বাঁশের মোবাইল টাওয়ার বানিয়ে বিধায়ককে শিক্ষা দিলেন গ্রামবাসীরা
বাঁশের মোবাইল টাওয়ার বানিয়ে বিধায়ককে শিক্ষা দিলেন গ্রামবাসীরা
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। সাধারণত নির্বাচনগুলির আগে ব্যস্ততা চরমে পৌঁছোয় নেতা-নেত্রীদের। ওড়িশার লঞ্জিগড়ের বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ কুমার দিশারীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবারও নিজের বিধানসভা এলাকা পরিদর্শনের কথা ছিল তাঁর। তার মধ্যে বৈতিখামান গ্রামেও যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। গ্রামবাসীরা তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন একটি নতুন টেলিকম টাওয়ার উদ্বোধনের।

কী হয়েছিল ঘটনা?
তবে গ্রামে পৌঁছেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার অবস্থা, প্রদীপ বুঝলেন একেবারে বোকা বানানো হয়েছে তাঁকে। কীভাবে? গ্রামে পৌঁছেই প্রদীপ দেখতে পেলেন, মোবাইল টাওয়ার দূর অস্ত, বাঁশের তৈরি টাওয়ার সদৃশ একটি খাঁচা রয়েছে। তার সামনে হাতে লেখা ব্যানারে লেখা রয়েছে, 'বিএসএনএল ফোরজি'। শুধু তাই নয়, সেই বাঁশের তৈরি খাঁচা ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ক্রুদ্ধ গ্রামবাসীরা। তাঁদের প্রত্যেকের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিষেবা পাচ্ছেন না তাঁরা, নেটওয়ার্ক সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে তাঁদের। পাশেই আরও একটি ব্যানার চোখে পড়ে তাঁর। তাতে লেখা রয়েছে, 'আমাদের নতুন টেলিকম টাওয়ারের উদ্বোধন করছেন মাননীয় বিধায়ক প্রদীপ কুমার দিশারী।'

কেন এই প্রতিবাদ?
কিন্তু কেন এই ভুয়ো টাওয়ার তৈরি করা? প্রতিবাদে উপস্থিত এক গ্রামবাসী তরুণা দলপতি বলেন, 'এই ভুয়ো টাওয়ার তৈরি আদতে রাজনীতিবিদ ও তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।' গ্রামবাসীরা আরও বলেন, ' আমরা বারবার রাজনীতিবিদদের কাছে এখানে একটি মোবাইল টাওয়ারের জন্য আবেদন করেছি। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে আমাদের সন্তান সহ প্রত্যেকেই মুশকিলে পড়েন। কিন্তু আমাদের আবেদন কানে তোলেননি ওঁরা। প্রত্যেকবার নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতির ঝুড়ি নিয়ে হাজির হন, পরে ভুলে যান। কিন্তু এবার আমরা চেয়েছি, রাজনীতিবিদরা নিজেদের ভুয়ো প্রতিশ্রুতির জন্য অপমানিত হন।'

কী বলছেন স্থানীয় BSNL কর্মী?
পুরো বিষয়টি নিয়ে কালাহান্ডির একজন বিএসএনএল আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে মোবাইল টাওয়ার বসানোর কাজ এখনও চলছে। আশা করা যায় আগামী এক মাসের মধ্যে টাওয়ার বসানোর কাজ শেষ হবে। ইস্টলেশনের কাজ চলা টাওয়ারগুলির মধ্যে একটি হল লাঞ্জিগড়, কিন্তু বৈতিখামান গ্রাম পঞ্চায়েত পরিষেবা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় লাঞ্জিগড়ের টাওয়ারটি!

কী বলছেন BJP বিধায়ক?
অন্যদিকে লাঞ্জিগড়ের বিধায়ক দিশারী স্বীকার করেছেন যে গ্রামবাসীদের এই ধরণের অভিনব অনন্য প্রতিবাদে তিন চমকৃৎ। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, 'আমি জানতাম না যে গ্রামবাসীরা এই ধরণের কিছু পরিকল্পনা করেছিল। যদিও আমার এটা নিয়ে সন্দেহ ছিল যে ওখানে কীভাবে মোবাইল টাওয়ার তৈরি হল। আমি তাদের অসুবিধেগুলো বুঝতে পেরেছি। বারবার আমরা এই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে টেলিকম টাওয়ার তৈরির জন্য ছাড়পত্র চেয়েছি। কেন্দ্র থেকে অনুমতি না আসা পর্যন্ত আমরা কিছু করতে পারি না।'












Click it and Unblock the Notifications