পথও খুলে দেয়। নারীরা প্রতিদিন বাধা ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে, আর বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের এই ঐতিহাসিক যাত্রা সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।












Click it and Unblock the Notifications