দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিবিদদের আজীবন নিষেধাজ্ঞা করা হবে কিনা, সিদ্ধান্ত নেবে একমাত্র সংসদই, দাবি কেন্দ্রের
কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিবিদদের আজীবন নিষিদ্ধ করার আবেদনের বিরোধিতা করেছে। এপ্রসঙ্গে কেন্দ্র জানিয়েছে যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সংসদের এখতিয়ারভুক্ত।
সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া একটি হলফনামায়, কেন্দ্র বলেছে, আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করার অধিকার কেবলমাত্র সংসদের রয়েছে। এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন বা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া বিচারকের আওতার বাইরে বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র।

কেন্দ্র তার হলফনামায় বলেছে, ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮(১) ধারার অধীনে বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিবিদদের ছয় বছরের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, এই সময়সীমা মুক্তির তারিখ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকে।
এই প্রসঙ্গে আবেদনকারীর দাবি অনুযায়ী, যদি ছয় বছরের জায়গায় আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তবে সেটি কার্যত আইন পরিবর্তন করার শামিল হবে, যা বিচার বিভাগের এখতিয়ারের বাইরে।
কেন্দ্র বলেছে, সংবিধানের ১০২ ও ১৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদকে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে বিদ্যমান বিধানগুলো কার্যকর হয়েছে।
হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, "সংসদ চাইলে আরও কঠোর বিধান আনতে পারে, তবে তা আদালতের নির্দেশে নয়, বরং আইনসভা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে"।
সুপ্রিম কোর্টে অ্যাডভোকেট অশ্বিনী কুমার উপাধ্যায়ের দায়ের করা আবেদন শুধু আজীবন নিষেধাজ্ঞা নয়, সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিরও দাবি জানায়। তবে এক্ষেত্রে কেন্দ্র বলেছে, শাস্তি ও অযোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময়সীমা থাকা স্বাভাবিক এবং এটি সাংবিধানিকভাবে বৈধ।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে যে সংসদের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে পড়ে নির্বাচনের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্র বলেছে, "বিচার বিভাগীয় আইন প্রণয়নের পরিবর্তে কেবল সংবিধান ও আইনের সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা করতে পারে"।
সুপ্রিম কোর্ট ১০ ফেব্রুয়ারি এই বিষয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের মতামত চেয়েছে। তাঁদের মতামত শোনার পরই বোঝা যাবে আদালত এই সংবেদনশীল বিষয়ে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেয়।












Click it and Unblock the Notifications