ত্রিপুরা তৃণমূলের সভাপতি পদে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি! নির্বাচনের মুখে গুরুদায়িত্ব
ত্রিপুরা তৃণমূলের সভাপতি পদে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি! নির্বাচনের মুখে গুরুদায়িত্ব
ত্রিপুরা তৃণমূল বেছে নিল নতুন রাজ্য সভাপতি। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল গুরুদায়িত্ব দিল প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি পীযুষকান্তি বিশ্বাসকে। সুবল ভৌমিককে রাজ্য সভাপতি পদ থেকে অপসারিত করার পর থেকেই সভাপতি-হীন রাজ্য ইউনিট চলছিল তৃণমূলে। সাড়ে তিনমাস পর সুবল ভৌমিকের স্থলাভিষিক্ত হলেন পীযুকান্তি বিশ্বাস। অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুস্মিতা দেব।

কংগ্রেসকে ভেঙেই নয়া সভাপতি চয়ন
এতদিন ত্রিপুরার ভিনরাজ্যের দুই পর্যবেক্ষকের উপরই ত্রিপুরা ইউনিটের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছিল তৃণমূল। এই অবস্থায় ত্রিপুরা তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে উঠে আসছে রাজ পরিবার ঘনিষ্ঠ নেতার নাম। সুবল ভৌমিকের প্রস্থানের পথ ধরে আরও এক প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির দিকে চোখ ছিল তৃণমূলের। সেই কংগ্রেসকে ভেঙেই নয়া সভাপতি বেছে নিল তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের নয়া সভাপতি মনোনীত পীযুষ
ত্রিপুরায় নতুন ইউনিট গড়ার পর সুবল ভৌমিককে প্রথম রাজ্য সভাপতির করা হয়েছিল। তাঁর বিজেপি-যোগের সম্ভাবনা তৈরি হতে তাঁকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অপসারিত করা হয়। যদিও তিনি বিজেপিতে কল্কে না পেয়ে ফের তৃণমূলেই ফিরে আসেন। তাঁর অপসারণের পর থেকেই ত্রিপুরা রাজ্য রাজনীতিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছিল তৃণমূলের নয়া সভাপতি হিসেবে পীযুষকান্তি বিশ্বাসের নাম।

প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির উপরই ভরসা
পীযুষকান্তি বিশ্বাস ত্রিপুরা রাজ পরিবার ঘনিষ্ঠ নেতা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর তিনি দলে কোণঠাসা ছিলেন। তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি কর্তৃত্ব তুলে নিতে পারেন বলে জল্পনা চলছিল অনেকদিন ধরেই। শেষে তাঁর উপরই রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করল তৃণমূল। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতির উপরই তৃণমূল ভরসা রাখল।

কংগ্রেসকে ভেঙেই দলের বিস্তার করছে তৃণমূল
পীযুষকান্তি বিশ্বাসকে ত্রিপুরা তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি ত্রিপুরা তৃণমূলে এমন কেউ নেই যিনি সুবল ভৌমিকের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন? তাই বাধ্য হয়েই কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে সভাপতি করতে হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না ত্রিপুরা তৃণমূলের! এখন পর্যন্ত তৃণমূলকে দেখা যাচ্ছে কংগ্রেসকে ভেঙেই দলের বিস্তার করতে। বিজেপির গায়ে সেভাবে আঁচড় কাটতে পারেনি তৃণমূল।

কেন পীযুষ বিশ্বাসকেই বেছে নিল তৃণমূল
পীযুষ বিশ্বাস আগেই কংগ্রেস ছেড়েছিলেন। সুবল ভৌমিকের অপসারণের পর পীযুষ বিশ্বাসকে তৃণমূলে ভেড়াতে চাইছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুস্মিতা দেবরা। পীযুষ বিশ্বাস প্রাক্তন কংগ্রেসি। এই মুহূর্তে যাঁরা তৃণমূলে রয়েছেন, তাঁদের সবাইকে তিনি চেনেন। ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে তাঁর হাতে পড়লে তৃণমূল ফের চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। এটাই ছিল তাঁদের মোটিভ।

পীযুষকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ায় সুবিধা তৃণমূলের
পীযুষ বিশ্বাস ২০২১-এর অক্টোবরে কংগ্রেস ছেড়ে ত্রিপুরা ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট তৈরি করেছিলেন। সেই পীযুষকে তৃণমূলে এনে সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে তাঁর তৈরি ফ্রন্ট সদস্যদেরও তৃণমূল নিজেদের দিকে নিয়ে আসতে সমর্থ হল। তারপর তিনি ত্রিপুরা রাজ পরিবারের ঘনিষ্ঠ। তাঁকে দায়িত্ব দিলেন প্রদ্যোৎ মাণিক্য বর্মনের দল টিপ্রার সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে সমঝোতারও সুবিধা হবে বলে মনে করছে নেতৃত্ব।
ছবি সৌ:ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications