মণিপুরে শান্তির বাণী নিয়ে হাজির মোদী, দেখা করলেন ঘরছাড়াদের সঙ্গে, একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা
মণিপুরে অশান্তির দু'বছরেরও বেশি সময় পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চূড়াচাঁদপুর এবং ইম্ফল উভয় জায়গাতেই ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এই সফরে তিনি রাজ্যের জন্য মোট ৮হাজার ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা করেন।
এদিন চূড়াচাঁদপুরে একসময়ের বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী মোদী পৌঁছে যান। এখানে হিংসায় ২৬০ জন নিহত হয়েছিলেন। তিনি চূড়াচাঁদপুরের শান্তি ময়দানে ঘরছাড়াদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

প্রচণ্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইম্ফল বিমানবন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে কুকি-সংখ্যাগরিষ্ঠ চূড়াচাঁদপুরে পৌঁছন। এরপর তিনি মেইতেই-সংখ্যাগরিষ্ঠ ইম্ফলে যান। ত্রাণ শিবিরগুলিতে তিনি বয়স্ক ও শিশুদের সঙ্গেও কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।" এএনআই সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী চূড়াচাঁদপুরে ৭,৩০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে মণিপুর আর্বান রোডস, ড্রেনেজ এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।
চূড়াচাঁদপুর মূলত কুকি-জো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত। এখানেই মেইতেইদের তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবির বিরুদ্ধে উপজাতীয় গোষ্ঠীর একটি সমাবেশের সময় প্রথম হিংসা শুরু হয়। কুকি-জো গোষ্ঠীগুলি দাবি করে যে পাহাড়ি জেলাগুলিকে, যেখানে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, একটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হোক। অন্যদিকে, ইম্ফল উপত্যকায় মেইতেইরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
মেইতেই এবং কুকি-জো জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হয়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন এবং কয়েক হাজার মানুষ ঘরছাড়া হন। গত দুই বছরে ধাপে ধাপে হিংসা ছড়িয়েছে। যার ফলস্বরূপ এন বীরেন সিং মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে মণিপুরের মুখ্যসচিব পুনীত গোয়েল বলেন, "মণিপুর কেবল একটি সীমান্ত রাজ্য নয়, এটি ভারতের 'অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি'র একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার।"
দুই বছর পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফরকে বিরোধী দল কঠোর সমালোচনা করেছে। তারা এটিকে প্রহসন বলে ব্যাখ্যা করেছে। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, মণিপুর দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে এবং প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এখন "বড় কিছু নয়"। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তিন ঘণ্টার এই সফর রাজ্যের মানুষের জন্য অপমানজনক, যারা প্রায় ২৯ মাস ধরে তার জন্য অপেক্ষা করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications