লখিমপুরকাণ্ডে কৃষক মৃত্যু ঘিরে অটোপসি রিপোর্ট প্রকাশ্যে! মিলল না বুলেটের আঘাতের চিহ্ন
গোটা দেশ এই মুহূর্তে লখিমপুর কাণ্ড ঘিরে রীতিমতো উত্তপ্ত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লখিমপুরে কৃষক মৃত্যু নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে এসেছে মৃত কৃষকদের অটোপসি রিপোর্ট। সেখানে বলা হয়েছে, মৃতদেহে কোনও বুলেটের আঘাত পাওয়া যায়নি। কৃষকদের মৃত্যুর কারণ হিসাবে 'হ্যামারেজ' ও 'শক' এর কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এদিকে, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি ক্রমাগত ফুটছে এই লখিমপুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেই জায়গা থেকে এই অটোপসি রিপোর্ট কার্যত নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে।

লখিমপুরের ঘটনা কার্যত ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশের বুকে যোগী সরকারকে কোণঠাসা করতে শুরু করেছে। একদিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া ও অখিলেশকে গৃহবন্দি করার মতো ঘটনার জেরে রীতিমতো সমালোচনার মুখে পড়েছে যোগী সরকার। এদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সফরকালে বিক্ষোভরত চার কৃষকদের মৃত্যু ঘিরে কার্যত তোলপাড় লখিমপুর। জায়গায় জায়গায় সেখানে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে। কৃষক সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভরত নক্ষত্র সিং, দলজিৎ সিং, লাভপ্রীত সিং, গুরবিন্দর সিংকে গাড়ি পিষে দিয়ে চলে যায়। সেই গাড়ি কনভয়ের অংশ ছিল বলে অভিযোগ তাঁদের। এমন অভিযোগে কার্যত সরব হতে শুরু করেছে কৃষক সংগঠনগুলি। ১৮ বছর বয়সী কৃষক লাভপ্রীত সিংয়ের অটোপসি রিপোর্ট বলছে, টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে তাঁর মৃত্যু আচমকা 'শক' ও 'হ্যামারেজ' থেকে হয়েছে। বাকি মৃত ৩ কৃষকের দেহেও একই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, রক্তস্নান স্তব্ধ হয়নি উত্তরপ্রদেশে। আরও একটি ঘটনায় নতুন করে মৃত্যুর খবর উঠে আসছে। এই মৃচ্যু সংবাদ বিজেপি ক্যাম্পে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, বিজেপির দুই নেতা একটি গাড়িতে সফররত ছিলেন। তাঁদের গাড়ি থামিয়ে সেকান থেকে বের করে , তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলে খবর। ঘটনাস্থলেই বিজেপি সমর্থকদের ব্যাপক মারধর করা হয়। বিজেপির শুভম মিশ্র এই ঘটনার জেরে আঘাতগ্রস্ত হয়ে মারা যান। তাঁর দেহে একাধিক ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তাঁর অটোপসি রিপোর্টেও মিলেছে শক ও হ্যামারেজের উল্লেখ। এদিকে, এদিন নরেন্দ্র মোদীকে তোপ দেগে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। গাড়িতে কৃষকদের পিষে দেওয়ার যে ঘটনা নিয়ে গোটা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তার ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ওয়ান ইন্ডিয়া) প্রকাশ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রিয়াঙ্কা সেই ভিডিও তুলে ধরে, প্রশ্ন করেছেন যে, যে ব্যক্তি এই ঘটনার জন্য দায়ী তিনি এখনও কেন গ্রেফতার হননি? আর কোন যুক্তিতে এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটক করে রাখা হল? এই সমস্ত প্রশ্ন তুলে ধরে রীতিমতো যোগী প্রশাসনকে কোণঠাসা করে তোপ দেগেছন প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেস নেত্রী সরাসরি এই প্রশ্ন তুলেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে।












Click it and Unblock the Notifications