বিপাকে রাজ্যবাসী,আধার কার্ড নিয়ে কেন্দ্রকে ফের তোপ দাগলেন মমতা

তিম মাস গ্রাহকেরা সময় পাবেন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউচরকে আধার নম্বর দেওযার জন্য। আধার নম্বর না দিলে মিলবে না ভরতুকি। কিন্তু এই গোটা প্রক্রিয়াতেই না-খুশ মমতা। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আধার কার্ডের বিরোধী। রান্না গ্যাসে ভরতুকি পেতে আধার কার্ড চালু হওয়ায় তৃণমূল ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি)-র অফিস ঘেরাও করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডের মাধ্যমে ভরতুকি বাধ্যতামূলক নয় জানানোর পরেও সেই ব্যবস্থাই কার্যকর করছে কেন্দ্র।
এদিকে অফিস ঘেরাও প্রসঙ্গে কোনও কথা বলতে না চাইলেও আইওসি-র এক কর্তার বক্তব্য, তেল মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে শুধু আমরাই নয়, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও ভারত পেট্রোলিয়াম পর্যায়ক্রমে গোটা দেশে এ ব্যবস্থা চালু করেছে। তেল মন্ত্রকের নির্দেশ অনুসারেই আমরা কাজ করছি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এখনও কার্ড দেয়নি কেন্দ্র। অথচ বলছে, আধার কার্ড না থাকলে গ্যাস সিলিন্ডারে ভরতুকি মিলবে না। এটা অন্যায়। এটা কেন্দ্রের প্রকল্প, তাদেরই দায়িত্ব নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রকে তাঁর কটাক্ষ, ''গরীব মানুষ কটা কার্ড বানাবে? এপিএল, বিপিএল, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড..! কার্ডের জন্যই তো এবার লকার রাখতে হবে।'' সব ধরণের কাজের জন্য একটাই 'ইউনিফর্ম কার্ড' হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত বক্তব্য নস্যাৎ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেন্দ্র হলফনামা জমা দিয়েছে। সেখানে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে কেন্দ্র কেন আধার কার্ডের সঙ্গে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের ভরতুকি যুক্ত করতে চায়। তিনি বলেন, ৫০ হাজার ভুয়া গ্রাহকের খোঁজ মিলেছে। এটা বন্ধ করতেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে চিদাম্বরম বলেন, সরকার পাইলট প্রজেক্ট করেছিল। সেখানে আধার কার্ডের ভিত্তিতে ভরতুকি দেওয়া হয়েছে। সেখানো তো কোনও রকম অসুবিধা হয়নি। কেউ কোনও আপত্তিও করেননি।
এই জটিল পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দুর্যোগ বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী ১১ নভেম্বর মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র বৈঠক ডেকেছেন। সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় পট্রোলিয়াম মন্ত্রক ও জাতীয় জনগণনা দপ্তরের প্রতিনিধিরা ছাড়াও তিনটি রাষ্ট্রায়াত্ত্ব তেল বিরণনকারী সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কলকাতা, হাওড়া ও কোচবিহারের গ্যাল সিলিন্ডার গ্রাহকদের মধ্যে যথাক্রমে ৫, ৭ ও ১৬ শতাংশ গ্রাহক তাঁদের ডিস্ট্রিবিউটারের কাছে আধার নম্বর জানিয়েছেন। যদিও হাতে তিন মাস রয়েছে। তার মধ্যে আধার কার্ড না পেলে, নিদেনপক্ষে কার্ডের নম্বর না পেলে প্রায় হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হবে রাজ্যের এই তিন জেলার গ্রাহকদের। আধার কর্তৃপক্ষের দাবী, এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। বেশিরভাগেরই আধার কার্ড তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু গ্রাহকদের অভিযোগ কার্ড পেয়েছেন নামমাত্র মানুষ। এমনকী আধার ওয়েবসাইটে গিয়েও নম্বর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
গোটা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে এদিন কলকাতায় বৈঠক করেন রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার ডিডিজি এস কে চক্রবর্তী, আধারের পূর্বাঞ্চলীয় কর্তা প্রদীপকুমার উপাধ্যায় ও জনগণনা দফতেরর পূর্বাঞ্চলীয় কর্তারা। আইটিআইএল এবং আইসিআইএলকে দ্রুত শিবির করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কার্ড দ্রুত বন্টনের জন্য ডাক বিভাগের সিপিএমজি-কেও আবেদন জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications