Citizenship: এখনও লাগু হয়নি সংশোধিত আইন! ৩ দেশের ৬ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য নাগরিকত্বের পথ সহজের ভাবনা
Citizenship: এখনও লাগু হয়নি সংশোধিত আইন! ৩ দেশের ৬ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য নাগরিকত্বের পথ সহজের ভাবনা
তিনটি দেশের ছটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ সহজ করা হবে। এমনটাই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের তরফে। এই তিনটি দেশ হল পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ। এই তিন দেশ থেকে যাঁরা বৈধ নথি নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং যাঁদের পাসপোর্ট এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা মিলবে। কেননা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ সংসদে পাশ হলেও তা এখনও লাগু হয়নি।

যেসব সহায়ক নথি লাগবে
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, পার্সি, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং জৈন এই ছয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে চলেছে। তাঁদের সহায়ক নথি হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়া পাসপোর্ট এবং ভিসা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পোর্টালটির পুনর্গঠন করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

দুর্নীতির জেরে সব প্রক্রিয়া অনলাইনে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত পোর্টালে বর্তমানে পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু ও শিখদের মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্টকে সমর্থনকারী নথি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যাঁরা ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে এসেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেওয়া হয়। তবে এখানেও দুর্নীতির প্রমাণ মেলে ২০১৮ সালে। তারপরে নাগরিকত্ব নিয়ে ম্যানুয়ার স্ক্রিনিং বাদ দিয়ে এখন শুধুমাত্র অনলাইনেই সব কাজ করা হয়।

সমস্যার পড়েছেন প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুরা
তবে ভারতে এসেও নাগরিকত্ব নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন সেইসব দেশের অনেক সংখ্যালঘু। ভারতে পাকিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘুদের নিয়ে কাজ করা সীমান্ত লোক সংগঠনের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নাগরিকত্ব পোর্টালে ২০১০-এর ১ জানুয়ারি কিংবা তার পরে পাকিস্তান থেকে আসা মানুষরা সুবিধা পাচ্ছেন না। সংগঠনের তরফে উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, কোনও এক পাকিস্তানি হিন্দু ২০১০-এ ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নাগরিকত্ব পোর্টালের অনলাইনে তার মেয়ার শেষ হওয়া পাসপোর্ট গ্রহণ করা হচ্ছে না। সেই ব্যক্তি তখন দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনে ছুটে গেলে, নতুন করে পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে তার কাছ থেকে মোটা টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিংবা তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। যদিও সেই ব্যক্তি ইতিমধ্যেই ভারতে ১২ বছর কাটিয়ে দেওয়ায় ১৯৫৫-র নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। পাকিস্তান থেকে আসা এইরকমের প্রায় ১৮ হাজার সংখ্যালঘু হিন্দু নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানা গিয়েছে।

আগেই ফৌজদারি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি
ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ২০১৫-তে দেশের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী তিনটি দেশের উল্লিখিত ছয় সম্প্রদায়ের যেসব মানুষ ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদেরকে পাসপোর্ট আইন এবং ফরেনার্স অ্যাক্ট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অবৈধভাবে ভারতে থাকার জন্য তাঁদেরের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক পদক্ষেপ থেকেও মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এইসব ব্যক্তিদের অনলাইন পোর্টালে নাগরিকত্বের আবেদনের ক্ষেত্রেও মেয়াদ উত্তীর্ণ নথি গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, অনলাইনে পোর্টালের এই অংশে পরিবর্তনের ব্যাপারে চিন্তাভাবন চলছে। যেসব আবেদনকারী বৈঠ বিদেশি পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই পাসপোর্ট ও ভিসাকেই সহায়ক নথি হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে।
সাধারণভাবে যাঁরা ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তারা দীর্ঘ মেয়াদি ভিসা কিংবা তীর্থযাত্রার ভিসায় ভারতে আসেন। এক্ষেত্রে পাঁচ বছরের জন্য দেওয়া দীর্ঘ মেয়াদি ভিসাকেই নাগরিকত্বের সুবিধা দানকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications