বকেয়া ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা শোধের জন্য সুপ্রিম কোর্টে নতুনভাবে সময় চাইল টেলিকম সংস্থাগুলি
বকেয়া ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা শোধের জন্য সুপ্রিম কোর্টে নতুনভাবে সময় চাইল টেলিকম সংস্থাগুলি
টেলিকম সংস্থাগুলির নতুন আবেদন শুনতে রাজি হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী সপ্তাহে ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন ও টাটা টেলিপরিষেবার বকেয়া ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা কেন্দ্রকে শোধ করার যে নতুন সময়সূচী চেয়ে আবেদন করা হয়েছে, তার শুনানি হবে আগামী সপ্তাহে।

প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এএম সিংভি এবং সিএ সুন্দরম সহ শীর্ষ আইনজীবীদের জমা দেওয়া নোট গ্রহণ করেন এবং জানান যে একই বেঞ্চের সামনে পরবর্তী সপ্তাহে এই আবেদন শোনা হবে। পূর্ববর্তী আবেদনও এই বেঞ্চই শুনেছিল। সুন্দরম, বিচারপতি এস এ নাজির এবং সঞ্জীব খান্নার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চকে বলেছিলেন, 'আমরা যে অর্থ শোধ করেছি সে বিষয় নিয়ে কোনও বিতর্কে যাচ্ছি না বরং আমরা নতুনভাবে এই বকেয়া অর্থ শোধ করার সময় চাই।’ টেলকমের জানিয়েছে যে প্রকাশ্য আদালতে তাদের নতুন আবেদনের শুনানি হোক। এর আগে, ভারতী এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়ার বকেয়া সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ১৬ জানুয়ারি এই রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
এই রায়ের পুনর্বিবেচনা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশ দিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টে আগেই এই সংক্রান্ত শুনানির আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। পুনর্বিবেচনার আবেদন ও এই সংক্রান্ত কাগজপত্রগুলি খতিয়ে দেখার পর এ বিষয়ে পুনরায় শুনানির কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনগুলি খারিজ করা হয়েছে।
গত ২২ নভেম্বর এই বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে একটি পিটিশন দাখিল করেছিল এয়ারটেল, ভোডাফোন ও আইডিয়া। তার আগে অক্টোবর ২৪ তারিখ এই সংক্রান্ত মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। মোবাইল কোম্পানিগুলিকে বকেয়া থাকা ৯২ হাজার কোটি টাকা সরকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে রায় পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানায় মোবাইল পরিষেবা প্রদানকারী চারটি সংস্থা। কিন্তু, ১৬ জানুয়ারি তা খারিজ হয়ে যায়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অক্টোবরে এই টাকা শোধ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। এরপরই টেলিকম সংস্থাগুলি মন্দার কথা জানিয়েছিল। দাবি করেছিল, স্বল্পমেয়াদে টাকা মেটানোর সুযোগ না পেলে দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের পক্ষে ব্যবসা চালানো সম্ভব হবে না। কারণ, ইতিমধ্যেই আর্থিক সংকটে ভুগছে অধিকাংশ সংস্থা। শিল্প মহলের আশঙ্কা, সংস্থাগুলির আর্থিক স্বাস্থ্য আরও শোচনীয় হতে পারে এই বাড়তি বোঝায়। বিশেষত যেখানে ঋণ ও মাসুল যুদ্ধে জেরবার তারা। তাছাড়া বকেয়া মেটাতে টেলিকম সংস্থাগুলি আলাদা করে অর্থের সংস্থানও করে রাখেনি। তাই জরিমানা ও সুদে ছাড় চেয়ে কেন্দ্রের কাছে আবেদনও জানায় তারা। পরে আদালতেরও দ্বারস্থ হয়।












Click it and Unblock the Notifications