সোনমার্গ টানেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেল প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে, ৬ কিলোমিটার দূরত্ব কমল এক লহমায়
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলায় ৬.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ জেড-মোড় টানেলের উদ্বোধন করলেন। টানেলটি সোনমার্গ পর্যটন শিল্পকে সারা বছর জুড়ে রাখবে পর্যটকদের সাথে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি, লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ।
মধ্য কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলার গগনগীর এবং সোনমার্গের মধ্যে দুই লেনের দ্বি-মুখী সড়ক টানেলটি ২,৭০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে। এটি জরুরী অবস্থার জন্য একটি সমান্তরাল ৭.৫-মিটার-প্রশস্ত এস্কেপ প্যাসেজ দিয়ে সজ্জিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,৬৫০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত এটি। টানেলটি শ্রীনগর এবং সোনমার্গের মধ্যে লেহ যাওয়ার পথে, ভূমিধস এবং তুষারপাতের রাস্তা গুলিকে বাইপাস করে সকল আবহাওয়াতেই যোগাযোগ বাড়াবে।

জেড-মোড় টানেলটি শ্রীনগর এবং সোনমার্গের মধ্যে ভ্রমণের সময় কমিয়েছে। যার ফলে এবার যাত্রাপথও অনেক সহজ এবং কম সময়ের হয়ে যাবে। টানেলের অন্যতম প্রধান সুবিধা হল ল্যান্ডস্লাইড-প্রবণ এবং তুষারপাত-আক্রান্ত রুটগুলিকে বাইপাস করার ক্ষমতা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লাদাখ অঞ্চলে নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। এটি প্রতিরক্ষা সরবরাহের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্ধিত সংযোগ এই এলাকায় পণ্য এবং কর্মীদের স্থানান্তর করা সহজ করে তুলবে।
টানেলটি একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ যার মধ্যে রয়েছে জোজিলা টানেল, যা ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একবার উভয় টানেল চালু হলে, তারা উল্লেখযোগ্যভাবে সংযোগ উন্নত করবে। শ্রীনগর এবং লেহ এর মধ্যে দূরত্ব ৪৯ কিমি থেকে কমে ৪৩ কিমি হবে। আর ভ্রমণের গতিবেগ ৩০ কিমি/প্রতি ঘণ্টা থেকে ৭০ কিমি/প্রতি ঘণ্টা বেড়ে যাবে।
এটি কেবল ভ্রমণকে আরও দক্ষ করে তুলবে না বরং মসৃণ পরিবহনে অবদান রাখবে। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এই সোনমার্গ টানেল।
জেড-মোড় টানেলের কাজ ২০১৫ সালের মে মাসে প্রথম শুরু হয়েছিল৷ কাজগুলি সম্পূর্ণ করতে প্রায় এক দশক সময় লাগল কারণ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (IL&FS), প্রকল্পটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আর্থিক চাপের কারণে ২০১৮ সালে কাজ বন্ধ করে দেয়৷ ফের ২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। আর আজ অবশেষে সেটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেল।












Click it and Unblock the Notifications