মোদীর হাত ধরে শুরু হয়ে গেল নতুন পাম্বান ব্রিজ, বিশেষ বৈশিষ্ঠ্যগুলি জেনে নিন আরও একবার
রবিবার, রাম নবমীর পবিত্র দিনে, দেশ গড়ল নতুন এক ইতিহাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে ভারতের প্রথম উল্লম্ব-উত্তোলন সমুদ্র রেল সেতু - নতুন পাম্বান সেতু-র শুভ উদ্বোধন করলেন এদিন। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এক মাইলফলক হিসেবে এই সেতু শুধু দক্ষিণ ভারতের জন্য নয়, সমগ্র ভারতের জন্যই এক গর্বের বিষয়।
উদ্বোধনের সময় রামেশ্বরম-তাম্বারম (চেন্নাই) নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন মোদী। একইসঙ্গে একটি উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজের উদ্বোধনও করা হয় এদিন।

নতুন পাম্বান সেতুটি ২.০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি রামেশ্বরম দ্বীপকে তামিলনাড়ুর মন্ডপম মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রেলপথে সংযুক্ত করে। এই সেতুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর ৭২.৫ মিটার দীর্ঘ ভার্টিক্যাল লিফট স্প্যান, যা ১৭ মিটার পর্যন্ত তোলা যায়। এর ফলে বড় জাহাজও সহজেই নীচ দিয়ে চলাচল করতে পারে।
সেতুটি নির্মাণ করেছে রেল মন্ত্রকের অধীনে কাজ করা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)। ৫৫০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি আগামী ১০০ বছর ধরে ৮০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে ট্রেন চলাচলের জন্য উপযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।
এই সেতুতে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি এবং টেকসই উপকরণ। স্টেইনলেস স্টিল রিইনফোর্সমেন্ট, প্রতিরক্ষামূলক রঙ, এবং বিশেষ পলিসিলোক্সেন আবরণ এটিকে সামুদ্রিক ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। এছাড়া, "অটো লঞ্চিং পদ্ধতি" ব্যবহার করে সেতুর গার্ডার বসানো হয়েছে, যা আইআইটি মাদ্রাজ কর্তৃক অনুমোদিত।
সেতুটি গঠনগতভাবে এতটাই শক্তিশালী এবং উন্নত যে, একে গোল্ডেন গেট ব্রিজ (যুক্তরাষ্ট্র), টাওয়ার ব্রিজ (লন্ডন) এবং ওরেসন্ড ব্রিজ (ডেনমার্ক-সুইডেন)-এর মতো বিশ্ববিখ্যাত কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
১৯১৪ সালে ব্রিটিশদের তৈরি পুরনো পাম্বান সেতুটি একটি ম্যানুয়ালি পরিচালিত শেরজার স্প্যান যুক্ত ঘূর্ণায়মান লিফট সেতু ছিল, যা দীর্ঘ ১০৮ বছর ধরে চলে এসেছে। ২০২২ সালে নিরাপত্তার কারণে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই ঐতিহ্যকেই সম্মান জানিয়ে তার পাশে দাঁড়াল এই নতুন যুগান্তকারী সেতু।
এদিনের এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর.এন. রবি, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী থাঙ্গাম থেন্নারাসু সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের বিশিষ্ট নেতা-মন্ত্রীরা।
ভারতের অবকাঠামো উন্নয়নে এই নতুন পাম্বান সেতু এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল। শুধু ধর্মীয় ভ্রমণ নয়, দক্ষিণ ভারতের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথেও এটি এক বড় পদক্ষেপ। আর তার সাথেই দেশের উন্নয়নের আরও এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে রইল এই পাম্বান সেতু।












Click it and Unblock the Notifications