চিনকে জবাব দিতে প্রস্তুত ভারত! লাদাখে উত্তেজনার মাঝে কাশ্মীরে জরুরি ভিত্তিতে এয়ারস্ট্রিপ তৈরি
লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে সামরিক দ্বন্দ্বের আবহে দক্ষিণ কাশ্মীরে জরুরি ভিত্তিতে রানওয়ে তৈরি হচ্ছে। ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে এই রানওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে চিনের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে এখান থেকে ভারতীয় বায়ুসেনা অপারেট করতে পারবে, সেই ভেবেই তড়ঘড়ি এই নির্মাণ শুরু হয়েছে।

৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে তৈরি হচ্ছে এয়ারস্ট্রিপ
দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলা। সেখানে ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে জুড়ে সাড়ে তিন কিলোমিটার রানওয়ে তৈরি হচ্ছে শ্রীনগর-বানিহাল সড়কের উপর। লাদাখে ভারত ও চিনের দ্বন্দ্বের আবহে এই রানওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু করা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গোপন রাখা হচ্ছে বিষয়টি
জানা গেছে, অনন্তনাগের মিরবাজার এলাকার এক কোম্পানিকে এই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। তবে এই রানওয়ে নির্মাণ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি জাতীয় সড়ক কর্ত-পক্ষের রিজিওনাল ম্যানেজার হেমরাজ ভগত। তিনি বলেন, 'কাজ নিয়ে আমার বিস্তারিত জানা নেই। এনিয়ে সেনা আধিকারিকরা বলতে পারবেন। জাতীয় সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করে একটি রানওয়ে বানানো হচ্ছে।'

দুইদিন আগে এই রানওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে
ভারতীয় বায়ু সেনার এক আধিকারিক জানান, দুইদিন আগে এই রানওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে রানওয়ে হিসেবে এই রানওয়েটিকে ব্যবহার করবে। এই কাজে প্রয়োজনীয় কর্মী জেলা প্রশাসনের তরফে কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

উড়তে দেখা গিয়েছিল চিনা হেলিকপ্টার
এদিকে কয়েকদিন আগেই লাদাখে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উড়তে দেখা গিয়েছিল চিনা হেলিকপ্টার। সঙ্গে সঙ্গেই সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত করতে ছুটে যায় ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমান। এরপর ফের চিন ভারতের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের অভিযোগ আনে। গত ৫ ও ৬ মে রাতে পূর্ব লাদাখের প্যাংগং সরোবরের কাছে ভারত ও চিনা সেনাবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষও হয়।

ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষ
এরপর ৯ মে উত্তর সিকিমে ফের ভারত-চিন সেনা সংঘর্ষ হয়। সিকিমের নাথু-লা সেক্টরে টহলদারি চালানোর সময় ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে অনু্প্রবেশ করে চিনের সেনা। বিষয়টি দেখতে পেয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান কর্তব্যরত ভারতীয় সেনা জওয়ানরা। বচসা থেকে শুরু হয় হাতাহাতি। এর ফলে চিনের সাতজন সেনা ও চারজন ভারতীয় জওয়ান জখম হন।

সেনা বাড়াচ্ছে দুই দেশই
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে দুই দেশের তরফেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে এলএসি এলাকায় সেনার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সূত্রের খবর, লাদাখের কাছে এলএসি-তে জওয়ানদের সংখ্যা বাড়াচ্ছে চিন। গালওয়ান নালা এলাকায় শেষ দু'সপ্তাহে তারা ১০০টি টেন্ট তৈরি করেছে। লাদাখের দূরবুক গ্রামের মানুষরা বলছেন, প্রতি রাতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ট্রাক-গাড়ি তারা চিনা সীমান্তে যেতে দেখেছে।












Click it and Unblock the Notifications