বিরোধী ঐক্য তৈরির গতি বেড়েছে স্ট্যালিনের সাবধানী পদক্ষেপে, নেতৃত্বে কে
বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার কাজ চলছে সন্তর্পণে। ভার্চুয়ালি ঐক্য গড়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে সুপ্রিমো এম কে স্ট্যালিন। স্ট্যালিনের এই সাবধানী পদক্ষেপে বিজেপি বিরোধী বিরোধী ঐক্যকে এক সূত্রে গাঁথার কাজ তরতরিয়ে চলছে। প্রশ্ন একটাই নেতৃত্বে কে?
বিরোধী ঐক্য গড়তে বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতারা ফোনে ফোনেই কাজ সারছেন। এতদিন বিরোধী ঐক্য নন-স্টার্টার ছিল, সেখানে অপারেশন অপোজিশন ইউনিটির কাজ শুরু হয়েছে। কর্নাটক নির্বাচনের পরই দিল্লিতে এই বিরোধী ঐক্যের শক্তি প্রদর্শন করবেন দলীয় শীর্ষ নেতারা।

সম্প্রতি বিরোধী ঐক্য গঠন নিয়ে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রায়শই অভিযোগ ওঠে, তারা সক্রিয় নয়। কিন্তু কংগ্রেস-বান্ধব ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন এক্ষেত্রে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কংগ্রেস কতটা সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে সম্প্রতি।
মার্চের শেষের দিকে সংসদে ফ্লোর নেতাদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে কংগ্রেসকে গতি বাড়াতে বলা হয়েছিল বিরোধী ঐক্য গঠনের। সেইমতো কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে গত ৭ এপ্রিল এম কে স্ট্যালিন, উদ্ধব ঠাকরে ও নীতীশ কুমারকে ডেকে বৈঠক করেন। এবং এই জোট গঠনের একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করেন।
তারপর ১২ এপ্রিল জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার ও আরজেডির তেজস্বী যাদবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাহুল গান্ধী। পরের দিন আবার এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের সঙ্গে খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর বৈঠক হয়। আবার শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে বৈঠকের জন্য কংগ্রেস মহাসচিব সি ভেনুগোপালকে মুম্বইয়ে পাঠিয়েছেন।

ফলে প্রমাণিত যে বিগত দু-তিন সপ্তাহ ধরে কংগ্রেস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বিরোধী জোট তৈরি করতে। মনে রাখা দরকার যে, বিভিন্ন মতাবলম্বী নেতাদের একটা মঞ্চে নিয়ে আসা খুবই কঠিন। প্রত্যেক দলেরই নিজস্ব অ্যাজেন্ডা রয়েছে। এই অবস্থায় বলাটা সহজ, কিন্তু করাটা কঠিন।
সম্প্রতি বৈঠকে শরদ পাওয়ার কংগ্রেস নেতৃত্বকে বিরোধী ঐক্য প্রক্রিয়াকে চালনা করার জন্য একটি কমিটি তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। তবে তিনি নীতীশ কুমরাকে তার পরিকল্পনায় নেই। যদিও জল্পনা রয়েছে, নীতীশ জোটের আহ্বায়ক হতে পারেন। কারণ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী আপ, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিআরএস-এর মতো দলগুলির কাছে পৌঁছতে পারেন।

একাংশ মনে করেন, কংগ্রেসের নীতীশের মতো নেতাদের থেকে সতর্ক থাকা উচিত। কেননা সমাজতন্ত্রী দলগুলি কংগ্রেস বিরোধী শিবির থেকে উঠে এসেছে। জেডিইউ নেতা এখনও ২০০৪ সালের ইউপিএ-র থেকে কংগ্রেস ছাড়া ১৯৮৯ ও ১৯৯৬ সালের ফ্রন্টকে বেশি পছন্দ করেন, যেখানে কংগ্রেস-বিরোধী দল জোট তৈরি হয়েছিল।
এই অবস্থায় স্ট্যালিন ফ্যাক্টর কাজ করতে পারে। শীর্ষস্থানীয় অ-কংগ্রেস বিরোধী নেতাদের একাংশের মতে, ডিএমকে সুপ্রিমো তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন, কংগ্রেসের একজন ভালো বন্ধু। তিনি উদ্যোগী হয়ে কংগ্রেস ও কংগ্রেস-বিরোধী আপ, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিআরএস-এর মতো দলগুলির সঙ্গে মধ্যস্থতা করতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications