করোনার বিশ্ব-মহামারীর মধ্যেই কেরালায় হানা আরও এক মারাত্মক ভাইরাসের
করোনার বিশ্ব-মহামারীর মধ্যেই কেরালায় হানা আরও এক মারাত্মক ভাইরাসের
কেরালায় করোনা আতঙ্ক যখন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তখন তারই মাঝে আরও এক মারাত্মক ভাইরাসের আগমন ঘটল দক্ষিণের এই রাজ্যের। করোনার পর কেরালায় হানা দিয়েছে নোরো ভাইরাস। নোরো ভাইরাসে ১৩ জন সংক্রমিত হয়েছে কেরালায়। কেরালা সরকার এই সংক্রামক ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে।

কেরালার ওয়ানাড জেলায় নোরো ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার একদিন পরে, বিজয়ন সরকার শুক্রবার জানিয়েছে যে, এই নোরো ভাইরাস খুব সংক্রামক। তাই এই অতি সংক্রামক ভাইরাস থেকে সতর্ক হওয়া দরকার। এই ভাইরাস সংক্রমিত হলে বমি এবং ডায়রিয়া হয়। বমি ও ডায়রিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে নোরো ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে।
দুই সপ্তাহ আগে ওয়ানাড জেলার ভিথিরির কাছে পুকোডে একটি ভেটেরিনারি কলেজের প্রায় ১৩ জন ছাত্রের মধ্যে বিরল নোরো ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়। যদিও এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে এবং আর কোনও বিস্তারের খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসাবে একটি সচেতনতা ক্লাস করার পাশাপাশি ভেটেরিনারি সায়েন্স কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি ডেটা ব্যাংক প্রস্তুত করছে।
ভেটেরিনারি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের বাইরে হোস্টেলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম সংক্রমণ পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত নমুনা সংগ্রহ করেছিল এবং পরীক্ষার জন্য আলাপুঝার এনআইভিতে পাঠিয়েছিল। সেই রিপোর্টেই জানা যায় কেরালায় নতুন এই ভাইরাস হানা দিয়েছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ এখানে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একটি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সেখানেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেরালার ওয়ানাড জেলার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রী ভাইরাসের বিস্তার রোধে কার্যক্রম জোরদার করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি জানান, বর্তমানে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এই হঠাৎ আসা নোরো ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে। কর্মকর্তারা জানান, সুপার ক্লোরিনেশনসহ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলছে। পানীয় জলের উৎসগুলি স্বাস্থ্যকর করতে জোর দেওয়া হয়েছে কেরালা সরকারের তরফে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সঠিক প্রতিরোধ ও চিকিৎসার মাধ্যমে নোরো ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত নিরাময় করা যায়। এ রোগ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হতে হবে বলে জানান কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদেরও সতর্কতামূলক সমস্তরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications