মোদীর ‘নতুন ভারতে’র নমুনা! রাহুলের সাংসদ পদ খারিজের নিন্দায় সরব মমতাও
রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে এবার সরব হলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির মোদী সরকারকে নিশানা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নতুন ভারতে বিজেপির প্রধান লক্ষ্য (প্রাইম টার্গেট) হলেন বিরোধী নেতারা। বিরোধী নেতারা মুখ খুললেই তাঁরা খড়্গহস্ত হচ্ছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা নন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরাও মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দার সরব হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটে লিখেছেন, মোদীর নতুন ভারতে বিরোধীরা প্রাইম টার্গেট। তাঁর মন্ত্রিসভা অপরাধীরা ভর্তি, অথচ বিরোধীরা মুখ খুললেই তাঁদের পদ খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে।
মমতা বলেন, আমরা প্রত্যক্ষ করছি আমাদের দেশে সাংবিধানিক গণতন্ত্র বিপন্ন এই সরকারের আমলে। এদিন তা নতুন নীচতায় পৌঁছল। রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে বিজেপি সরকারের নিন্দায় এভাবেই গর্জে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একহাত নেন কেন্রে। র মোদী সরকারকে।
In PM Modi’s New India, Opposition leaders have become the prime target of BJP!
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 24, 2023
While BJP leaders with criminal antecedents are inducted into the cabinet, Opposition leaders are disqualified for their speeches.
Today, we have witnessed a new low for our constitutional democracy
তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গণতান্ত্রিক ভারত হল সোনার পাথরবাটি। আর তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, ভারতের গণতন্ত্রে কালো দিন। নরেন্দ্র মোদীর ভারতে যে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই, রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজে তা ফের প্রমাণিত হল। সংবিধান প্রণেতা ভীমরাও আম্বেদকর বেঁচে থাকলে তিনিও কাঁদতেন মোদী সরকারের কীর্তি দেখে।
DEMOCRATIC INDIA is an OXYMORON Now. #ripdemocracy
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) March 24, 2023
রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজের প্রতিক্রিয়া কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, সত্যি কথা বলার খেসারত দিতে হল রাহুল গান্ধীকে। দৃঢ়ভাবে সত্যি কথা বলায় রাহুলের উপর রাজরোষ পড়ল। এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ বলে ব্যাখ্যা করেন কংগ্রেসের আইনজীবী-সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি।
কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে ইদানীং বিস্কর টানাপোড়েন চলছিল। ২০২১-এর নির্বাচনে জেতার পর কিছুদিন কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জাতীয় নির্বাচনে লড়াইয়ের ব্যাপারে তৃণমূল অগ্রণী হলেও, গোয়া বিধানসভা নির্বাচন পর্ব থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে তিক্ততা চরম পর্যায়ে পৌঁছয় তৃণমূলের। একে অপরকে নিশানা করত শুরু করে।
কে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী, সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়ে যায় কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে। সেই কারণে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধিতা শামিল হয়নি তৃণমূল। সংসদে কোনো বিষয়েই কংগ্রেসের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সরব হয়নি তাঁরা। এমনকী কালীঘাটে বৈছকে কংগ্রেস ও বিজেপির সঙ্গে সমদূরত্ব রেখে চলার নীতি নির্ধারণ করে দেন মমতা।
তৃণমূল কংগ্রেস রাহুল গান্ধীকে সরাসরি আক্রমণের রাস্তাতেও হেঁটেছে। মোদী বিরোধিতায় একলা চলার পথ নিয়েছে তারা। তবে এদিন লোকসভার সচিবালয় থেকে রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজের পর তিক্ততা ভুলে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দেখার রাহুল গান্ধীর লোকসভা থেকে বরখাস্ত হওয়া তৃণমূল ও কংগ্রেসের দূরত্ব ঘোচাতে পারে কি না।












Click it and Unblock the Notifications