ধর্ষকদের 'সংস্কারি বলা বিধায়ককে ফের টিকিট, টুইটে তোপ দাগলেন মহুয়া
বিজেপিকে ফের একহাত নিলেন বাংলার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিলকিস বানোর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের সংস্কারি বাহ্মণ বলেছিলেন যে বিজেপি নেতা, তাঁকে ফের গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দেওয়ায় 'গুজরাট
বিজেপিকে ফের একহাত নিলেন বাংলার সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বিলকিস বানোর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, তাঁদের সংস্কারি বাহ্মণ বলেছিলেন যে বিজেপি নেতা, তাঁকে ফের গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দেওয়ায় 'গুজরাট মডেল' বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ।

গত ১৫ অগস্ট জেল থেকে ছাড়া পান বিলকিস বানো হত্যা মামলার ১১ জন অভিযুক্ত। ওই ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরে তাঁদের ভাল ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে মুক্তি দেওয়া হয়।
যাঁরা ওই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
টুইট করে বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি। মহুয়া লিখেছেন, বিলকিসের ধর্ষক ও হত্যাকারীদের যে বিধায়ক সংস্কারি ব্রাহ্মণ বলেছিলেন, তাঁকে আবারও টিকিট দিয়েছে বিজেপি। এটাই গুজরাট মডেল। ঘৃণা কর, হত্যা কর আর পরে পুরস্কার পাও।
বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রসিংহ রাউলজি এর আগে কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। যে প্যানেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বিলকিসের হত্যাকারীদের মুক্তি দেওয়া হবে, তার সদস্য ছিলেন চন্দ্রসিংহ। তিনি গুজরাটের গোধরার ৬ বারের বিধায়ক।
২০০২-এর যে গুজরাট দাঙ্গার সময় বিলকিস বানোর ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, সেই দাঙ্গার অন্যতম কেন্দ্র পরিচিত এই গোধরা। বিলকিস বানোকে ধর্ষণ ও তাঁর তিন বছরের মেয়ে সহ পরিবারের ৯ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল ১১ জনের বিরুদ্ধে।
এক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওই বিধায়ক ১১ জন অভিযুক্তের মুক্তির পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ওই ১১ জন ব্রাহ্মণ ছিলেন। আর ব্রাহ্মণরা সংস্কার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হন। কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ওঁদের গ্রেফতার করেছিল।
ধর্ষকদের সংস্কারি বলায় ওই বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হন অনেকেই। বিরোধীরা বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। অভিযুক্তদের মুক্তির পর জানা যায়, তাঁরা জেলে থাকাকালীন নিয়মিত প্যারোলেও থেকেছেন। যা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি।
চন্দ্রসিং নামে এই বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই ২০১৭ সালে বিজেপির টিকিট পান ও জয়ী হন। ২০০৭ ও ২০১২-কে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর জয়ী হন তিনি, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে ব্যবধান ছিল মাত্র ২৫৮। এবার ফের টিকিট পাওয়ায় সাংসদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। আর তা নিয়েই যাবতীয় সমালোচনা বলেই খবর।












Click it and Unblock the Notifications