ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি! বড় বাজি প্রধানমন্ত্রী মোদীর
লক্ষ্য ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করা। সেই উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্য অর্জনের দিকে দুর্দান্ত ও ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেকে দায়বদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতিও এদিন দিয়েছেন।
২০১৪ ও ২০১৯-এর থেকে একটু আলাদা ভাবে, ২০২৪-এর নির্বাচনে শরিকদের ওপর ভর করে ক্ষমতায় ফিরেছেন নরেন্দ্র মোদী। তারপর সংসদে পেশ করা বাজেটে মধ্যবিত্তকে ছাড় না দেওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। সেই সময় এই প্রতিশ্রুতি যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।

নিজেকে দায়বদ্ধ রাখার কথা ঘোষণা
এদিন নয়াদিল্লিতে তিনি 'বিকশিত ভারত: পোস্ট ইউনিয়ন বাজেট ২০২৪-২৫'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা প্রায়ই প্রতিশ্রুতি পালন না করায় সমালোচিত হন। কিন্তু তিনি ব্যতিক্রম হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর তৃতীয় মেয়াদে দেশকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত করার শপথের জন্য তিনি নিজেকে দায়বদ্ধ রাখছেন বলে জানিয়েছেন।
সম্মেলনের আয়োজনে সিআইআই
সিআইআই প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং এতে শিল্পের ভূমিকার রূপরেখা দিতে সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে শিল্প, সরকার, কূটনৈতিক সম্প্রদায় এবং থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থেকে প্রায় হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী যোগ দিয়েছেন।
পরিবর্তন অনুভূতি নয়, আত্মবিশ্বাসের
প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন কোভিড মহামারীর কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রবৃদ্ধি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনার কথা স্মরণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সেই সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ভারত শীঘ্রই উন্নয়নের পথে ফিরে আসবে। এদিন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভারত আজ বছরে আট শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা বিকশিত ভারতের দিকে যাত্রা প্রত্যক্ষ করছি। এই পরিবর্তন নিছক অনুভূতির নয়, আত্মবিশ্বাসের বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সংকট থেকে সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সংকটের গভীরতা থেকে সাফল্যের উচ্চতায় দেশ যে অগ্রগতি করেথছে, তার প্রতিফলন, আলোচনা ও প্রশংসা করার জন্য তিনি সবার কাছে অনুরোধ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন, সরকার দেশকে বড় সংকট থেকে বের করে এসেছে। বিষয়টিকে তিনি প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, ২০১৪ সালে তারা যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই সময় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবন করাই ছিল তাদের সামনে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেছেন, প্রবৃদ্ধির জন্য বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতার এবং লক্ষ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি অর্থনীতিকে লাইনচ্যুত করেছিল। কিন্তু সেই পরিস্থিতি থেকে দেশের অর্থনীতিকে আবার ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনা গিয়েছে।
কোথায় হয়েছে পরিবর্তন?
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত এক দশকে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং ল্যান্ডস্কেপ গভীর পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। সরকার মেক-ইন ইন্ডিয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন খাতে এফডিআই নীতির উদারীকরণ করা হয়েছে। মাল্টি-মডেল লজিস্টিক পার্ক তৈরি করা হয়েছে। চোদ্দোটি মূল সেক্টরের জন্য প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম চালু করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই কৌশলগত পদক্ষেপগুলি উৎপাদন খাতের আত্মবিশ্বাসকে অভূতপূর্ব স্তরে বৃদ্ধি করেছে। এবং স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করেছে।












Click it and Unblock the Notifications