কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রশংসায় প্রধানমন্ত্রী মোদী, ভবিষ্যৎমুখী ও সংবেদনশীলতার জন্য অভিনন্দন নির্মলাকে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৬-২৭ বাজেটকে "উচ্চাভিলাষী" ও "ভবিষ্যৎমুখী" বলে বর্ণনা করেছেন। যা ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকা শক্তিশালী করবে।
মোদী বলেন, ১৪০ কোটি ভারতীয় শুধু দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে সন্তুষ্ট নন, দেশ দ্রুত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে বদ্ধপরিকর।

লোকসভায় নির্মলা সীতারামনের পেশ করা বাজেট সম্পর্কে মোদী জানান, এটি অনন্য। এর লক্ষ্য রাজকোষের ঘাটতি কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ পুঁজি বিনিয়োগ ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
মোদী বলেন, "এই বাজেট ভারতের বৈশ্বিক ভূমিকাকে নতুন করে সুদৃঢ় করে। ১৪০ কোটি নাগরিক শুধু দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হয়ে সন্তুষ্ট নয়, বরং দেশ দ্রুত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে সংকল্পবদ্ধ।"
প্রধানমন্ত্রী জোর দেন, এটি কোটি কোটি ভারতীয়ের সম্মিলিত সংকল্প। বিশ্বস্ত গণতান্ত্রিক অংশীদার ও নির্ভরযোগ্য গুণমানসম্পন্ন সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের ভূমিকা ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সাম্প্রতিক বড় বাণিজ্য চুক্তিগুলি তরুণ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের সর্বাধিক সুবিধা নিশ্চিত করবে; বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
মোদী বলেন, "আজকের বাজেট ঐতিহাসিক এবং জাতির নারীদের ক্ষমতায়িত আত্মাকে প্রতিফলিত করে। এই বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং দেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে।"
প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রী ও তাঁর দলকে "ভবিষ্যৎমুখী" ও "সংবেদনশীল" বাজেট পেশের জন্য অভিনন্দন জানান; এটি গ্রাম, দরিদ্র ও কৃষকদের কল্যাণে নিবেদিত। তিনি উল্লেখ করেন, সীতারামন নারী অর্থমন্ত্রী হিসেবে টানা নবমবার দেশের বাজেট পেশ করে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বাজেটটি অফুরন্ত সুযোগের রাজপথ, যা বর্তমানের স্বপ্ন পূরণ করে ভারতের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তি মজবুত করে। তিনি জোর দেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যাত্রার মূল ভিত্তি হবে এটি।
মোদী উল্লেখ করেন, "রিফর্ম এক্সপ্রেস" বাজেটে নতুন শক্তি ও গতি পাবে। তিনি বলেন, যুগান্তকারী সংস্কারগুলো ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সাহসী ও প্রতিভাবান তরুণদের জন্য উন্মুক্ত আকাশ দেবে; বাজেট আস্থা-ভিত্তিক শাসন ও মানব-কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।
প্রধানমন্ত্রী জোর দেন, এ বাজেট 'মেক ইন ইন্ডিয়া' ও 'আত্মনির্ভর ভারত' অভিযান ত্বরান্বিত করতে উচ্চাভিলাষী রূপরেখা দিয়েছে। উদীয়মান শিল্পগুলো-বায়োফার্মা শক্তি মিশন, সেমিকন্ডাক্টর মিশন ২.০, ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম, রেয়ার আর্থ করিডোর তৈরি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাত শক্তিশালীকরণ, বস্ত্র খাতে নতুন প্রকল্প, উচ্চ-প্রযুক্তি সরঞ্জাম উৎপাদন, 'চ্যাম্পিয়ন এমএসএমই' তৈরি-অভূতপূর্ব সমর্থন পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটটি ভবিষ্যৎমুখী; দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণ করে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সহ এমএসএমইগুলিকে দেওয়া সহায়তা স্থানীয় থেকে বিশ্ব স্তরে পৌঁছাবে। মোদী বলেন, "এই বাজেট পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে আছে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর, দেশজুড়ে জলপথের বিস্তার, উচ্চ-গতির রেল করিডোর, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলির উন্নয়নে বিশেষ নজর এবং শহরগুলির অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়তে পৌর বন্ডের প্রচার।"
প্রধানমন্ত্রী জোর দেন, এ পদক্ষেপগুলি ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যাত্রাকে আরও গতিশীল করবে। তিনি বলেন, "যে কোনও জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ নাগরিকেরা।" সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে অভূতপূর্ব বিনিয়োগ করেছে। দক্ষতা, পরিধি ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চলছে।
সীতারামনের 'যুব শক্তি বাজেট' মন্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে মোদী জোর দেন, বাজেটের সংস্থানগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতা, উদ্ভাবক ও নির্মাতাদের প্রস্তুত করবে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, সহযোগী স্বাস্থ্য পেশাদারদের প্রশিক্ষণ, অডিও-ভিজ্যুয়াল সহ 'অরেঞ্জ ইকোনমি'র প্রচার, গেমিং, পর্যটন ও খেলো ইন্ডিয়া মিশন তরুণদের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
মোদী জানান, ভারতকে বিশ্বের ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বড় কর ছাড় ঘোষণা হয়েছে; বাজেট কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য গতি আনবে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যটন প্রসারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সুষম উন্নয়নের ভিত্তি মজবুত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০ কোটিরও বেশি নারী স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। বাজেট নারী-নেতৃত্বাধীন ও নারী-পরিচালিত স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীগুলির জন্য আধুনিক ইকোসিস্টেম গড়ার উপর অগ্রাধিকার দিয়েছে; লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারে সমৃদ্ধি আনা। প্রতি জেলায় নতুন ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণ শিক্ষাকে আরও সহজলভ্য করবে।
মোদী জোর দেন, সরকার সর্বদা কৃষি, দুগ্ধ ও মৎস্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বাজেটে নারকেল, কাজু, কোকো ও চন্দনকাঠ উৎপাদনকারী কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, 'ভারত বিস্তার এআই টুল' কৃষকদের নিজস্ব ভাষায় তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে। মৎস্যচাষ ও পশুপালনে উদ্যোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
-
ফের কালবৈশাখীর ছোঁয়া! ঝড় বৃষ্টিতে ভিজবে কলকাতা সহ গোটা বাংলা -
রামনবমীর শোভাযাত্রায় হাইকোর্টের সবুজ সংকেত, তবে মানতে হবে কড়া শর্ত -
নতুন নির্দেশিকায় কড়া কেন্দ্র, নিয়ম না মানলে খোয়া যেতে পারে এলপিজি কানেকশনও! -
শেষ মুহূর্তে ক্যানসেল? আর মিলবে না টাকা! টিকিট বাতিলে বড় বদল ভারতীয় রেলওয়ের, জানুন নতুন নিয়ম -
তৃতীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির, অভয়ার মায়ের নাম ঘিরে বড় চমক পানিহাটিতে -
ভোটার তালিকায় গণ্ডগোল ঘিরে উদ্বেগ, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল কমিশনের -
রাজস্থানের পর মালিকানা হাতবদল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুরও, আইপিএলে তৈরি হল নয়া রেকর্ড -
হরমুজ খুলে দাও, পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম, ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবে ট্রাম্প, রাজি হবে কি তেহরান? -
ফের অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী, দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসকদের নজরে শারীরিক অবস্থা -
এলপিজি রিফিল বুকিংয়ের সময়সীমা পরিবর্তনের খবর কি সত্যি? আসল তথ্য জানাল কেন্দ্র -
হুমায়ুন-ওয়েইসির জোটের চোখ ১৮২টি আসনে, সংখ্যালঘু ভোট সুসংহত করাই মূল লক্ষ্য -
ভোটার তালিকায় ‘অদৃশ্য' নাম! কমিশনকে তোপ দাগলেন মমতা, উত্তরবঙ্গের মঞ্চে চড়ল রাজনৈতিক পারদ












Click it and Unblock the Notifications