‘কেউ নেয় না এই মর্মান্তিক ঘটনার দায়’, লখিমপুরে কৃষক মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের
‘কেউ নেয় না এই মর্মান্তিক ঘটনার দায়’, লখিমপুরে কৃষক মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের
লখিমপুর নিয়ে ক্রমেই চাপ বাড়ছে কেন্দ্রের উপর। কৃষি আইনের প্রতিবাদে আন্দোলন চলাকালীন রবিবার উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়ের একটি গাড়ি ২ কৃষককে পিষে দেয় বলে অভিযোগ। ওই গাড়িটি আদপে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলের। এদিকে এই নক্কারজনক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই জোরদার প্রতিবাদ শুরু হয়েছে গোটা দেশ জুড়েই। এবার এই ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

শীর্ষ আদালতের কাছে কী দাবি রাখল কেন্দ্র
এদিকে এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলারই পর্যবেক্ষণ দিতে গিয়ে শুনানিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখায় যায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের। তাদের দাবি যখন এই ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে তখন কেউ দায় নেয় না। অন্যদিকে লখিমপুরের ঘটনার রেশ ধরে দিকে দিকে আরও তীব্র হচ্ছে কৃষক আন্দোলন। মাঠে নেমে পড়েছে কংগ্রেসও। এদিকে কেন্দ্রের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে ভেনুগোপাল দাবি করেছেন লখিমপুর খেরির ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে অবলিম্বে সমস্ত জায়গায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বেড়া লাগাক কেন্দ্র। তার দাবি নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

কী বলছেন লখিমপুর খেরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
এদিকে লখিমপুর খেরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরুণ কুমার সিং জানিয়েছেন, ২ কৃষকের মৃত্যুর পর জ্বলে ওঠে গোটা এলাকা। দিকে দিকে পুলিশ জনতা খণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ওই সংঘর্ষে ৪ কৃষক সহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের দাবি, তাঁর ছেলে নাকি কনভয়ে ছিল না। থাকলে তাকেও পিটিয়ে মেরে ফেলত কৃষকরা। যদিও ভিন্ন মত ওঠে আসছে বিভিন্ন সূত্র মারফত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জন্মসূত্রে আবার এই গ্রামেরই বাসিন্দা মন্ত্রী অজয় মিশ্র।

চলল সওয়াল জবাব
এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে সত্যাগ্রহ করার অনুমতি চেয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত। সেই মামলারও শুনানি চলছে। সরাসরি কারও দিকে দায় না ঠেললেও আন্দোলনের পরিণতি হিসাবেই যে এই ঘটনা ঘটেছে তা বুঝিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত। এর পাশাপাশি, আদালতের বেঞ্চ কৃষকদের আন্দোলন নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলে। এমনকী এর বাস্তবায়নের বাস্তোবচিত উপায় নিয়েও চলে সওয়াল-জবাব। এমনকী আদালত আরও বলেছে, আইনের বৈধতা নিয়ে সংগঠনগুলো আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর প্রতিবাদ করার প্রশ্ন আসে কোথায থেকে?

উঠছে প্রশ্ন
কিন্তু তারপরেও অনেকেই বলছেন, তারফলে কী আন্দোলন-প্রতিবাদের মৌলিক অধিকারই এবার হারিয়ে ফেলবে মানুষ? আর করলেই হতে হবে 'খুন'।এদিকে এখনও দিল্লির যন্তর-মন্তরে সত্যাগ্রহ করার বিষয়ে অনড় কৃষকেরা। এদিকে এই ঘটনায় গতকালই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন। তাদের দাবি ইচ্ছাকৃতভাবেই 'খুন' করা হয়েছে কৃষকদের।












Click it and Unblock the Notifications