ইউক্রেন থেকে ২২৫০০ ভারতীয়কে দেশে ফেরানোই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, বললেন জয়শঙ্কর
ইউক্রেন থেকে ২২৫০০ ভারতীয়কে দেশে ফেরানোই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, বললেন জয়শঙ্কর
রাশিয়ার আক্রমণের পর যুদ্ধকালীন ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে মোদী সরকার। ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার জন্য বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাজেট অধিবেশন চলাকালীন মঙ্গলবার সংসদে বলেছেন এই প্রচেষ্টা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং ছিল৷ কেন্দ্রীয় সরকার 'অপারেশন গঙ্গা'র অধীনে উদ্ধারকার্যের বিষয়ে রাজ্যসভাকে ব্রিফিংয়ের সময় জয়শঙ্কর বলেন, যে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে ইউক্রেনে ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিক যাদের বেশিরভাগই ছাত্র, সরাসরি বিপদে আটেক পড়েছিল৷

এরপরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই ইউক্রেনে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের জন্য ভারত সরকারের ধাপে ধাপে গৃহীত পদক্ষেপগুলির রূপরেখা দিয়েছেন। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনে ভারতীয় দূতাবাস ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ভারতীয়দের সন্ধান করার জন্য একটি নাম ও ঠিকানা নতিভুক্তকরণ প্রকল্প চালায়৷ যার ফলে প্রায় ইউক্রেনে থাকা প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের তথ্য নথিবদ্ধ করা সম্ভব হয়েছিল।
জয়শঙ্কর সংসদে আরও জানিয়েছেন, বারবার বিজ্ঞপ্তি জারী করা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইউক্রেন ছাড়ার কথা ভাবেনি৷ ইউক্রেনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ত্যাগ করার জন্য একটি স্বাভাবিক অনিচ্ছা দেখা গিয়েছিল ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তার অন্যতম কারণ হল, পড়াশোনা প্রভাবিত হওয়া এবং কিছু ইউক্রেনীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন কোর্স অফার করতে সক্রিয়ভাবে নিরুৎসাহিত এবং অনিচ্ছা প্রদর্শন করেছিল৷
এদিন সলসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আরও বলেছেন, ইউক্রেনে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গাতে নয় বরং ভারতীয় সম্প্রদায় ইউক্রেন জুড়ে বেশ কিছু জায়গাতে পড়াশুনো করছিল, তাই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের অতি দ্রুত বের করে আনায় বেশ কিছু লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ ছিল। 'অপারেশন গঙ্গা' একটি সক্রিয় যুদ্ধ-অঞ্চল থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে নেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছে৷ এমনিতেই যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেন থেকে বেরিয়া আসার পয়েন্টগুলি আনুমানিক ২৬ লক্ষ উদ্বাস্তু দ্বারা আটক ছিল।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে, আমরা 'অপারেশন গঙ্গা' চালু করেছি, যার ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং উদ্ধার মহড়াটি গ্রহণ করা হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে এই উদ্ধার মহড়াটি এমন এক সময়ে করা হয়েছিল যখন ইউক্রেনে বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণ সহ সামরিক পদক্ষেপ চলছিল। তাই খুব সাবধানে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় উদ্ধার কাজ করতে হয়েছে৷ বিদেশমন্ত্রী আরও বলেছিলেন যে তিনি ইউক্রেন, রাশিয়া এবং পার্শ্ববর্তী পাঁচটি দেশ যার মাধ্যমে ভারতীয়দের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেখানকার পররাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখেছেন৷ জয়শঙ্কর জানিয়েছেন এই উদ্ধার কাজের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ ছিল খারকিভ এবং সুমিতে আটকে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের বের করে আনা।












Click it and Unblock the Notifications