লকডাউনের পরেও যৌনপল্লী বন্ধ রাখলে ৭২ শতাংশ অবধি কমবে করোনা সংক্রমণ, বলছে গবেষণা
করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত যৌনপল্লীগুলি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে নতুন করে করোনা সংক্রমণ কমতে পারে প্রায় ৭২ শতাংশ। সম্প্রতি একটি গবেষণা এমনটাই জানা যাচ্ছে। যার জেরে সংক্রমণের চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে ভারতে হাতে আরও বাড়তি সময় পাবে প্রায় ১৭ দিন।

আমেরিকার ইয়েল স্কুল অফ মেডিসিনের গবেষকদলের মতে, লকডাউনের বিধিনিষেধ লঘু করার পরেও যৌনপল্লী গুলি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পারলে প্রায় ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত কমবে সংক্রমণ। তাঁদের মতে, প্রতিষেধক আবিষ্কার না-হওয়া পর্যন্ত যৌনপল্লীতে আনাগোনা বন্ধ করলে ভারতীয়দের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৪৫ দিনে ৭২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। গবেষণা মেনে চললে চতুর্থ দফার লকডাউনে ভারত সরকার যে দেশবাসীর স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি নিয়ে চিন্তাভাবনার আরও অনেকটাই সময় পাবে, তা বলাই বাহুল্য।
গবেষকদলের রিপোর্ট অনুযায়ী, যৌনপল্লী বন্ধ রাখলে লকডাউনের কড়াকড়ি শেষের পরেও প্রায় ৬০ দিন পর্যন্ত সংক্রমণ কমানো যাবে প্রায় ৬৩ শতাংশ। ভারতের জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রক সংস্থা(এনএসিও)-এর মতে, ভারতে যৌনকর্মীর সংখ্যা প্রায় ৬,৩৭,৫০০ এবং প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ তাঁদের কাছে প্রত্যহ আনাগোনা করে। ফলত এটা অন্তত স্পষ্ট যে, যৌনপল্লীগুলি খোলা থাকলে যৌনকর্মী ও যৌনপল্লীতে আসা মানুষের মধ্যে হু-হু করে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে।
গবেষকদলের মতে, সবচেয়ে চিন্তার বিষয় এটি যে যৌনব্যবসায় শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা অসম্ভব, ফলত অজান্তেই ছড়াবে করোনা সংক্রমণ। গবেশকদের মতে, দেশের চারটি বড় শহরের যৌনপল্লী গুলি এতটাই বড় যে সেগুলি হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। যৌনপল্লী বন্ধ করলে করোনা সংক্রমণ চরমে পৌঁছাতে ১২ দিন দেরি হবে মুম্বইয়ে, ১৭ দিন দেরি হবে দিল্লিতে ও ২৯ দিন দেরি হবে পুনেতে। একই উপায় অবলম্বনে নাগপুর ও কলকাতায় যথাক্রমে ৩০ ও ৩৬ দিনের বিলম্ব ঘটতে পারে বলে মত গবেষকদের। রিপোর্ট বলছে, যৌনপল্লীর মত স্পর্শকাতর এলাকা বন্ধে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমবে মুম্বইয়ে, ২৭ শতাংশ পুনে ও ৩১ শতাংশ দিল্লিতে। একইসাথে এই উপায় মেনে চললে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৮ শতাংশ কমবে মুম্বইয়ে, ৩৮ শতাংশ কমবে দিল্লিতে ও ৪৩ শতাংশ পুনেতে।
ইয়েল স্কুল অফ মেডিসিনের জীব-সংখ্যাতত্ত্বের অধ্যাপক জেফারি টাউনসেন্ড জানিয়েছেন, "আমাদের সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, যৌনপল্লীগুলি বন্ধ করলে সংক্রমণের সংখ্যা কমছে এবং লকডাউনের বিধি আরোপের পরপরই এই নিষেধাজ্ঞা চালু হলে আরও বেশি প্রভাব পড়বে করোনার আগ্রাসনে।" তিনি আরও জানান যে, এইধরনের সমীক্ষা নির্ভর গবেষণায় সহজে করোনা সংক্রমণের ভবিষ্যৎ উঠে না এলেও করোনার আগ্রাসনের হারকে সহজেই বোঝা সম্ভব।
ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, নেদারল্যান্ডের মত জায়গায় যৌনপল্লী ও স্ট্রিপ ক্লাবগুলি বন্ধ হয়েছে। একইভাবে জাপানে সময়মত এই নিয়ম আরোপ না হওয়ায় করোনা সংক্রমণের সংখ্যায় 'বিস্ফোরণ' দেখা গিয়েছে। এই গবেষণা পত্রের অন্যতম আর এক লেখক সুধাকর নুটি জানিয়েছেন, "যৌনপল্লীগুলি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বন্ধ করতে হবে। বন্ধ না করলে সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। এক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা দরকার।"












Click it and Unblock the Notifications