ফেসবুকে পরিচয়, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশী তরুণীকে বিয়ে ভারতীয় যুবকের, বিএসফের হাতে ধৃত দম্পতি
সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশী তরুণীকে বিয়ে ভারতীয় যুবকের
ভালোবাসা কোনও বাধা মানে না, দুই সীমান্তের বেড়াজাল কখনই কোনও ভালোবাসাকে আটকাতে পারেনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। শনিবার সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) এক ভারতীয় নাগরিক ও বাংলাদেশী মহিলাকে নদিয়া জেলা থেকে গ্রেফতার করেছে। তাঁরা বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই যুগল জানিয়েছেন যে তাদের নব বিবাহিত দম্পতি, তাঁদের অনলাইনে পরিচয় হয়, এরপর একে অপরের প্রেমে পড়েন তাঁরা এবং তাঁরা বিয়ে করার ও সীমান্তের বিপরীত দিকে থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

বিয়ের পরই গ্রেফতার দম্পতি
গ্রেফতার হওয়া যুবকের নাম জয়কান্ত চন্দ্র রাই (২৪), তিনি নদীয়া জেলার বল্লভপুর গ্রামের বাসিন্দা, অন্যদিকে ১৮ বছরের তরুণীর নাম পরিণীতি (কাল্পনিক নাম), তিনি বাংলাদেশের নিরালীর বাসিন্দা। ২৬ জুন, বিএসএফের গোয়েন্দাদের কাছ থেকে শনিবার পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মধুপুর সীমান্ত আউটপোস্টে কর্তব্যরত ৮২ ব্যাটেলিয়ান বাহিনীকে সতর্ক করা হয়। বিকেল ৪টে ১৫ নাগাদ সুরক্ষা বাহিনী সীমান্তের রাস্তায় ওই দম্পতিকে দেখতে পান। সপরক্ষা বাহিনী ওই দম্পতিকে তাঁদের পরিচয় দেখাতে বলেন। ওই যুবক ভারতীয় হলেও তরুণী নিজের পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন। এরপরই বিএসএফের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই দু'জনকে আটক করে।

ফেসবুকে পরিচয়
জিজ্ঞাসাবাদের সময় জয়কান্ত রাই জানান যে তাঁর সঙ্গে পরিণীতির পরিচয় হয় ফেসবুকে। এই বছরের ৮ মার্চ তিনি বাংলাদেশে যান এক ব্রোকারের মাধ্যমে। তারকনগরের বাসিন্দা ওই ব্রোকারের নাম আপ্পু। ১০ মার্চ জয়কান্ত বিয়ে করেন পরিণীতিকে এবং ২৫ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশেই থাকেন। পরিণীতি তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং তিনি তাঁর স্বামীর সঙ্গে ভারতে ফিরছেন। এই সীমান্ত পারাপারের জন্য তাঁরা বাংলাদেশের এক এজেন্ট রাজু মণ্ডলকে দশ হাজার বাংলাদেশী নগদ দিয়েছেন। বিএসএফ এরপর ওই দম্পতিকে ভীমপুর পুলিশ থানার হাতে তুলে দেয়।

প্রকৃতই তাঁরা স্বামী স্ত্রী
এই ঘটনা নিশ্চিত বলে জানিয়ে ৮২ ব্যাটেলিয়ানের কম্যান্ডিং অফিসার সঞ্জয় প্রসাদ সিং জানিয়েছেন যে ভারতীয় যুবক আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশী মেয়েকে বিয়ে করেছেন এবং তাঁদের প্রকৃত সম্পর্ক, কোনও মিথ্যা সম্পর্ক নয়।

নারী পাচার রুখতে উদ্যোগ
সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন যে দুই বাংলায় মানব পাচার রুখতে দুই সীমান্তে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। মানব পাচারে এখন মানুষের হিত সাধনের টোপ দিয়ে নিরীহ মেয়েদের ফাঁসিয়ে দেহ ব্যবসায় নামানো হচ্ছে। নারী পাচার রুখতে ভারত-বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তে নারী পাচার বিরোধী ট্র্যাফিকিং ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।
ছবি সৌ:বিএসএফ












Click it and Unblock the Notifications