ভ্যাকসিন শংসাপত্র নিয়ে কোনও সমস্যা নেই, ব্রিটেনকে পাল্টা জানাল ভারত
ভ্যাকসিন শংসাপত্র নিয়ে কোনও সমস্যা নেই
ব্রিটেনের নয়া পর্যটন নীতি নিয়ে অস্বস্তির মুখে ভারত। এই নতুন নীতিতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ডকে অনুমোদন দেওয়া হলেও যে সব ভারতীয়রা এই ভ্যাকসিনের দু’টি ডোজ নিয়ে ব্রিটেনে আসবেন, তাঁদের বাধ্যতামূলক ১০ দিনের নিভৃতবাসে থাকতে হবে। কারণ ভ্যাকসিন শংসাপত্র নিয়ে সংশয় রয়েছে এই দেশের। এ প্রসঙ্গে যদিও ন্যাশনাল হেল্থ অথরিটির সিইও আরএস শর্মা বুধবার জানিয়েছেন যে কোউইন অ্যাপ বা ভ্যাকসিন শংসাপত্র নিয়ে কোনও সমস্যা নেই।

ডাঃ শর্মা এক সরবভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, 'শংসাপত্র সহ কোউইনে কোনও সমস্যা নেই। এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণভাবে হু–এর অনুকূল। আমরা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। ২ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনের হাইকমিশনার আমার কাছে এসেছিলেন। তাঁরা এই পদ্ধতিটি প্রযুক্তিগত দিক থেকে বুঝতে চাইছেন।’ তিনি আরও বলেন, 'কোভিশিল্ডকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং তাদের দলের সঙ্গে আরও দু’টি আলোচনা করা বাকি আছে। এগুলি সবই প্রযুক্তি–স্তরের কথোপকথন।’ অন্যদিকে ব্রিটিশ হাই কমিশন বলেছেন, 'আমরা ভ্যাকসিন শংসাপত্র নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছি।’
ব্রিটেনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় লেখা রয়েছে, 'অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাক্সজেভরিয়া এবং মডার্নার টিকাডা স্বীকৃত টিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।’ অর্থাৎ সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি এই টিকাকে অনুমোদন দিচ্ছে ব্রিটেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই টিকা নিয়ে সে দেশে গেলে কেন ভারতীয়দের নিভৃতবাসে থাকতে হবে তা নিয়েই দানা বেঁধেছে প্রশ্ন। সিরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়টি কেন সমাধান হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ব্রিটেন জানিয়েছে কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত লাল তালিকাভুক্ত দেশের মধ্যে ভারত একটি, এখনও ভারত সেই দেশের তালিকায় যুক্ত হয়নি, যেখান থেকে পর্যটক ব্রিটেনে গেলে ১০ দিনের নিভৃতবাস এড়াতে পারবেন। বিশেষ করে নির্দেশিকায় লাল তালিকাভুক্ত দেশ থেকে আসা সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণ করানো নেই এমন ব্যক্তিরা ব্রিটেনে আসলে তাঁদের বাড়িতে ১০ দিনের কোয়ারেন্টাইন ও দু’টি কোভিড–১৯ টেস্টের রিপোর্ট দেখাতে হবে।
৪ অক্টোবর থেকে জারি হতে চলা ভ্যাকসিন শংসাপত্র নিয়ে নয়া নীতি অনুসারে, ব্রিটেনে ঢুকতে চাইলে ১০ দিনের নিভৃতবাস বাধ্যতামূলক। মঙ্গলবারই বিদেশ সচিব হর্ষ বর্ধন সিংলা সাংবাদিকদের বলেছেন, 'কোভিশিল্ডকে মান্যতা না দেওয়া বৈষম্যমূলক নীতি এবং ব্রিটেনে সফররত আমাদের নাগরিকদের ওপর এর প্রভাব পড়বে। ব্রিটিশ বিদেশ সচিবের কাছে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। তবে আমাকে উনি জানিয়েছেন এনিয়ে কিছু খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মঙ্গলবারই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক হয় ব্রিটিশ বিদেশ মন্ত্রী লিজ ট্রাসের। ওইদিনই বিদেশিদের ব্রিটেন ভ্রমণ নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করে ব্রিটিশ সরকার।












Click it and Unblock the Notifications