অনলাইন বেটিং অ্যাপ কাণ্ডে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে উথাপ্পা, বিবৃতি জারি করে কী দাবি মিমির?
অনলাইন বেটিং অ্যাপের সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থ পাচারের মামলায় আজ ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়লেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার রবিন উথাপ্পা। আজ দিল্লিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অফিসে তিনি হাজিরা দিয়েছেন।
৩৯ বছর বয়সী উথাপ্পা এদিন ১১টা নাগাদ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কার্যালয়ে পৌঁছন। তারপর শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ ও বয়ান রেকর্ডের প্রক্রিয়া।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, 1xBet প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে জড়িত একটি মামলায় প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর অধীনে উথাপ্পাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হচ্ছে। এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহে ইডি প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না ও শিখর ধাওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। কাল হাজিরা দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে যুবরাজ সিংকে ও বুধবার সোনু সুদকে।
বেটিং অ্যাপের কার্যক্রম সংক্রান্ত এই তদন্তটি ইডির বৃহত্তর অনুসন্ধানের অংশ। অভিযোগ রয়েছে যে, এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলো অসংখ্য মানুষ ও বিনিয়োগকারীকে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা করেছে এবং প্রচুর পরিমাণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর ফাঁকি দিয়েছে।
কুরাকাও-তে নিবন্ধিত সংস্থা 1xBet নিজেদের ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত বুকমেকার হিসেবে দাবি করে। তাদের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ৭০টি ভাষায় উপলব্ধ এবং গ্রাহকরা হাজার হাজার ক্রীড়া ইভেন্টে বাজি ধরতে পারেন। সূত্র অনুযায়ী, কীভাবে বেটিং সংস্থা তাঁদের সঙ্গে এনডোর্সমেন্টের যোগাযোগ করেছিল, ভারতে নোডাল ব্যক্তি কারা ছিলেন, অর্থ প্রদানের পদ্ধতি (হাওয়ালার মাধ্যমে নগদ নাকি ব্যাঙ্কিং চ্যানেল) এবং অর্থ প্রদানের স্থান (ভারত নাকি বিদেশে) নিয়ে তারকাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
সূত্রের খবর, তদন্ত সংস্থা ক্রিকেটার এবং অভিনেতাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় জানতে চাইছে যে, ভারতে অনলাইন বেটিং এবং গেমিং অবৈধ, এই বিষয়টি তাঁরা জানতেন কিনা। 1xBet-এর সঙ্গে সমস্ত চুক্তি এবং প্রাসঙ্গিক ইমেল ও কাগজের ডকুমেন্টেশনের কপিও জমা দিতে বলা হয়েছে। সেলিব্রিটিদের নেওয়া অর্থের শেষ ব্যবহারও ইডি খতিয়ে দেখছে, যাতে দেখা যায় যে তাঁদের মধ্যে কারও অর্থ পিএমএলএ-এর অধীনে "অপরাধের ফল" হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কিনা।
ভারত সরকার সম্প্রতি একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে রিয়েল মানি অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ করেছে। ইডি সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীর-এ তাদের সিনিয়র কর্মকর্তাদের এক জাতীয় বৈঠকে অবৈধ বেটিং ও গেমিং সংক্রান্ত আর্থিক অপরাধ তদন্তের জন্য "সুনির্দিষ্ট কৌশল" গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির আগে বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা এবং তদন্ত সংস্থাগুলির অনুমান অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ২২ কোটি ব্যবহারকারী বিভিন্ন অনলাইন বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করতেন, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১১ কোটি) নিয়মিত ব্যবহারকারী ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অনলাইন বেটিং অ্যাপ বাজার ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ছিল এবং এটি ৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সরকার সংসদে জানিয়েছে যে, ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অনলাইন বেটিং ও জুয়া প্ল্যাটফর্ম ব্লক করার জন্য ১,৫২৪টি আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রাক্তন সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী ও অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাকেও ইডি এই মামলায় তলব করেছিল। মিমি আজ ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন, সবাইকে অনুরোধ করব অবৈধ অ্যাপ থেকে দূরে থাকুন যা জুয়া বা বেটিংয়ের মতো কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তথ্যের চুরি, সাইবার হামলা ও অন্যান্য সাইবার প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মিমি আরও লেখেন, আমি কোনওভাবেই এমন ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত নই যারা এই ধরনের কার্যকলাপের প্রচার করে। সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনও মাধ্যমে কোনও ধরনের বিজ্ঞাপন বা প্রচারে যদি আমার নাম বা ছবি ব্যবহার করা হয় তা সম্পূর্ণভাবে অনুমতিহীন।












Click it and Unblock the Notifications