লাদাখের বিক্ষোভ নিল হিংসার রূপ, মৃত ৪, আহত ৭২, রাস্তায় বিক্ষোভে যুবসমাজ

লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে লেহ। বুধবারের বিক্ষোভে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়, যার ফলে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সত্তরের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালীন, শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর পাথর ছুঁড়েছে এবং বিজেপি কার্যালয় ও সিআরপিএফের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন লেহতে অনুমতিবিহীন সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

শিক্ষার্থীরা মূলত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। ওয়াংচুক গত পনেরো দিন ধরে অনশন করছিলেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল, যার পরিণতিতে এই হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি হয়।

হিংসার পর ওয়াংচুক তাঁর অনশন ভেঙেছেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, "এটি লাদাখের জন্য একটি দুঃখজনক দিন। আমরা পাঁচ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ পথে হাঁটছিলাম। আমরা অনশন করেছি, লেহ থেকে দিল্লি পর্যন্ত পদযাত্রা করেছি। আজ আমরা শান্তির বার্তা ব্যর্থ হতে দেখছি। হিংসা, গুলি চালানো এবং অগ্নিসংযোগ হচ্ছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমি লাদাখের তরুণ প্রজন্মকে এই উন্মাদনা বন্ধ করার আহ্বান জানাই। আমরা আমাদের অনশন এবং বিক্ষোভ স্থগিত করছি।" সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে একটি বৈঠক ৬ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৯ সালে ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছিল। সেই সময় সরকার আশ্বাস দিয়েছিল যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করা হবে।

হিংসা কীভাবে ছড়িয়েছে, তার দুটি মূল কারণ তুলে ধরা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ২৪ সেপ্টেম্বর 'লাদাখ বন্ধ’-এর ডাক দেয়। লেহ হিল কাউন্সিলে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, যার ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়।

আন্দোলনকারীদের থামাতে লেহ হিল কাউন্সিলের সামনে ব্যারিকেড বসানো হয়েছিল। যখন আন্দোলনকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, পুলিশ তখন কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভিড় পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ভাঙচুর করে।

লাদাখের উপরাজ্যপাল কবিন্দর গুপ্তা বলেন, লেহ-এর এই বিক্ষোভের পিছনে ষড়যন্ত্রের গন্ধ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু লোক ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে উস্কে দিচ্ছে এবং এর তুলনা বাংলাদেশ ও নেপালের বিক্ষোভের সঙ্গে করেন। গুপ্তা জানান, প্রশাসন সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করলে আরও খারাপ হতে পারত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই বিক্ষোভে লাদাখের বাইরের লোকেরাও জড়িত কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আন্দোলনকে 'জেনজেড রেভোলিউশন' বলা প্রসঙ্গে সোনম স্পষ্ট করেন যে, তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেননি। লেহ-এর হিংসায় সোনম ওয়াংচুক বলেন, "আজ যা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক।"

বিক্ষোভের পর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ জারি করেছেন যে, লেহ-তে লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনও মিছিল, সমাবেশ বা পদযাত্রা করা যাবে না। জেলায় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লেহ জেলা প্রশাসন বড় পদক্ষেপ নিয়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করেছে। এর আওতায় পাঁচ বা তার বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে কোনও মিছিল, সমাবেশ বা পদযাত্রা পূর্বানুমতি ছাড়া করা যাবে না।

আদেশে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি এমন কোনো বিবৃতি দেবেন না যা শান্তি ভঙ্গ করে বা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমস্যা তৈরি করে। প্রশাসন জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়া থেকে রোধ করার জন্য নেওয়া হয়েছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+