অর্থনীতির হাল ফেরাতে অসংগঠিত কর্মীদের সর্বাগ্রে চিহ্নিতকরণ প্রয়োজন, পরামর্শ মহম্মদ ইউনুসের
অর্থনীতির হাল ফেরাতে অসংগঠিত কর্মীদের সর্বাগ্রে চিহ্নিতকরণ প্রয়োজন, পরামর্শ মোহাম্মদ ইউনিসের
চলতি বছরে মহামারীর জেরে দেশীয় অর্থনীতি কার্যতই হেলে পড়েছে৷ দীর্ঘ ৪ মাসের উপর বন্ধ রেলের চাকা, বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মী ছাটাই, কারখানা বন্ধ তো লেগেই আছে। এইসমস্ত সংগঠিত ক্ষেত্র অবশ্যই অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কিন্তু, এরবাইরেও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে নিযুক্ত রয়েছেন দেশের একটি বিরাট অংশ অথচ অর্থনীতির নির্ণায়ক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়না। এদিন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথোপকথনের সময় এই ধরণের কর্মীদের স্বীকৃতির পক্ষে সওয়াল করলেন নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী মোহাম্মদ ইউনুস ।

"অসংগঠিত ক্ষেত্রে নিযুক্ত কর্মীদের চিহ্নিত করতে হবে" পরামর্শ ইউনিসের
মোহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় ইউনূস জানান, "আমাদের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো যে কতটা ভুলভাবে নির্মিত, সেটা এই মহামারীকালে আরও স্পষ্ট হচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট দারিদ্রের উপর একটি বিরাট প্রভাব ফেলবে। আমরা কেবল অর্থনীতি বিচার করি সংগঠিত ক্ষেত্র দিয়ে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের আমরা অর্থনীতির অংশ হিসেবে ধরিনা। এটি ভুল"। এই প্রসঙ্গে ইউনুসের পরামর্শ এই অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের চিহ্নিত করে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই দেশীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করা সম্ভব।

গ্রামীণ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার জন্য নোবেল পুরষ্কার জেতেন ইউনুস
গরিবী দূরীকরণ নিয়ে প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিলেন মোহাম্মদ। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালে এই কাজের জন্য তিনি নোবেল পুরষ্কার পান। ঋণ একটি মৌলিক মানবাধিকার। সেই কথা মাথায় রেখেই তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্রদের উপযুক্ত সময়ে ঋণ প্রদান করে তাদের কিছু আর্থিক নীতি শিখিয়ে দেওয়া, যাতে তারাই নিজেদের চেষ্টায় গরিবী কাটিয়ে উঠতে পারে।

অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের অর্থনীতির অংশ হিসেবে ধরতে হবে, মত ইউনুসের
রাহুলের অর্থনৈতিক সংকটে দারিদ্রের প্রভাব সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে ইউনুস জানান," অভিবাসী শ্রমিক, আমাদের জন্য যারা কাজ করছেন, রান্না করছেন, নিরাপত্তা কর্মী, দারওয়ান,আয়া তাদের আমরা আগে থেকেই চিনতাম। অথচ তারাই হঠাৎ হাজার হাজার মাইল পথ পেরিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেন। কারণ একটাই, শহর গুলিতে তাদের এখান কিছুই নেই, এখানে জীবন নেই,বেঁচে থাকার অর্থ নেই। এদের চিহ্নিত করে অর্থনীতির অংশ হিসেবে ধরতে হবে। মহিলাদেরও ঋণ দিতে হবে। কারণ তাদের কাছে মৌলিক উপাদান রয়েছে এবং তারা কীভাবে তাদের জীবনের জন্য লড়াই করতে জানে।

দেশীয় অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত রাহুল
কেবল মোহাম্মদ ইউনুস নয়। গত চার মাসে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী নোবেলজয়ী অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহামারী বিশেষজ্ঞ জোহান গিসিকে, হার্ভার্ডের কেনেডি স্কুলের অধ্যাপক নিকোলাস বার্নস, আরবিআইয়ের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন এবং ভারতীয় শিল্পপতি রাজীব বাজাজের সাথেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications