কেউ বলতেন 'মৌনী বাবা', আবার কেউ বলতেন 'Accidental Prime Minister', জবাবে জানেন কী বলেছিলেন মনমোহন সিং?
Former PM Dr Manmohan Singh: প্রথমবার এক টানা ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থেকে নজির তৈরি করেছিলেন মনমোহন সিং! তবে তাঁর সেই প্রধানমন্ত্রীত্ব চিরকান 'অ্যাক্সিডেন্টাল' বলেই তকমা পেয়েছে। অর্থাৎ ঘটনাচক্রেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে গিয়েছিলেন মনমোহন সিং। তাঁর প্রধানমন্ত্রী কালে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে অনেক। তবে কোনও কিছুতেই বিচলিত হননি মনমোহন। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে চলে যাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমার প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই।
২০১৪ সালে তখন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন মনমোহন সিং (Former PM Dr Manmohan Singh) । তখন তিনি বলেছিলেন, মিডিয়ার থেকে ইতিহাস আমার প্রতি সদয় থাকবে। বারবার যখন তাঁকে দর্বল প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কটাক্ষ করা হচ্ছিল তখন এটাই ছিল মনমোহন সিংয়ের জবাব।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ৯১ বছর বয়সে সক্রিওয় রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ ভাবে অবসর নেন মনমোহন সিং। এক টানা ৩৩ বছর রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। তবে বিরোধীরা তাঁকে বহু সময়ে মৌনি বাবা বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে মাত্র একবারই লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিলেন মনমোহন সিং। ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ দিল্লির কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়াই করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত হেরে যান। মনে করা হয়, সেই সময় দলেরই কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাঁর এই হারের পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন।
এরপর থেকে যদিও কোনওদিন আর লোকসভা নির্বাচন বা কোনও ভোটে লড়াই করেননি মনমোহন সিং। রাজসভা থেকে অবসর নেওয়ার পর সেই আসনে প্রথমবার সদস্য হন সোনিয়া গান্ধী। সাংসদ হিসাবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী একেবারে শেষ টার্মে রাজস্থানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বর্তমানে সোনিয়া গান্ধীও রাজস্থানেরই প্রতিনিধিত্ব করছেন। তবে মনমোহন সিংকে সবথেকে বেশি যা কষ্ট দিত তা হল শাসক এবং বিরোধী দলের তিক্ত সম্পর্ক। যা গণতন্ত্রের জন্যে কোনও সময়ে ভালো নয় বলেও মনে করতেন প্রয়াত এই কংগ্রেস নেতা।
তবে দীর্ঘ জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব সামলেছেন মনমোহন সিং। দীর্ঘ পদে দায়িত্ব সামলানোর পর ১৯৯১ সালে তাঁকে অর্থমন্ত্রী করা হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাও'য়ের মন্ত্রিসভায়। সেই সময় দেশের অর্থনীতি একেবারে উন্নতির শিখরে পৌঁছে যায়। তবে ২০০৪ সালে সেই মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় চমকে গিয়েছিলেন অনেকেই। কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেত্রী হয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী। ছিলেন ইউপিএ চেয়ারপার্সনও। কিন্তু সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রী পদে বসবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় যদিও বিরোধীরা তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। আর সেই কারণেই এহেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সোনিয়া।
যদিও মনমোহনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে সোনিয়া গান্ধী ছিলেন বলেই খবর। কিন্ত্য এতে মনমোহন সিং'য়ের জৌলুস কমে নি। অন্যদিকে প্রণব মুখোপ[আধ্যায়কে সবসময় স্যার বলেই ডাকতেন মনমোহন সিং। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও প্রনব মুখোপাধ্যায় নিষেধ না করা পর্যন্ত স্যার বলেই ডেকে এসেছেন। মনমোহন সিং'য়ের মৃত্যু গোটা দেশ শোকস্তব্ধ। তর্ক-বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, দেশ তাঁকে (Former PM Dr Manmohan Singh) 'ভদ্রলোক' নেতা হিসাবেই মনে রাখবে।












Click it and Unblock the Notifications