কীর্ণাহারের ব্রাহ্মণের চালে ফের মাত হল রাজনীতি! আরএসএস-এর মঞ্চে কী বললেন প্রণব

  • Posted By: Amartya Lahiri
Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    রাজনীতিক মহলে আশঙ্কা ছিল নাগপুরে আরএসএস সদর দফতরে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করবে আরএসএস এবং বিজেপি। উল্টে সেই মঞ্চকেই ব্যবহার করে বিজেপির সংকীর্ণ রাজনীতির সমালোচনা করলেন কীর্ণাহারের ব্রাহ্মণ সন্তান। দৃঢ় কন্ঠে বললেন, এক ভাষা, এক ধর্ম বা এক জাতি নয়, ভারতের জাতীয়তাবাদের ভিত্তি বহুত্ববাদ ও সহিষ্ণুতা।

    কীর্ণাহারের ব্রাহ্মণের চালে ফের মাত হল রাজনীতি!

    যেদিন থেকে জানা গিয়েছিল আরএসএস-এর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রণব সেদিন থেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। আদ্যন্ত কংগ্রেসম্যান হিসেবেই তাঁর পরিচিতি। রাজনৈতিক আদর্শে বরাবরই বিজেপি-আরএসএস উল্টো মেরুতেই তাঁর আস্থা। এমনকী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন আরএসএস ও তার শাখা সংগঠনগুলির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদীদের যোগ আছে কি না, জানার জন্য তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই প্রণবের হল কী? আশঙ্কা ছিল হয়তো আরএসএস তাঁকে দিয়ে বিতর্কিত কিছু বলিয়ে নেবে।

    কিন্তু বরাবরের ক্ষুরধার রাজনীতিক প্রণব রইলেন প্রণবেই। আরএসএস-এর মঞ্চেও উঠলেন, আবার সেই মঞ্চকেই কাজে লাগালেন আরএসএস-এর উগ্র হিন্দুত্বের সমালোচনায়। এদিন তিনি ভাষণ দিতে উঠে প্রাক্তন এই রাষ্ট্রপ্রতি প্রথমেই জানিয়ে দেন, তিনি দেশ, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে নিজের ভাবনা ব্যক্ত করবেন।

    তিনি বলেন, সহিষ্ণুতা, বহুত্ববাদ ও বিবিধতা-ই ভারতের শক্তি। তিনি আরএসএস-এর তরুণ কর্মীদের সামনে ভারতের ইতিহাস তুলে ধরেন। জানান একের পর এক বিদেশী শক্তি ভারতে হামলা করেছে। ভারতকে শাসনও করেছে। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই মিশে গিয়েছে ভারতের সংস্কৃতিতে। সেভাবেই গড়ে উঠেছে ভারতের জাতীয়তাবাদ।

    তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের জাতীয়তাবাদ ভাষা-ধর্ম ও জাতিতে বিভক্ত নয়। এক ভাষা এক ধর্ম বা এক জাতির ভিত্তিতে ভারতের জাতীয়তাবাদ গড়ে ওঠেনি। উঠেছে বহুত্ববাদের ভিত্তিতে। উঠেছে সহিষ্ণুতায়। আর এই জন্যই সারা বিশ্বে ভারতের জাতীয়তাবাদ অনন্য। আরএসএস মঞ্চে তিনি মহাত্মা গান্ধীর ভারতের ধারণার কথা তুলে ধরেন। জহরলাল নেহরুর লেখা থেকে তাঁর সহিষ্ণু ভারতের স্বপ্নের কথা বলেন।

    প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জানান চোখ বুজে তিনি ভেবে বিস্মিত হয়ে যান কিভাবে এত মানুষ এত বৈচিত্র নিয়ে একসঙ্গে বাস করছে। ভাষার বৈচিত্র আছে, ধর্মের বৈচিত্র আছে, সংস্কৃতির বৈচিত্র আছে। তারপরেই তিনি উপলব্ধি করেন ভারতের সংবিধানের শক্তি। যা ভারতকে সহিষ্ণুতার কথা বহুত্ববাদের অনুশীলনের কথাই বলে। এই সংবিধানের যে জাতীয়তাবাদের ধারণা দেওয়া হয়েছে সেটাই প্রকৃত দেশপ্রেম বলে তুলে ধরেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।

    ভারতের এই সহিষ্ণু চরিত্রের উপর বর্তমান সময়ে আঘাত নেমে আসছে বলে মত ব্যক্ত করেন প্রণব। আরএসএস মঞ্চ থেকেই বিজেপি তথা আরএসএস-এর অসহিষ্ণুতার রাজনীতির বিরুদ্ধে বার্তা দেন তিনি। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতি এগোচ্ছে, কিন্তু দেশ খুশি নেই।

    গ্লোবাল হ্যাপিনেস ইনডেক্স-এ ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন দেশে ক্রমশ হিংসা, ঘৃণা, দ্বেষ বাড়ছে। সেই ভয়ানক রাস্তা থেকে সরে আসতেই হবে। আরএসএস-এর তরুণ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা অহিংস সমাজই কিন্তু দেশের বিকাশ ঘটাতে পারে। সেইসঙ্গে কৌটিল্যকে উদ্ধৃত করে তিনি মনে করিয়ে দেন প্রজার সুখেই রাজার সুখ। কাজেই প্রজারা যাতে ভাল থাকেন সেটা শাসককেই নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রণববাবুর আরএসএস-এর মঞ্চে আসা নিয়ে কংগ্রেস হাইকমান্ড আহমেদ প্যাটেলের মাধ্যমে নিজেদের মনোভাব জানিয়েছিলেন। আহমেদ প্যাটেল বলেছিলেন, 'প্রণবদার কাছ থেকে এরকমটা আশা করেননি'। প্রণবের কন্যা তথা কংগ্রেস নেত্রী শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ও একেবারে প্রকাশ্যে, সোশাল মিডিয়ায় বাবাকে আরএসএস দফতরে যাওয়ার বিপদ নিয়ে সাবধান করেছিলেন। আরএসএস-এর মঞ্চ থেকে এদিন তাঁদেরও বার্তা দেন প্রণব। বলেন আলোচনা জরুরী। আলোচনার মাধ্যমে সবসময় ঐক্যমতে পৌছনো যাবে তা নয় কিন্তু তাও সবার সঙ্গে আলোচনার পরিসর খোলা রাখতে হবে। নিজে কট্টর কংগ্রেসী হয়েও আরএসএস মঞ্চে এসে গোটা দেশকেই সেই বার্তা দিলেন, ভারতীয় রাজনীতির চাণক্য।

    English summary
    Pranab Mukherjee criticized BJP's narrow politics from the RSS stage saying the basis of Indian nationalism is pluralism and tolerance.

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more