‘এক পদ এক পেনশন’ মামলায় বড় ঘোষণা, কেন্দ্রকে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
এক পদ এক পেনশন মামলায় কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পেনশনের বকেয়া মেটাতে দিন ধার্য করে দেওয়া হল সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে। সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চ মুখবন্ধ খামে তাদের মতামত জানাতে বলেছিল। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে সরকারকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্ট সোমবার জানায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পেনশনের বকেয়া ২৮ হাজার কোটি টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। এক পদ এক পেনশন প্রকল্পের অধীনে পেনশন প্রাপকদের বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। এ জন্য সরকারকে কিস্তিতে বকেয়া মেটানোর ছাড় দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

২০২৩-এর এপ্রিল থেকে ২০২৪-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক পদ এক পেনশন প্রকল্পে বকেয়া পরিশোধ করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণির যোগ্য পেনশনভোগী মোট ২১ লক্ষ ব্যক্তি তাদের বকেয়া পেনশন পাবেন। আদালতের দেওয়া পূর্ববর্তী সময়সীমা অনুযায়ী বকেয়া পুরোটাই ২০২৩-এর মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার কথা ছিল।
এদিন অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি এই মামলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষে সওয়াল করে বিকল্প ব্যবস্থা করতে সম্ভবপর হয়েছেন। অর্থমন্ত্রক একবারে এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া প্রদানে তার অক্ষমতা প্রকাশ করেছিল। তারপরই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কিস্তিতে পরিশোধ করার সুবিধা পায় কেন্দ্র৷
এদিন শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ সরকারের কাছে একটি মুখবন্ধ খাম ফেরত পাঠান, যাতে এক পদ এক পেনশন সংক্রান্ত হিসেব ও নথিপত্র রয়েছে৷ প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় সরকারের উদ্দেশে বলেন, আদালতে কোনও গোপনীয়তা নেই। আবেদনকারী-পেনশনভোগীরা সর্বোচ্চ আদালতে সরকারের দায়ের করা প্রতিটি রেকর্ড দেখতে পারবেন।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, "এটা কিন্তু ঠিক নয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে মুখ বহন্ধ খামে নথিপত্র সরবরাহের প্রতি বিদ্বেষী। এটা মৌলিকভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সুষ্ঠু বিচারের নীতির পরিপন্থী। আদালতকে স্বচ্ছ হতে হবে। আমরা সুপ্রিম কোর্টে মুখ বন্ধ খামের ব্যবহার বন্ধ করতে চাই।"
অ্যাটর্নি জেনারেল এই মর্মে বলেন, নথিগুলি গোপনীয় ছিল। কারণ এতে সংবেদনশীল কিছু বিষয় ছিল। তাই এই ব্যবস্থা। তার প্রত্যুত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, "তাহলে আপনার বিশেষাধিকার দাবি করা উচিত। এই বলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে মুখ বন্ধ খামটি ফিরিয়ে দেন। এরপর এক পদ এক পেনশন প্রকল্পে বকেয়া পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।












Click it and Unblock the Notifications