Jharkhand Assembly Election 2024: ঝাড়খণ্ড ভোটে ফ্যাক্টর আদিবাসীরা, সাঁওতাল পরগনার ফসল ঘরে তুলতে মরিয়া JMM-BJP
Jharkhand Assembly Election 2024: ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে ২ দফায়। ১৩ নভেম্বর ও ২০ নভেম্বর ভোটের লাইনে দাঁড়াবে ঝাড়খণ্ডবাসী (Jharkhand Election Dates)। মঙ্গলবারই সাংবাদিক বৈঠকে দিনক্ষণ ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার (Rajiv Kumar)। ভোটের ফল বেরোবে আগামী ২৩ নভেম্বর।
ঝাড়খণ্ডে ভোটের দামামা বাজতেই প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে শাসকদল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (Jharkhand Mukti Morcha) ও বিরোধী বিজেপি (BJP)। ঝাড়খণ্ডের ভোটে বড় ফ্যাক্টর আদিবাসী ভোট (Adivasi vote)। ৮১ আসনের ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় ২৮টি আসনই তফসিলি উপজাতি সংরক্ষিত (ST Reservation)। রাজ্যের জনসংখ্যার ২৮ শতাংশই এই এলাকাগুলিতে বাস করে।

স্বাভাবিকভাবেই আদিবাসী ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানতে আদা জল খেয়ে ভোট ময়দানে ঝাঁপিয়েছে জেএমএম ও বিজেপি। ২০১৯ সালের বিধানসভা ভোটে ৩০টি আসনে জিতেছিল হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) দল। বিজেপি জেতে ২৫টি আসন। ১৬ আসনে জয়ী হয় কংগ্রেস। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ঝাড়খণ্ডে হেমন্তর নেতৃত্বে সরকার গঠন হয়।
গত বিধানসভা নির্বাচনে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাতেই খারাপ ফল হয়েছিল বিজেপির। ২৮টি তফসিলি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে মাত্র ২টি আসনে জেতে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও সেই পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। লোকসভায় আদিবাসী সংরক্ষিত ৫টি আসনেই হেরে যায় বিজেপি। পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার রণসজ্জা নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামছে গেরুয়া শিবির।
আদিবাসী মন জয়ের চেষ্টা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বেরও। গত ২ অক্টোবর জয় জোহার স্লোগান দিয়েই হাজারিবাগে জনসভা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে আদিবাসীদের উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করে মোদী বলেন, এ সবে পরিবর্তনের শুরু মাত্র।
তবে বিজেপির আদিবাসী অভিযানে পথে পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। দলনেতা হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি ও বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার আদিবাসী বিরোধী প্রচারের জেরে লোকসভায় পর্যুদস্ত হয়েছে গেরুয়া শিবির। নিজে আদিবাসী হওয়ায় বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন হেমন্ত সোরেন।
এদিকে জেলমুক্তির পর হেমন্তর মুখ্যমন্ত্রী পদে ফিরে আসা ও নাটকীয়ভাবে চম্পাই সোরেনের ইস্তফা এবং তারপর বিজেপিতে চম্পাইয়ের যোগদান, এই ঘটনাপ্রবাহে কিছুটা হলেও অক্সিজেন পেয়েছে বিজেপি। জেএমএমের বিজেপি বিরোধী প্রচারে মানুষের মনে কিছুটা হলেও অবিশ্বাস জন্মাবে বলে আশাবাদী বিজেপি।
উপরন্তু বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে বেজায় অস্বস্তিতে শাসকদল জেএমএম। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা আদিবাসীদের অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সাঁওতাল পরগনায় জনবিন্যাসেও বদল হয়ে যাচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে গেরুয়া শিবির।
ঝাড়খণ্ডে আদিবাসী মহিলাদের মন পেতেও প্রকল্প নিয়ে রেষারেষি দেখা গিয়েছে জেএমএম ও বিজেপির মধ্যে। মাসিক ভাতা থেকে ইশতেহারে ভূরি ভূরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই দলই। এখন ঝাড়খণ্ডের মসনদে শিঁকে কার ছিঁড়বে, তা জানা যাবে ২৩ নভেম্বরের ভোটগণনায়।












Click it and Unblock the Notifications