গুরগাঁওয়ে ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেল তাপমাত্রা, শৈত্যপ্রবাহে জমে গেল গোটা এনসিআর
হিমশীতল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে গুরগাঁও। বুধবার সকালে শহরের তাপমাত্রা নেমে দাঁড়াল মাত্র ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা উত্তর ভারতের ঠান্ডা শহরগুলির তালিকায় অন্যতম শীর্ষে পৌঁছে দিল রাজধানী সংলগ্ন এই শহরটিকে।
এর কয়েক দিন আগেই গুরগাঁও স্পর্শ করেছিল ০.৬ ডিগ্রি, যা প্রায় পাঁচ দশকের নজির ভেঙে সমতলের শহরগুলির মধ্যে শীতের রেকর্ড তৈরি করেছিল। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭৭ সালের ২২ জানুয়ারি একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল। আর তারও আগে তিনবার শহর আরও ঠান্ডা অনুভব করেছিল ১৯৬৬ সালে মাইনাস ০.৪ ডিগ্রি, ১৯৭০ সালে ০ ডিগ্রি ও ১৯৭৯ সালে ০.৩ ডিগ্রি।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই শৈত্যপ্রবাহ পাহাড়ে নয়, সমতলে বেশি প্রভাব ফেলেছে। দিল্লির সাফদরজংয়ে বুধবার নথিভুক্ত হয়েছে ৩.৮ ডিগ্রি, অন্য সমতল এলাকাগুলিও ছিল জমাট ঠান্ডার দাপটে। অথচ মুসৌরি ও সিমলার মতো পাহাড়ি স্টেশনগুলি ছিল তুলনায় অনেকটাই উষ্ণ, মুসৌরিতে ছিল ৭.৭ এবং সিমলায় ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আইএমডি এর ডিজি এম মহাপাত্র ব্যাখ্যা করেন, সক্রিয় পশ্চিমী ঝড়ের প্রভাবে পাহাড়ি অঞ্চলে মেঘ জমে থাকায় রাতের তাপমাত্রা খুব কমেনি। ফলে তাপ আটকে গিয়ে উষ্ণতা বজায় ছিল পাহাড়ে। বিপরীতে সমতলে ছিল খোলা আকাশ ও উত্তর পশ্চিম দিকের ঠান্ডা হাওয়া, যার ফলে তাপ দ্রুত বেরিয়ে গিয়ে রাতের তাপমাত্রা নেমেছে তলানিতে।
শীতের তাণ্ডবের প্রভাব পড়েছে মাঠ ঘাট, গাড়ি থেকে ঘাসের চত্বরে সব জায়গাতেই দেখা মিলেছে বরফের আস্তরণ (পালা)। কৃষি ক্ষেতেও জমেছে শীতের ছাপ।
তামিলনাড়ু থেকে আসা ২২ বছরের ইঞ্জিনিয়ার জিভা থাভাসিরাজ বলছেন."এমন ঠান্ডা কখনও অনুভব করিনি। ভারী জুতো পরেও পা জমে যাচ্ছে।" অন্যদিকে, সোহনা থেকে কাজে যাওয়া সুনীতা দেবীর বক্তব্য "ঘন কুয়াশা আর পালার কারণে রাস্তা ছিল বিপজ্জনক। বাসের কাঁচে বরফ জমে গিয়েছিল। উঁচু সেতুতে গাড়ি অত্যন্ত ধীরে চলতে বাধ্য হয়।"
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, এমন হাড় কাঁপানো শীতের অভিজ্ঞতা বহু বছরের মধ্যে এই প্রথম। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দিনেও এমন পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications