করোনার প্রভাবে গ্রাহকদের মধ্যে ম্যাগি, আটা, প্যাকেটজাত খাবারের চাহিদা তুঙ্গে
করোনার প্রভাবে গ্রাহকদের মধ্যে ম্যাগি, আটা, প্যাকেটজাত খাবারের চাহিদা তুঙ্গে
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ভারতে বাড়তে থাকায়, আতঙ্কে গ্রাহকরা প্রয়োজনীয় সব জিনিস মজুত করতে শুরু করে দিয়েছে। যার ফল স্বরূপ সাবান, স্যানিটাইজার, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন চাল এবং সবজি এমনকী মাস্কের চাহিদাও ভীষণভাবে দেখা দিয়েছে। মহামারির কারণে সরকার সম্পূর্ণভাবে লকডাউন করে দিতে পারে এই আশঙ্কায় দোকান মালিকরা জানিয়েছেন যে গ্রাহকদের কাছে আটা, চাল, রান্নার তেল, নুডলস ও অন্যান্য প্যাকেটজাক খাবারের চাহিদা আকাশ ছোঁয়া।

ম্যাগি থেকে আটা, চাল চাহিদা তুঙ্গে
জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে দোকানের মালিকরা জানিয়েছেন অতীতে এই ধরনের জিনিস কেনার হিড়িক মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি এবং দোকানের তাকগুলি পুনরায় ভরতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা। দিল্লির লাজপত নগর এলাকার এক মুদির দোকানের কর্মী প্রকাশ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী রবিবার জনতা কার্ফু ঘোষণা করার পরই আধ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ বাক্স ম্যাগি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। সাধারণত ওই পরিমাণ নুডলস বিক্রি হয় ৪-৫ দিনে।' ওই এলাকার আরও এক দোকানদারের গলাতেও শোনা গেল একই সুর। অন্য এক দোকান মালিক জানিয়েছেন যে তারা হোর্ডিং রোধ করতে আটা বিক্রি করা বন্ধ করেছে। ওই মালিক বলেন, ‘আমরা নাম ও ফোন নম্বর নিয়ে রেখেছি গ্রাহকদের যাঁদের আটা দরকার। পাঁচ কেজি আটা ডেলিভারি করতে কমপক্ষে ১৫ ঘণ্টা সময়য় লাগবে।' দেখা গেল দোকানে অন্য ব্র্যান্ডের আটা বিক্রি করা হচ্ছে এবং আইটিসি ব্র্যান্ডের আটা খুবই কম রয়েছে।

বিক্রি বেড়েছে শপিং মল ও অনলাইন গ্রসারিতে
একইভাবে বিগবাজার, স্পেনসার ও মর্ডান বাজারের মতো খুচরো ফরম্যাট স্টোরগুলিতে গ্রাহকদের লাইন দেখা গেল। বিগ বাজারের এক সেলস প্রতিনিধি বলেন, ‘গড় ঝুড়ির আকার ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং প্যাকেটজাত খাবার যেমন চিজ, পাস্তা, নুডলস এবং লম্বা শেল্ফ-লাইফ দুধের বিক্রি বেড়েছে।' অনলাইনেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা বেড়েছে। বিগবাস্কেটের সিইও হরি মেনন বলেন, ‘আমাদের অনলাইন অর্ডার প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১৫-২০ শতাংশ বাস্কেটের আকার বেড়েছে।' ডেলিভারি দেরি হওয়ায় মেনন বলেন, ‘কিছুদিন আরও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হব আমরা, যোগান ঠিকঠাক পেলেই আমরা যথাসময়ে ডেলিভারি পৌঁছে দেব। আমরা ক্রমাগত এ বিষয়ে কাজ করে চলেছি।' বিভিন্ন সংস্থাগুলি গ্রাহকদের চাহিদা অনুসারে যোগানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সংস্থা উৎপাদন ও বিতরণ দ্বিগুণ করে দিয়েছে
ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে, বড় বড় এফএমসিজি সংস্থাগুলি যেমন এইচইউএল, আমুল, গোদরেজ কনজিউমার এবং আইটিসি প্রায় দ্বিগুণ করে দিয়েছে তাদের উৎপাদন এবং বিতরণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও এইচইউএল এবং গোদরেজ গ্রাহকরা হ্যান্ডওয়াশ এবং স্যানিটাইজারগুলির মতো ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যকর পণ্যগুলি ন্যায্য মূল্যে পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে অন্যদিকে আমুলের মতো অন্যান্য সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে এখন পর্যন্ত কোনও ঘাটতি হয়নি তাদের।












Click it and Unblock the Notifications