মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সৌর চালিত ইস্ত্রি সহ একাধিক উদ্ভাবন করে তাক লাগিয়েছে এই কিশোরী! কে ইনি জানেন?
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ভাষণ বিশ্বের তাবড় তাবড় মঞ্চে ভাষণ দিয়ে চমকে দিয়েছেন বছর ১৫-র গ্রেটা থুনবার্গ। কিশোরীর মুখে পরিবেশ নিয়ে এমন গভীর তত্ত্ব শুনে হতবাক গোটা বিশ্ব। এবার বিশ্বকে তাক লাগালেন এক ভারতীয়। ১৫ বছরের বিনিশা উমা
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ভাষণ বিশ্বের তাবড় তাবড় মঞ্চে ভাষণ দিয়ে চমকে দিয়েছেন বছর ১৫-র গ্রেটা থুনবার্গ। কিশোরীর মুখে পরিবেশ নিয়ে এমন গভীর তত্ত্ব শুনে হতবাক গোটা বিশ্ব। এবার বিশ্বকে তাক লাগালেন এক ভারতীয়। ১৫ বছরের বিনিশা উমাশঙ্করকে ভারতের গ্রেটা থুনবার্গ বলে অভিহিত করছেন অনেকেই।
সিওপি ২৬ সম্মেলনে পরিবেশ নিয়ে যে বক্তব্য তিনি পেশ করেছেন, তা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। ইতিমধ্যেই তাঁর নাম জেনে গিয়েছেন অনেকেই।

বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বিনিশা।
ব্রিটিশ রাজকুমার উইলিয়ামের ঘোষিত 'আর্থশট প্রাইজ়'-এর তালিকাতেও নাম রয়েছে তাঁর বায়ুদূষণ রুখতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে বিনিশা। একটি সৌরচালিত ইস্ত্রি তৈরি করেছে ১৫ বছরের এই ভারতীয় স্কুলছাত্রী। তামিলনাড়ুর মেয়ে বিনিশা উমাশঙ্কর পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কে বলেছেন, মানব সভ্যতার উদ্ভাবনী ক্ষমতার নেতৃত্ব দিতে চাই আমরা। কোনও অভিযোগ নয়, বরং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার কথা বলেছে সে। তার দাবি, যা আমাদের স্বাস্থ্য ও সম্পদের পথ দেখাবে, তাই করব। সহজ নয়, কঠিন বলেই এই পথ বেছে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে বিনিশা।

কে এই বিনিশা উমাশঙ্কর
তামিলনাড়ুর তিরুমান্নালাইয়ের বাসিন্দা বিনিশা। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কাজ শুরু করে সে। এক দিন মায়ের সঙ্গে জামাকাপড় ইস্ত্রি করতে দিতে দোকানে গিয়েছিল সে। সেখানে গিয়ে দেখে কী ভাবে এক বৃদ্ধ দম্পতি কয়লা উনুনে চাপিয়ে জামাকাপড় ইস্ত্রি করে। সে দিনই সে ঠিক করে এই দূষণ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করবে সে। সে ভাবতে শুরু করে এ ভাবে দিনে কত কয়লা পোড়ে, এতে পরিবেশের কতটা ক্ষতি হয়। এরপর সোলার প্যানেল নিয়ে পড়াশোনা শুরু করে বিনিশা। স্নাতক স্তরের বই নিয়ে পড়তে শুরু করে সে। দেখে কীভাবে বানায় সোলার প্যানেল। এরপর নিজেরকাজের কথা জানায় ভারত সরকারের ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশনে। এরপর ইঞ্জিনিয়ারদের সাহায্যে তৈরি করে ফেলে সৌরচালিত ইস্ত্রি। ৬ ঘণ্টা সূর্যের আলো পেলে ৬ ঘণ্টা চলে সেই ইস্ত্রি। ইস্ত্রিটিকে সাইকেলের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে বাড়ি বাড়ি পাঠায় সে। এটাই শেষ নয়। একটি স্মার্ট সিলিং ফ্যানও তৈরি করেছে সে, যা চলে মোশন সেন্সরে।

বিনিশার বাবা পেশায় একজন বিজনেস কনসালট্যান্ট
বিনিশার বাবা পেশায় একজন বিজনেস কনসালট্যান্ট, মা স্কুল শিক্ষিকা। বিনিশার স্কুলেই বিজ্ঞানের শিক্ষিকা তার মা। পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও দক্ষ বিনিশা। ২০২০-তে সে পায় চিল্ডরেন ক্লাইমেট প্রাইজ। ইস্ত্রি তৈরি করে ওই পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। ২০১৯- এ পায় আব্দুল রালাম পুরস্কার। সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ড. প্রদীপ থেভান্নুর ইনোভেশন পুরস্কারও পায় সে। ২০২১-এ আর্থ ডে নেটওয়ার্ক রাইজিং স্টারের প্রাপক বিনিশা।












Click it and Unblock the Notifications