সিন্ধু নয়, বিন্দু বিন্দুতে এবার বদলা! 'চুক্তির জল' বন্ধ করে পাকিস্তানকে হাঁটুমোড়া করে দিতে পারে ভারত
Indus Waters Treaty: "রক্ত ও নদীর জল একসঙ্গে বইতে পারে না..." ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে উরিতে ভারতীয় সেনার ছাউনিতে জঙ্গি হামলার পর এমনই মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্বাধীনতার ৭৭ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও সংঘাত ও সন্ত্রাস জিইয়ে রেখেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার পহেলগাঁও-তে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে এবার সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি বন্ধ করে দিল ভারত।
পহেলগাঁওতে সবুজে ঘেরা ক্যানভাস সম বৈরসন উপত্যকা। মিনি সুইৎজারল্যান্ড নামেও খ্যাত। সেখানেই মঙ্গলবার দুপুরে ঘুরছিলেন পর্যটকরা। হঠাৎই জঙ্গি হানা। ধর্ম জিজ্ঞেস করে করে খুন করে দেওয়া হল একের পর এক নিরীহ পর্যটককে। মৃত্যুর সংখ্যা ২৬। একজন নেপালি নাগরিক রয়েছেন মৃতের তালিকায়। পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর ই তৈবার সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট ওরফে টিআরএফ ইতিমধ্যেই হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাল্টা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ নিল ভারত। যার মধ্যে অন্যতম সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির জল বন্ধ করে দেওয়া।

সিন্ধু নদ-সহ পাঁচটি উপনদী তথা ঝিলম, চেনাব, রবি, বিয়াস ও শতদ্রুর জল পাকিস্তানকে দেবে না ভারত। পাকিস্তানে জলের মূল উৎসই এই নদীগুলির মিলিত সিন্ধু নদের প্রবাহ। পহেলগাঁও কাণ্ডের জেরে ভারত তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কার্যত মাঠে মারা পড়বে পাকিস্তান। উরিতে জঙ্গি হামলার পর মুখে বললেও সিন্ধুর জল সমঝোতা বন্ধ করেনি ভারত। বরং হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত জোগানো বন্ধ না করলে কোনও বৈঠক করবে না দিল্লি।
কী এই সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি?
১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তান সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষর করে। গ্যারান্টার ছিল বিশ্ব ব্যাঙ্ক। চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির জল দুই দেশেই সমান পরিমাণে ভাগাভাগি করা হবে। তাছাড়া সিন্ধুর পূর্বদিকের উপনদী তথা বিয়াস, রবি ও শতদ্রুর জল ভারতে আসবে ও পশ্চিম দিকের উপনদী তথা চেনাব, সিন্ধু ও ঝিলামের জল পাকিস্তানের দিকে পাঠানো হবে, এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল চুক্তিতে। তবে প্রয়োজনে অন্য নদীরও জল ব্যবহারে অনুমতি ছিল। ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ওই ছাড় দেওয়া ছিল।
গোটা সিন্ধু নদ ও উপনদীর মূল উচ্চ প্রবাহ ভারতেই অবস্থিত। যদিও মোট জলের ৩০ শতাংশ পায় ভারত। ৭০ শতাংশ পায় পাকিস্তান। এতদিন তা দিতে কার্পণ্য করেনি ভারত। সিন্ধুর পশ্চিমের উপনদীগুলির জল পাকিস্তানে পাঠানো হলেও তা জলসেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, মৎস্য চাষ, পর্যটন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনায় ব্যবহার করার অধিকার রয়েছে ভারতের।
পাকিস্তান কেন ভয়ে?
যদিও কিষাণগঙ্গা ও রাটলি বাঁধ নিয়ে বারবার ভারতকে অসন্তোষ জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত ৮০ শতাংশ জলের প্রবাহ ওই বাঁধের ফলে বাধা পাবে বলে জানায় পাকিস্তান। আর এবার পহেলগাঁও হামলার জেরে পাকিস্তানকে সবক শেখাতে জল না দেওয়ার পথেই হাঁটল ভারত। ভারতের এই সিদ্ধান্তে যে পাকিস্তান ভয়ে কাঁটা হয়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
সিন্ধুর নিম্নপ্রবাহ গিয়েছে পাকিস্তানে। জঙ্গি হামলায় মদত দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই এখন পাকিস্তানের আশঙ্কা, উচ্চপ্রবাহে জল নিয়ন্ত্রণ করে তাদের দেশে বন্যা বা খরার পরিস্থিতি করে প্রতিশোধ নেবে না তো মোদী সরকার? সেটাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications