স্কুল,হাসপাতাল সহ গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসর থেকে সব পথকুকুর সরিয়ে পুনর্বাসনে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ
দেশজুড়ে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল সহ জনবহুল এলাকায় বাড়তে থাকা পথকুকুরের দৌরাত্ম্যে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাস টার্মিনাস, রেলস্টেশন, খেলার মাঠ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরের আশপাশ থেকে সব পথকুকুরকে সরিয়ে নিতে হবে। তবে পুনর্বাসনের আগে তাদের যথাযথ টিকাকরণ ও জন্মনিয়ন্ত্রনকরণ করা বাধ্যতামূলক। এ কাজে অ্যানিম্যাল বার্থ কন্ট্রোল নিয়মকে অনুসরণ করার নির্দেশও দেয় আদালত।
বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট বলেছেন, ধরা পথকুকুরকে আবার আগের জায়গায় ছেড়ে দিলে এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। তাই তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করে সেখানেই রাখতে হবে।

এই পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২৮ জুলাই আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার পর থেকে, যেখানে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল শিশুদের কুকুরের কামড়ের ঘটনা, জলাতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধি ও ক্রমশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়া পথকুকুরের সংখ্যা।
প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে তাদের এলাকার সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ, স্পোর্টস কমপ্লেক্স চিহ্নিত করতে হবে।
জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘেরা বা সুরক্ষিত করতে হবে, যাতে পথকুকুর ঢুকতে না পারে।
নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে পরিসরগুলিতে কোনো পথকুকুর নেই।
যদি কোথাও কুকুর দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৩ জানুয়ারি।
কয়েক দিন আগে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিল অনেক সরকারি সংস্থার কর্মী প্রতিষ্ঠান চত্বরে কুকুরদের খাওয়ান, যার ফলে সমস্যাটি আরও বাড়ছে। কোর্ট বলেছে, এটিকে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে।
গত মাসেই আদালত পশ্চিমবঙ্গ ও তেলেঙ্গানা বাদে অন্য সমস্ত রাজ্যকে তিরস্কার করে বলেছিল পথকুকুর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, পাশাপাশি রাজ্য গুলির মুখ্যসচিবদের তলব করে জবাবদিহি চেয়েছিল।
আদালত আরও মন্তব্য করেছিল এই ধরনের ঘটনা বিদেশি দেশগুলোর সামনে দেশের ভাবমূর্তিকে খারাপ করছে।
তবে শুধু কুকুর নয়, রাস্তায় গবাদিপশুও সরাতে হবে,
রাজস্থান হাইকোর্টের আগের নির্দেশ মেনে সুপ্রিম কোর্ট আরও বলেছে হাইওয়ে ও এক্সপ্রেসওয়ে থেকে গরুসহ সব ধরনের ছুটে বেড়ানো পশু সরাতে হবে।
জাতীয় ও রাজ্য সড়কে নজরদারির জন্য ২৪ ঘণ্টার পেট্রোল টিম রাখতে হবে। প্রতিটি হাইওয়ে ও এক্সপ্রেসওয়েতে স্ট্রে অ্যানিম্যাল হেল্পলাইন নম্বর স্পষ্টভাবে টাঙিয়ে দিতে হবে।
সরানো পশুগুলিকে রাখার জন্য প্রতিটি রাজ্যে পর্যাপ্ত গোশালা ও প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে।
জননিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট চাইছে রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠান চত্বরে যাতে অবাধে পশু ঘোরাফেরা না করতে পারে। তবে পথকুকুর বা গবাদিপশুর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ নয় বরং নিয়মিত চিকিৎসা, আশ্রয় ও সুরক্ষিত পুনর্বাসন ঠিকঠাক করানো হয়।












Click it and Unblock the Notifications