খরিফ ফসলের চাষে বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা, কারণ শুনলে চমকে যাবেন
যে পথে আবহাওয়া চলছে ভারতে তাতে সব ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। বরফের দেখা নেই কাশ্মীরে। দিল্লি কাঁপছে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায়। বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দক্ষিণ ভারত। চিরপরিচিত ছক ভেঙে কোন পথে চলছে আবহাওয়া সেটা বুঝতে হিমসিম খাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরাও।
গত চার দশক ধরে গবেষনা করে আবহাওয়া বিদরা যে তথ্য হাতে পেয়েছেন সেটা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। তাতে দেখা গিয়েছে দেশের সিংহভাগ জেলায় বৃষ্টির পরিমান বে়ড়ে গিয়েছে। অর্থাৎ বর্ষা যেভাবে ছকভাঙা পথে আসছে ভারতে তাতে বেশ উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন ৫৫ শতাংশ জেলায় বৃষ্টির দাপট বেড়ে গিয়েছে।

দেশে বর্ষার সময় যে বদলে গিয়েছে দেশে সেটা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। বর্ষার চরিত্রও বদলে গিয়েছে অনেক। গত বছরে দেরিতে এসেছিল বর্ষা। তারপর গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ার কথা যে সময়ে সেটা সেভাবে সম্ভব হয়নি। কিন্তু দেখা গিয়েছে গত চার দশে দেশের ৫৫টি তহশিলে বৃষ্টির দাপট বেড়েছে। যেটা একেবারেই স্বাভাবিক নয়। অন্যদিকে ১১টি তহশিলে বৃষ্টির পরিমান কমেছে অপ্রত্যাশিত ভাবে।
দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু আগে যে পরিমাণ জলীয় বাস্প নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে তার পরিমান ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। যেসব তহশিলে বৃষ্টির পরিমাণ কমেছে সেই কমার পরিমাণ খুব কম নয় ৬৮ শতাংশ কমেছে বৃষ্টির পরিমান। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এবং এতে বিপুল পরিমামে চাষের খতি হতে পারে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গিয়েছে। এই সময়ই অধিকাংশ ফসল হয়ে থাকে।
জুন জুলাই মাসকে সাধারণত বর্ষার মাস বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এই সময়ে দেশের ৮৭ শতাংশ অংশে বৃষ্টির পরিমান কম হচ্ছে। যেটা খরিফ ফসলের পক্ষে সবচেয়ে খারাপ। দেশের সিংহভাগ অংশের চাষে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে এই খামখেয়ালি বর্ষার কারণে। বর্ষায় অতিবৃষ্টির প্রবণতাও বাড়ছে। দেখা গিয়েছে রাজস্থান, গুজরাত, মধ্য মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুতে একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট বাড়ছে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর দাপটে যে বৃষ্টি হয় সেটাও বেড়ে গিয়েচে। অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর মাসে উত্তর-পূর্বের যে বাতাসের জেরে বৃষ্টি হয় সেটার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১০ শতাংশ বেড়েছিল বৃষ্টি। তামিলনাড়ুর ৮০টি তহশিল, তেলেঙ্গানার ৪৪টি তহশিল এবং অন্ধ্রপ্রদেশের ৩৯টি তহশিলে বৃষ্টির দাপট বেড়েছে। এই পরিসংখ্যান একেবারেই ভাল নয়। এতে ফসলের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications