বর্ষাকাল ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে ভারতে, ভূ-বিজ্ঞানীদের গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
বর্ষাকাল ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে ভারতে, ভূ-বিজ্ঞানীদের গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য
বাংলাতেও বর্ষাদেবী পদার্পণ করেছেন। উত্তরবঙ্গে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবেশের পর দক্ষিণবঙ্গেও মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে শুরু হয়েছে বর্ষার বৃষ্টি। এরই মধ্যে ভু-বিজ্ঞানীরা আবার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আনলেন। তাঁরা জানিয়েছেন এবারের বর্ষা হবে অতি ভয়ঙ্কর। কী কারণে এবার বর্ষা ভয়ঙ্কর হবে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আবহবিদরা।

ভয়ঙ্কর বর্ষাকালকে চাক্ষুষ করা যাবে এবার
আবহবিদরা মনে করছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে বর্ষাকাল। বেশ কয়েকবছর ধরে যে ধারণা পোষণ করে আসছিলেন আবহবিদরা, তা-ই এবার ঘটতে চলেছে। এবার ভয়ঙ্কর বর্ষাকালকে চাক্ষুষ করা যাবে বলেই মনে করছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য।

বর্ষাকাল ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে ভারতে
সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণামূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ বছর বর্ষাকাল ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে ভারতে। বিগত ১০ লক্ষ বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ভু-বিজ্ঞানীরা। শুধু এ বছর নয়, এখন থেকে আগামী বছরগুলিতে ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে বর্ষা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে।

১০ লক্ষ বছরের পুরনো মাটি পরীক্ষার ফল
এই গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি বছর বর্ষায় বিপুল পরিমাণ পলি নিয়ে বৃষ্টির জল বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরে পড়ে। সাগরের ভূস্তর খনন করে বিজ্ঞানীরা ১০ লক্ষ বছর পর্যন্ত পুরনো মাটির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এই নমুনা থেকে প্রতি বছরের বৃষ্টিপাত সম্পর্কে একটা ধারণায় উপনীত হয়েছে ভূ-বিজ্ঞানীরা।

দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে
গবেষণায় যুক্ত ব্রাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক তথা ভূ ও পরিবেশবিজ্ঞানী স্টিভেন ক্লেমেন্স জানিয়েছেন, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বহুল মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। যে বছর বেশি বৃষ্টি হয়, সে বছর সমুদ্রের উপরিভাগে লবণাক্ত কমে আসে। মিষ্টি জলের পরিমাণ বেড়ে যায়। তা মাটি পরীক্ষা করেই জেনেছেন বিজ্ঞানীরা।

ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে, নিম্নচাপ হচ্ছে বেশিমাত্রায়
ভূ-বিজ্ঞানীরা বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য দুর্যোগ ডেকে আনছে আবহাওয়া ও জলবায়ুর এই পরিবর্তন। এমনই নানা কারণে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। নিম্নচাপ হচ্ছে বেশিমাত্রায়। জলবায়ু বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ভারতীয় উপমহাদেশকে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতা দিন দিন বাড়বে বলেই আভাস বিজ্ঞানীদের।

জাহাজ জয়েডস থেকে সমুদ্রতলের মাটি সংগ্রহ বিজ্ঞানীদের
অধ্যাপক স্টিভেন ক্লেমেন্স ও তাঁর সহযোগী গবেষকরা তেলকূপ খননের কাজে ব্যবহৃত জাহাজ জয়েডস ব্যবহার করে সমুদ্রতলের মাটি সংগ্রহ করেছিলেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে ১০০ জন কর্মী ও ৩০ জন বিজ্ঞানীকে নিয়ে এই অভিযান শুরু করেছিল জাহাজটি। সেই থেকে ছ-বছরের বেশি সময় ধরে তথ্যভাণ্ডার সংগ্রহের কাজ চলছে।

এবার থেকে ভারতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবে বহুল পরিমাণে
সমুদ্রতলের ১০ লক্ষ বছরের মাটি পরীক্ষা করে চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাসে ভু-বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামী দিনে ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য অপেক্ষা করে আছে ভয়ানক দুর্যোগ। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে দুর্যোগ নেমে আসবে ভারতে। ঘূর্ণিঝড় থেকে শুরু করে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তথা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হবে বহুল পরিমাণে।

বাংলার সঙ্গে ভারতেও বর্ষা মারকাটারি ইনিংস চলবে এবার
এবার প্রায় নির্দিষ্ট সময়েই সারা দেশজুড়ে বর্ষা নেমেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমনে। এবার ভরা বর্ষা হবে বলে পূর্বাভাস আগে থেকেই দিয়ে রেখেছিল মৌসম ভবন। গত দু-বছরের মতো এবার স্বাভাবিক বর্ষার হ্যাটট্রিক হবে বলে জানানো হয়েছিল। দুই দশক আগেও হয়েছিল এমনই বর্ষা। বাংলার সঙ্গে ভারতেও বর্ষা মারকাটারি ইনিংস খেলেছিল। যেমন এবার শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। তবে এবারের বর্ষার পিছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

গত দু-বারের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই একুশে দাপট বর্ষার
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করেছে দেশে। বর্ষার অবিরত বৃষ্টিধারায় ভিজছে বাংলা, ভারতের অন্যান্য রাজ্যও। ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় বছর স্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবারও। গত দু-বছরে বর্ষা ব্যতিক্রমীভাবে স্বাভাবিক হয়েছে। ২০১৯ ও ২০২০ সালের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই ২০২১-এর বর্ষা হবে বলে পূর্বাভাস।

২৫ বছর আগের পুনরাবৃত্তিতে রেকর্ড বৃষ্টিপাত সেবার
২০১৯ ও ২০২০ সালে যথাক্রমে ১১০ ও ১০৯ শতাংশ বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবারও বৃষ্টি একইরকম হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ১১০ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। বৃষ্টি হয়েছিল ১১২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত দীর্ঘকালীন গড় সেটাই। ২৫ বছর আগের পুনরাবৃত্তি হয়েছিল সেবার। রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছিল দেশে

একবিংশ শতাব্দীতে ইতিমধ্যে ৪ বার অতিক্রম করেছে মাত্রা
স্কাইমেটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১০০ শতাংশ থেকে চার শতাংশ প্লাস-মাইনাস হলে তা স্বাভাবিক বর্ষা বলে ধরা হয়। কিন্তু ১০৫ থেকে ১১০ বা ১১২ শতাংশ হলে তা অতিবর্ষা বলেই ধরে নেওয়া হয়। এই শতাব্দীর শুরু থেকেই ৪ বার এই মাত্রা অতিক্রম করেছে বর্ষা। ২০২১ সালের বর্ষা ১০৪ শতাংশের বেশি হলেই অতিবর্ষার 'হ্যাটট্রিকে'র ইতিহাস গড়বে।

স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টি, আগেও হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা
দু-দশক পরে পুনরাবৃত্তি এই হ্যাটট্রিকের বছর আসতে চলেছে বর্ষার। এলপিএর ৯৬ শতাংশ থেকে ১০৪ শতাংশ মৌসুমী বৃষ্টিপাতকে স্বাভাবিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। বেশিরভাগ সময়েই ১০০ শতাংশের নীচের দিকে থাকে বর্ষার মান। ২০০৫ থেকে ২০০৮ স্বাভাবিক ছিল বর্ষা। শুধু ২০০৭-এ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। এলপিএ-র ১০৬ শতাংশ বৃষ্টি হয়েছিল।

হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা প্রবল এবার, পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের
দুই দশক আগে ১৯৯৬, ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে যথাক্রমে ১০৩.৪ শতাংশ, ১০২.২ শতাংশ এবং ১০৪ শতাংশ স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই হ্যাটট্রিকের পর এবার ফের স্বাভাবিকের থেকে বেশি বর্ষার হ্যাটট্রিক হতে চলেছে। ২০১৯, ২০২০-এর পর ২০২১-এ বর্ষা এলপিএ-র ১০৪ শতাংশের মাত্রা অতিক্রম করবে বলেই পূর্বভাস জারি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications