করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েই সর্বোচ্চ গর্ভপাত গোটা দেশে, আইসিএমআর-র নিতুন রিপোর্টে বাড়ছে উদ্বেগ
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়েই সর্বোচ্চ গর্ভপাত গোটা ভারতে, বলছে আইসিএমআর
একে করোনায় রক্ষা নেই সেই সঙ্গে করোনাকে ছায়াসঙ্গী করে গোটা দেশেই বেড়েছে একাধিক নিত্যনতুন রোগের প্রবণতা। সেই সঙ্গে উদ্বেগ বেড়েছে মহিলাদের স্বাস্থ্য নিয়েও। এদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে আরও সঙ্গীন হয় গোটা পরিস্থিতি। সদ্য প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান বলছে করোনা সেকেন্ড ওয়েভ চলাকালীন সময়ে গোটা দেশে গর্ভপাতের পরিমাণ তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এখানেই নতুন রে বেড়েছে উদ্বেগ।

কী বলছেন গবেষকেরা
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তাতেই দেখা গিয়েছে ভারতে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ চলাকালীন গর্ভপাত ৩ গুণ বেড়ে গিয়েছে। এদিকে আইসিএমআর গবেষণায় গর্ভপাতের জন্য 'স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাত' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যার অর্থ গর্ভধারণের ২০ সপ্তাহের মধ্যেই আগে গর্ভপাত। অথবা ৫০০ গ্রামের কম ভ্রূণের অকাল জন্মের কারণে মৃত্যু। এদিকে এই গবেষণার ফল সামনে আসতেই যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে স্বাস্থ্য মহলে।

বড় গবেষণা আইসিএমআর-র
এদিকে এর আগে, আইসিএমআর-র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন রিপ্রোডাকটিভ হেলথ নামে একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় তরঙ্গের সময় প্রথম তরঙ্গের তুলনায় মাতৃ মৃত্যুর হারও অনেকটাই বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ আল্ট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজির অফিসিয়াল জার্নালেও একই কথা বলা হয়েছে।

কী বলছে সমীক্ষা
ওবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজিতে আল্ট্রাসাউন্ডে সদ্য এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিতও হয়েছে। তাতেই বলা হয়েছে ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৬৩০ জন করোনা পজেটিভ মহিলাদের উপর চলে এই সমীক্ষা। মুম্বাইভিত্তিক একটি অ্যাবরশন কেন্দ্র থেকেই মূলত নেওয়া হয় যাবতীয় তথ্য। গবেষণায় জানা গেছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন সময়ে প্রতি ১ হাজার জন্ম পিছু, গর্ভপাতের সংখ্যা ৮২.৬ শতাংশেরও বেশি।

উঠে আসছে আরও তথ্য
এদিকে করোনার প্রথম তরঙ্গ চলাকালীন সময়ে এই হার ছিল ২৬.৭ শতাংশ। গবেষণায় বলা হয়েছে, মহামারি শুরুর আগে এই হার ছিল অনেকটাই কম। এমনকী ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ জানুয়ারি পরিসংখ্যানও তুলে ধরা গয়। সেখানে গত বছর ফেব্রুয়ারি এবং জুলাইয়ের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাত বেশি দেখা যায়। আর এখানেই বাড়ছে উদ্বেগ। এদিকে গর্ভপাতের উপর যে করোনার সরাসরি প্রভাব রয়েছে তা আগে থেকেউ দাবি করে আসছিলেন একাধিক গবেষক। এবার আইসিএমআর-র পরিসংখ্যানে সেই দাবিই আরও জোরালো হল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এর মুক্তি কোন পথে সে উত্তর এখনও মেলেনি।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications