সংকটে মধ্যপ্রদেশ সরকার, নজরে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

সংকটে মধ্যপ্রদেশ সরকার, নজরে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়েছে বেড়াল। সম্পর্কের তিক্ততা শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস ছাড়তে বাধ্য করল জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে। রাজস্থানে পিসির সঙ্গে প্রবল লড়াই চালিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতা পাইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। শেষে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সেই পিসির দলেই আশ্রয় নিয়ে হল গোয়ালিয়রের রাজাকে। সূত্রের খবর বিজেপি নাকি তাঁকে রাজ্য সভার টিকিট উপহার হিসেবে দিয়েছে। এই মহাপতনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হতে শুরু করেছিল অনেকদিন আগে থেকে। তার কয়েকটি পর্যায় জেনে নেওয়া জরুরি।

প্রথম কারণ

প্রথম কারণ

প্রথম, মধ্যপ্রদেশ সরকারের সংকট প্রকাশ্যে প্রবল আকারে আসতে শুরু করেছিল ৯ মার্চ থেকে। হঠাৎ করেই রাতের অন্ধকারে এক প্রকার নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন কংগ্রেসের ১৭ জন বিধায়ক। তাঁদের কোনও খোঁজই পাওয়া যাচ্ছিল না। এঁরা সকলেই নাকি সিন্ধিয়া অনুরাগী। পরের দিন বেঙ্গালুরুতে তাঁরা রয়েছেন বলে জানা যায়। পরিস্থিতি সংকটজনক আঁচ করেই রাতারাতি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ।

দ্বিতীয়, কারণ

দ্বিতীয়, কারণ

মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা সেই বৈঠকে ২৮ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করতে েচয়েছিলেন। তারপরেই কংগ্রেসের এক বিধায়ক পদত্যাগ করেন। এবং স্পিকারকে দেওয়া পদত্যাগ পত্রে স্পষ্ট জানিয়ে দেন দলের অন্তরে প্রবল অবহেলার স্বীকার হয়েছেন তিনি।

তৃতীয়, কারণ

তৃতীয়, কারণ

মঙ্গলবারই বিজেপি দলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন। এবং সেই বৈঠকেই সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হয় শিবরাজ সিং চৌহ্বানকে।

চতুর্থ, কারণ

চতুর্থ, কারণ

তখন থেকেই বিেজপি সিঁধ কাটা শুরু করেছিল বলে অভিযোগ। কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়ক হরিয়ানা সফরে যাওয়ার পরেই দলের অন্দরে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। বিজেপি অপারেশন লোটাস শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠতে থাকে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন অমিত শাহরা।

পঞ্চম, কারণ

পঞ্চম, কারণ

লোকসভা ভোটের পর থেকেই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল চওড়া হতে শুরু করেছিল কমলনাথের। সিন্ধিয়াকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে কমলনাথকে সেই পদে বসানো। তাতেই স্পষ্ট হয়েছিল বিবাদ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ষষ্ঠ, কারণ

ষষ্ঠ, কারণ

রাজ্য সভার ভোট এগিয়ে আসতেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে বিজেপি। কারণ গতবারের চেয়ে এবার উল্লেখযোগ্য হারে বিজেপির আসন সংখ্যা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে বিপদ বাড়তে পারে আঁচ করেই মধ্য প্রদেশকে টার্গেট করেছিলেন অমিত শাহরা। গতকাল কমলনাথ পন্থী কংগ্রেস নেতারা মধ্য প্রদেশ থেকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে রাজ্য সভায় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য হাইকমান্ডের কাছে আবেদন রাখে। তাতে সিন্ধিয়ার সঙ্গে সুতোর মতো জুড়ে থাকা সম্পর্কটিও ছিন্ন করে ফেলেন কমলনাথ। করণ সিন্ধিয়া পন্থীরা এতে আরও বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। তাঁরা রাজ্য সভায় সিন্ধিয়ােক দেখতে চেয়েছিলেন।

সপ্তম, কারণ

সপ্তম, কারণ

২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার মধ্য একটি করে আসন দুই দলই রাজ্য সভায় অনায়াসেই পেতেন। তিন নম্বর আসনটিকে নিয়ে টানাপোড়েন ছিল। তাতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে অনুমোদন দেওয়ার কথা বলেছিল কমলনাথ। আর সিন্ধিয়া পন্থীরা সেই আসনে জ্যোতিরাদিত্যকে চেয়েছিলেন।

অষ্টম, কারণ

অষ্টম, কারণ

দলের অন্দরের টানাপোড়েন দূর করতে কমলনাথকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বিদ্রোহী মন্ত্রীদের নিয়ে নতুন করে মন্ত্রিসভা গঠন করা হোক। কিন্তু দাম্ভিক কমলনাথ তাতে রাজি হননি।

নবম, কারণ

নবম, কারণ

তারপরেই রাতারাতি চরম সিদ্ধান্ত নেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। বাবার জন্মদিনের শুভদিনে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। এবং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে যান। সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ। জ্যোতিরাদিত্যর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান তাঁর অনুরাগী ১৭ জন বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়ক।

দশম, কারণ

দশম, কারণ

২৩০ আসনের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার মধ্যে কংগ্রেস শরিকদের সমর্থন নিয়ে ১২১টি আসন পেেয় সরকার গঠন করেছিল। বিজেপির ছিল ১০৯টি আসন। কাজেই সিন্ধিয়া এবং তাঁর অনুরাগী ১৭ জন বিধায়কের দল বদলে কমলনাথ সরকারের পতন অনিবার্য। এঁদের সমর্থন নিয়ে অনায়াসেই সংখ্যারিষ্ঠতা পেয়ে যাবে বিজেপি। কারণ ১১৫ আসন পেলেই বিজেপির কেল্লা ফতে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+