অভিশাপ হয়ে উঠছে জনবিস্ফোরণ! ভারতে জনসংখ্যার বৃদ্ধির নেপথ্যে যে দুটি রাজ্য
অভিশাপ হয়ে উঠছে জনবিস্ফোরণ! ভারতে জনসংখ্যার বৃদ্ধির নেপথ্যে যে দুটি রাজ্য
২০২৩ সালে কোনও একটি শিশুর জন্য ভারতকে বিশ্বের সব থেকে জনবহুল দেশে পরিণত করবে। ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হবে উত্তর ও দক্ষিণের লড়াই। পরিবর্তন হবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে ভারতের জনসংখ্যা বাড়ছে না। ভারতের জনসংখ্যা মূলত দুটি রাজ্যে বাড়ছে। আর তার জেরেই ভারত বিশ্বের সব থেকে জনবহুল দেশের খেতাব জয় করতে চলেছে। এই খেতাব জয়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরস্কার হিসেবে পেতে চলেছে একাধিক সঙ্কট, প্রতিকূলতা।

ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির নেপথ্যে যে কারণ
উত্তর ভারতের মাত্র দুটি রাজ্যে জনসংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। যার জেরে ভারতে মোট সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ভারেতর জনসংখ্যা অনেকটাই স্থিতিশীল। বরং দক্ষিণ ভারতের অনেক জায়গায় জনসংখ্যা কমছে। দক্ষিণ ভারতের জনগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা যার জেরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্রমেই জনসংখ্যা বাড়ছে উত্তর ভারতের। মূলত বিহার ও উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যা উত্তর ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এরফলে উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের বিভাজন ক্রমেই বাড়বে।

ছোট পরিবার সুখী পরিবার
ভারতের বেশিভাগ জনগণ ছোট পরিবার সুখী পরিবারের তত্ত্বে বিশ্বাস করেন। কিন্তু তারপরেও ভারতে জনবিস্ফোরণ দেখা দিয়েছে। ভারতে বার্ষিক জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ১ শতাংশের কম। ১৯৫০ সালে ভারতে একজন মহিলা গড়ে ছয়টি সন্তান জন্ম দিতেন। কিন্তু বর্তমানে ভারতে একজন মহিলার সন্তানের হার গড়ে দুই জনের একটু বেশী। ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যের নাগরিকরা ছোট পরিবার সুখী পরিবারে বিশ্বাসী হলেও উত্তর প্রদেশ ও বিহারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সব থেকে বেশি।

ভারতে জন বিস্ফোরণের নেপথ্যে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতে জনবিস্ফোরণের নেপথ্যে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণ ভারতের তুলনায় উত্তর ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি। তবে আগামী এক দশকের মধ্যে উত্তর ভারতের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ নাগরিক শুধু উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিহার ভারতের একমাত্র রাজ্য, যেখানে মহিলাদের গড়ে তিনটির বেশি সন্তান রয়েছে। তবে ২০৩৯ সালের মধ্যে এই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই সময় বিহারের মহিলাদের গড়ে ২.১টি করে সন্তান থাকবে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতে সব থেকে প্রগতিশীল ও শিক্ষিত রাজ্য কেরল।

পুত্র সন্তানের চাহিদা
ভারতে এখনও অনেক জায়গাতে পুত্র সন্তানের প্রবল চাহিদা রয়েছে। যার জেরে ভারতে জনসংখ্যার বৃদ্ধি হচ্ছে। দেখা গিয়েছে, বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ ভারতের একাধিক রাজ্যের অনেক জায়গাতে এই চাহিদা প্রবলভাবে রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে এই ধরনের চাহিদা দেখতে পাওয়া যায়। ৩৬ বছরের সুরতা দেবী বলেন, তাঁর দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। কিন্তু পুত্র সন্তানের জন্ম নিশ্চিত করতে তাঁর আরও চারটি কন্যা সন্তান রয়েছে। ৫৫ বছরের নিরক্ষর শ্রমিক ফুলো দেবীর জীবন কাহিনী খানিকটা এক। তাঁর একটি মাত্র পুত্র সন্তান রয়েছে। কিন্তু পুত্র সন্তান নিশ্চিত করার জন্য আরও পাঁচটি সন্তানের জন্ম দেন ফুলো দেবী। তিনি বলেন, যদি তাঁর দুটি সন্তান থাকত, সেক্ষেত্রে তিনি সন্তানদের আরও ভালো করে মানুষ করতে পারতেন।

বেকারত্বের বৃদ্ধি
ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণ সম্প্রদায়ের বৃদ্ধি বেড়েছে। একদিকে চিনের দুই সন্তান নীতির জেরে দেশে প্রবীণের সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি ভারতে ক্রমেই বড় হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের আকার। আর তার সঙ্গে বাড়ছে তরুণ সম্প্রদায়ের লড়াই। ভারতে কর্মসংস্থানের আকাল দেখতে পাওয়া গিয়েছে। দেখা গিয়েছে, তরুণ সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ কর্মক্ষেত্রে অদক্ষ। বিশেষ শিক্ষা তাঁদের মধ্যে নেই। ভারতের ২৩ শতাংশ যুবক বেকার। ভারতে যুব সম্প্রদায়ে প্রতি চারজনে মাত্র একজন স্নাতক।

ভারতে বাড়ছে নারী শিক্ষা
ভারতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে নারী শিক্ষা। তার পাশাপাশি ভারতে বাড়ছে মহিলা কর্মীর সংখ্যা। ভারতে মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন অনুসারে ভারতের ২৫ শতাংশ মহিলা কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করেছেন। স্বনির্ভর হয়েছে। ভারতে মহিলা দক্ষ কর্মীর সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। অন্যদিকে, বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের গড় বয়স ২০। সেখানে ৩.৪ মিলিয়নের বেশি যুবক বেকার। উত্তরপ্রদেশের ১০ লক্ষ মানুষ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications