কোভিড যুদ্ধে সামিল, উত্তরপ্রদেশের বন্ধ অক্সিজেন প্ল্যান্ট পুনরুত্থানে ভারতীয় সেনা
উত্তরপ্রদেশের বন্ধ অক্সিজেন প্ল্যান্ট পুনরুত্থানে ভারতীয় সেনা
করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের মহামারিতে দেশের পাশে দাঁড়ালো ভারতীয় সেনারা। কোভিড–১৯–এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বহুমুখী ভূমিকা পালন করতে ময়দানে নামল সেনা বাহিনী। উত্তরপ্রদেশে মেডিক্যাল সক্ষমতা বাড়াতে, হাসপাতালে মেডিক্যাল কর্মীদের ব্যবস্থা ও অক্সিজেন উৎপাদন পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে তারা। প্রসঙ্গত, একাধিক রাজ্যে অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালে মৃত্যু হচ্ছে বহু করোনা রোগীর। এবার উত্তরপ্রদেশের কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়া ও অচল অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলিকে সচল করার উদ্যোগ নিল ভারতীয় সেনা।

অক্সিজেন প্ল্যান্টের খোঁজে সেনা
স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সেনারা দ্রুত অক্সিজেন সংস্থান ও এগুলির বাইরেও বিবেচিত হয় এমন অক্সিজেন প্ল্যান্টের খোঁজ শুরু করেছে। এই প্রচেষ্টার পেছনে রয়েছে ভারতীয় সেনার কেন্দ্রীয় কম্যান্ড, যাঁরা বিভিন্ন জেলায় পরিষেবাহীন, ত্রুটিযুক্ত, পদ্ধতিটির কার্য সম্পাদন করা যায় এমন অক্সিজেন প্ল্যান্ট সনাক্ত করছে। যা সময়ের বিরুদ্ধে গিয়েও এই অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলির মেরামত সম্ভব। গত দু'সপ্তাহ ধরে ৫০৯ ও ৫১০ সেনা শিবিরের ইঞ্জিনিয়ার এবং জওয়ানরা আগ্রা, এটওয়া, বুলন্দশহর এবং সাহারানপুর জেলায় পরিষেবাহীন অক্সিজেন প্ল্যান্ট পুনরুত্থান করেছেন।

৩৬ ঘণ্টার নিরলস পরিশ্রমে সচল প্ল্যান্ট
সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে আগ্রার জেলা শাসক প্রভু নারায়ণ সিংয়ের অনুরোধে সেনা বাহিনী এই খোঁজ শুরু করে, এর আগে তিনি ঔরঙ্গাবাদে (আগ্রা-মথুরা সীমান্ত) একটি অচল অক্সিজেন প্ল্যান্ট পুনরুত্থানে সেনার সহায়তা চেয়েছিলেন। সরকারিভাবে বলা হয়েছে, 'আগ্রার ৫০৯ সেনা শিবির কর্মশালার প্রযুক্তিগতভাবে শিক্ষিত দল (ইলেকট্রনিক্স ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার) মেরামতির কাজ ও বিস্তৃত ঢালাইয়ের মাধ্যমে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ওই প্ল্যান্টকে ফের সচল করে দেয়। ভারতীয় বায়ু সেনারাও এই কাজে সেনাকে সহায়তা করে। আইএএফ বিমানে করেইন্টারকুলার তামার টিউবের বান্ডিল এবং অন্যান্য উপাদান আহমেদাবাদের প্ল্যান্ট থেকে নিয়ে আসে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এই প্ল্যান্ট পুনরায় শুরু করে দেয় উৎপাদন, এই প্ল্যান্ট থেকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্য দৈনিক ১৭০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার উৎপাদন হবে।'

ভারতীয় সেনার প্রতি কৃতজ্ঞ আগ্রা প্রশাসন
ভারতীয় সেনার এই উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগ্রার জেলা শাসক বলেন, 'আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই আগ্রার স্টেশন কম্যান্ডার, ব্রিগেডিয়ার পিকে সিং, বায়ু সেনা কম্যান্ডার, এয়ার ফোর্স স্টেশন, খেরিয়ার এয়ার কম্যান্ডার সুরেন্দ্র কুমার বর্মা ও তাঁদের গোটা দলকে, যাঁরা আগ্রা প্রশাসনকে সহায়তা করেছেন।' এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, 'এই সাফল্যের সঙ্গে একটি ব্লুপ্রিন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৫০৯ ও ৫১০ সেনা বেস কর্মশালার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি যৌথ উদ্যোগে প্রচেষ্টা শুরু করা হয়েছে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ জুড়ে একাধিক শহরে ছোট ও বড় পরিষেবাহীন অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলিকেও পুনরুত্থান করার চেষ্টা চলছে।

মে মাসে কাজ শুরু হয় আরও তিন প্ল্যান্টের
জানা গিয়েছে, সাইফাই (এটওয়া), খুর্জা (বুলন্দশহর) ও পিলখানি (সাহারানপুর) এই তিন অক্সিজেন প্ল্যান্টের মেরামতির কাজ মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়ে যায়, যেখানে বিপুল পরিমাণে অক্সিজেন উৎপাদন হবে, দৈনিক ১১০০ কিলো লিটার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলেন, 'প্রত্যেক প্ল্যান্টের ভিন্ন ধরনের নক্শা ও অদ্ভুত ত্রুটি থাকার কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত সমাধান প্রয়োজন। কিছু কিছু প্ল্যান্ট এতটাই পুরনো যে উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে বসেছে, অন্যানগুলির উৎপাদনের যন্ত্রাংশগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং তাই এগুলি অচল হয়ে পড়ে। এএমএসের সেনাদের প্রযুক্তিগত কর্মীরা কঠিন পরীক্ষআর মধ্যে পড়েছে। কিন্তু তাঁরা তাঁদের অধ্যাবসায় নিয়ে এই কাজ করেছেন এবং সফল হয়েছেন।'

ভারতীয় সেনাকে সহায়তা করেছে বায়ু সেনা
তিনি বলেন, 'আগ্রার ক্ষেত্রে, সমন্বিত প্রচেষ্টায়, বায়ু সেনা বিমানে করে রাতারাতি আহমেদাবাদ থেকে জরুরি উপাদানগুলি এনে দিয়েছে। সাহারানপুরে এরকম অচল দু'টি প্ল্যান্ট রয়েছে, যার একটিতে বিকল যন্ত্রাংশগুলিকে ঠিক করা হয় এবং অন্যটির পরিচালন ব্যবস্থা শুরু করে দেওয়া হয়। খুরজায়, দিল্লি থেকে একটি অটো কাট সংগ্রহ করে নিয়ে আসা হয় এবং লাগানো হয়।'












Click it and Unblock the Notifications