সুপার এমারজেন্সির চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি! রুখতেই হবে সংবিধান সংশোধনী বিল, গর্জে উঠলেন মমতা
সংবিধানের নয়া সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সংসদে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশের বিষয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ জানিয়ে দীর্ঘ পোস্ট করলেন মমতা।

তিনি লিখেছেন, "ভারত সরকার যে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করছে আমি তার নিন্দা জানাই। আমার মতে, এটা সুপার এমারজেন্সির চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি তৈরির পদক্ষেপ। দেশে গণতন্ত্রকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার প্রয়াস। দেশের গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৃত্যু সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
ভারতীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার দমন করতে স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিসন করা হচ্ছে। নয়া বিল ঠিক তেমনই আরেকটি কঠোর পদক্ষেপ। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অবসান ঘটাতেই এই বিল আনা হচ্ছে। আমরা নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকছি। এই বিল দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিতে হিটলারের মতো আক্রমণের চেয়ে কম কিছু নয়। বিচার বিভাগের যে সাংবিধানিক ভূমিকা রয়েছে, এই নেওয়াই লক্ষ্য। ন্যায়বিচার ও যুক্তরাষ্ট্রীয় ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বিষয়ে বিচার করতে আদালতের যে ক্ষমতা রয়েছে তাও কেড়ে নেবে এই বিল। এই ক্ষমতা এক পক্ষের হাতে ন্যস্ত করার মাধ্যমে আখেরে এই বিল গণতন্ত্রকেই বিকৃত করবে।"
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এটি মোটেই কোনও সংস্কার নয়। এটি এমন একটি ব্যবস্থার দিকে পিছিয়ে যাওয়া যেখানে আইন স্বাধীন আদালতের হাতে থাকবে না, থাকবে কায়েমি স্বার্থান্বেষীদের হাতে। এটি বিচার বিভাগীয় তদন্তকে নীরব করে নজিরবিহীন শাসন প্রতিষ্ঠার একটি ভয়ঙ্কর প্রচেষ্টা। সাংবিধাবিক রক্ষাকবচগুলিকে ধ্বংস করতে, জনগণের অধিকারকে পদদলিত করতেই এই বিল আনা। ক্ষমতাকে একীভূত করতে এই বিলের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী, এমনকী ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা সুনিশ্চিত করছে চাইছে কেন্দ্র, দাবি মমতার। তাঁর মতে, বিংশ শতকের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলি যেভাবে বিশ্বে নিন্দিত হয়েছিল, সেই পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার মানসিকতাই স্পষ্ট হচ্ছে এই বিল পেশের মধ্যে দিয়ে।
মমতা আরও লিখেছেন যে, আদালতকে দুর্বল করে দেওয়া মানে জনগণকে দুর্বল করে দেওয়া। তাঁদের ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অর্থ গণতন্ত্রকেও বঞ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা, যেগুলিকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বলে ধরা হয়, এই বিল সেই জায়গায় আঘাত হানছে। এই বিষয়টি সংসদ অগ্রাহ্য করতে পারে না। এই বিল পাস হতে দিলে তা হবে ভারতে সাংবিধানিক শাসন ব্যবস্থার মৃত্যু পরোয়ানা!
মমতার কথায়, ক্ষমতার এই বিপজ্জনক অপব্যবহারকে প্রতিহত করতেই হবে। আমাদের সংবিধান ক্ষমতায় অস্থায়ীভাবে থাকাদের সম্পত্তি নয়। আমাদের সংবিধান দেশের জনগণের। এক ব্যক্তি-এক দল-এক সরকার সিস্টেমকে সুসংহত করাই এই বিল আনার উদ্দেশ্য। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে পদদলিত করছে এই বিল।
মমতার ভাষায় দেশের জনগণ যে রায় দিয়েছে তার উপর হস্তক্ষেপ করতে এই বিল কেন্দ্রকে ক্ষমতা দেবে। অনির্বাচিত কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতার হস্তান্তর হবে। সুপ্রিম কোর্ট ইডি, সিবিআইকে বলেছে খাঁচাবন্দি তোতাপাখি। সেই সংস্থাগুলি দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করাতেই এই বিল। সংবিধানের মৌলিক নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বিল দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অশুভ উপায়ে অতিরিক্ত ক্ষমতা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই সংসদে পেশ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন মমতা। তিনি চান যে কোনও মূল্যে এই বিল প্রতিহত করতে। মমতার কথায়, এই মুহূর্তে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে। জনগণ তাঁদের অধিকার, আদালতের অধিকার, গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়ার কোনও প্রচেষ্টাকেই ক্ষমা করবেন না।












Click it and Unblock the Notifications