বন্দে ভারতের যাত্রীরা মানছে না কোয়ারেন্টাইন নিয়ম, রাজ্য সরকারকে চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
বন্দে ভারতের যাত্রীরা মানছে না কোয়ারেন্টাইন নিয়ম, রাজ্য সরকারকে চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যাঁরা বন্দে ভারত মিশনের আওতায় বিমানে করে বিদেশ থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন, তাঁরা সাতদিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম লঙ্ঘন করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

অন্য দেশ থেকে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা জরুরি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে বলা হয়েছে যে সাতদিনের কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হোক তাঁদের জন্য যাঁরা বিশেষ বিমানে করে অন্য দেশ থেকে ফিরছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নিয়ম অনুযায়ী কোভিড-১৯ মহামারির সময়, যাঁরা বন্দে ভারত বিমানে করে ফিরবেন দেশে তাঁদের বিমানবন্দরেই একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে এবং সেই ফর্মে উল্লেখ করা হয়েছে যে যাত্রীরা তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছানোর পরই সোজা কোয়ারেন্টাইন সুবিধায় যাবেন।

ছয়টি হোটেলে কোয়ারেন্টাইন সুবিধা
কলকাতায় রাজ্য সরকার এই কোয়ারেন্টাইন সুবিধার বন্দোবস্ত করেছে বিমানবন্দর সংলগ্ন ছয়টি হোটেলে, যাঁদের সরকারি সুবিধাযুক্ত কোয়ারেন্টাইন পছন্দ নয়, তাঁরা এই হোটেলে নিজেদের খরচে সাতদিনের কোয়ারেন্টাই সুবিধায় থাকতে পারবেন।

যাত্রীরা সরাসরি বাড়ি চলে যাচ্ছেন
গত মঙ্গলবার কুয়ালালামপুর থেকে কলকাতায় ফেরেন ১৬৮ জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে ১৪০ জন সোজা বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফিরে যান। অধিকাংশরাই মালেশিয়াতে শ্রমিকের কাজ করতেন। কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রে বলা হয়েছে, ‘কুয়ালালামপুরে বোর্ডিংয়ের আগে তাঁরা ফর্ম পূরণ করেছেন, যেখানে তাঁরা ঘোষণা করেছিলেন যে সাতদিনের জন্য তাঁরা কলকাতার বেসরকারি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। কিন্তু কলকাতায় অবতরণের পর তাঁরা বেসরকারি কোয়ারেন্টাইনে যেতে অস্বীকার করেন এবং জানান যে তাঁদের কাছে টাকা নেই। এরপর যখন রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি তাঁদের সরকারি কোয়ারেন্টাইনে যেতে বলেন, সেখানেও তাঁরা যেতে অস্বীকার করেন। এই বাক বিতণ্ডা চলে ভোররাত ২টো পর্যন্ত। এরপর মাত্র ২৮ জন যাত্রী হোটেলে যেতে রাজি হন এবং বাদ বাকিরা বিমানবন্দর থেকে বাড়ি চলে যান।'

বহু যাত্রী কোয়ারেন্টাইন সুযোগে যেতে অস্বীকার করেছে
সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, ১৯ জুন ১৪৩ জন যাত্রী কিরগিজস্তান থেকে ফেরেন এবং সোজা বাড়ি চলে যান। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ডাক্তারি পড়ুয়া ছিলেন। তাঁরা সকলেই জানিয়েছিলেন যে তাঁদের কাছে হোটেলে কোয়ারেন্টাইন কাটানোর মতো অর্থ নেই। কিন্তু যে গাড়িগুলি তাঁদের বিমানবন্দর থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছিল, সেগুলি দেখে মনে হয়নি তাঁদের কারোর অর্থের অভাব রয়েছে। চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ৪, ৮ ও ১০ জুনের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন যেখানে যাত্রীরা সরাসরি বাড়িতে চলে গিয়েছেন বিমানবন্দর থেকে।

পুলিশের সঙ্গে সরকারি আধিকারিকরাও থাকেন
বন্দে ভারত বিমান বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগ ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আধিকারিকের সঙ্গে পুলিশও উপস্থিত থাকেন। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা কোভিড-১৯-এর টেস্ট করি যাত্রীদের এবং চেষ্টা করি দেখার কোনও কোভিড উপসর্গ রয়েছে কিনা।' ক্ষুদ্র ও মাধারি শিল্পের আধিকারিকরা যাত্রীদের তালিকা তৈরি করেন, যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে না গিয়ে সরাসরি বাড়ি চলে যান তাঁদের, এঁদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করবে।












Click it and Unblock the Notifications