উদ্ধব-শিন্ডে দ্বন্দ্ব: মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ও বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
বিভিন্ন সময়ে রাজ্যপাল কিংবা বিধানসভার স্পিকারদের কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। এবার উদ্ধব ঠাকরে একনাথ শিন্ডের দ্বন্দ্বে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন রাজ্যপাল এবং বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি রাজ্যপাল ও স্পিকারের বিষয়টি বিচার করতে বড় বেঞ্চের কাছেও পাঠানোর কথা বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়েছে, বিষয়টিকে বৃহত্তর বেঞ্চের কাছে পাঠানো হবে। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, অরুণাচলের নবম রেবিয়া মামলায় ওঠা প্রশ্ন বৃহত্তর বেঞ্চের কাছে পাঠানো উচিত। কেননা এব্যাপারে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়া উচিত।

পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, উদ্ধব ঠাকরেকে বিধায়করা তাদের নেতা হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। এই অবস্থায় বিধানসভার অধ্যক্ষের উচিত ছিল স্বাধীন তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিধায়কদের অযোগ্য ঘোষণা করা নিয়েও সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এব্যাপারে বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, শিবসেনার চিফ হুইপ হিসেবে শিন্ডে গোষ্ঠীর গোগাওয়ালেকরকে নিয়োগে স্পিকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা বেআইনি। দলের মধ্যে অসন্তোষের ভিত্তিতে ফ্লোর টেস্ট হওয়া উচিত নয়।
এক্ষেত্রে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, রাজ্যপালের উচিত কোনওভাবেই দলীয় কোন্দলে না পড়া। সংবিধান রক্ষা করাও তাঁর দায়িত্বের মদ্যে পড়ে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, এক্ষেত্রে রাজ্যপালের কাছে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ডাকার কোনও শক্ত ভিত্তি ছিল না।
সুপ্রিম কোর্টের মতে কোনও দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধী নিষ্পত্তির জন্য ফ্লোর টেস্টকে ব্যবহার করা যায় না। সর্বোচ্চ আদালত আরও বলেছে, রাজ্যপালের সঙ্গে এমন কোনও বিষয় ছিল না যা ইঙ্গিত করে অসন্তুষ্ট বিধায়করা সরকারের থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু মহারাষ্ট্রের এই ঘটনায় শিবসেনা বিধায়কদের একটি গোষ্ঠীর প্রস্তাবের ওপরে নির্ভর করে রাজ্যপাল সিদ্ধান্তে পৌঁছেযান, উদ্ধব ঠাকরে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন হারিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যদি উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ না করতেন, তাহলে তার সরকারের ফেরানোর আদেশ হতে পারত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের আবেদন প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ বলেছে, তিনি (উদ্ধব) ফ্লোর টেস্টের মুখোমুখি হননি। তাই মহারাষ্ট্রে পুরনো অবস্থায় ফেরত যাওয়া সম্ভবপর নয়।

উল্লেখ করা প্রয়োজন গত বছরের, জুনে একনাথ শিন্ডে-সহ শিবসেনার ১৬ জন বিধায়ক উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা প্রথমে সুরাতে যান। পরে তাঁরা চলে যান গুয়াহাটিতে। সেই সময় উদ্ধব ঠাকরে একনাথ শিন্ডেকে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও, তিনি তা মানেনি। শিন্ডে বিজেপির সমর্থনে সরকার গঠন করেন।
সেই সময় উদ্ধর ঠাকরে গোষ্ঠীর তরপে একনাথ শিন্ডে-সহ ১৬ জন বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করতে সুপ্রিম কোর্টের কছে আবেদন করে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ ১৭ ফেব্রুয়ারি উভয়পক্ষের আবেদনের শুনানি করে। ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা নয় দিন এই মামলার শুনানি হয় সর্বোচ্চ আদালতে।












Click it and Unblock the Notifications